ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’ Logo বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি: যুক্তরাষ্ট্রে এখনো দ্বিতীয়, কার অবস্থান কোথায়? Logo প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান শিগগিরই Logo নতুন আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্বে সরকার Logo টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার প্রভাবে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে ১শ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি Logo বুড়িচংয়ে ভাড়াবাসা থেকে চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার,পলাতক স্ত্রী Logo বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম, সতর্ক করলেন অর্থনীতিবিদরা Logo আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম কাটা যায়? কসমের কাফফারা কী? Logo জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা: অর্থমন্ত্রী Logo ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৫০

পাঁচ দিন পর চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরু

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু

টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং রেললাইন তলিয়ে যাওয়ার কারণে বন্ধ থাকা এই রুটে রোববার (১২ জুলাই) দুপুর থেকে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে হাজারো যাত্রীর মধ্যে।

রোববার বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এর মাধ্যমে পাঁচ দিনের স্থবিরতার অবসান ঘটে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

যদিও রোববার সকাল থেকেও চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত ছিল, তবুও রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সব ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ট্রেন চলাচল শুরুর আগে নগরের ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন। এ সময় তাঁর সঙ্গে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকৌশল বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা রেললাইন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মো. সুবক্তগীন বলেন, চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রেললাইনে পানি উঠে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তদারকি করা হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তিনি জানান, গত বুধবার রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে রেলপথের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশে অতিরিক্ত পাথর ফেলে প্রায় এক ফুট উঁচু করা হয়। শনিবার দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে পুরো রেলপথ ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল জোনের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফারহান মাহমুদ জানান, ট্রেন চলাচল শুরুর আগে জানালিহাট স্টেশনে আটকে থাকা প্রবাল এক্সপ্রেসকে নিরাপদে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে নিয়ে আসা হয়। এরপর রেললাইন পুনরায় পরীক্ষা করে ট্রেন চলাচলের জন্য নিরাপদ ঘোষণা করা হয়।

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ৪ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ শুরু হয়। ৮ জুলাই নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসের পাড়া পর্যন্ত রেললাইন দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দিন দুপুর থেকেই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সেদিন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় আটকে পড়ে। পরে ট্রেনটি ফিরিয়ে এনে ষোলশহর স্টেশনে রাখা হয় এবং পরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে নেওয়া হয়। একই রাতে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়। এতে শত শত যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুট দেশের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন রেলপথ। প্রতিদিন এই রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে, যার মধ্যে দুটি ঢাকা থেকে এবং দুটি চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত হয়। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করেন।

পাঁচ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ যাত্রীদের বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যায় এবং অনেক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনাও বাতিল করতে হয়। ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’

পাঁচ দিন পর চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরু

Update Time : ০৪:৫২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং রেললাইন তলিয়ে যাওয়ার কারণে বন্ধ থাকা এই রুটে রোববার (১২ জুলাই) দুপুর থেকে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে হাজারো যাত্রীর মধ্যে।

রোববার বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এর মাধ্যমে পাঁচ দিনের স্থবিরতার অবসান ঘটে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

যদিও রোববার সকাল থেকেও চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত ছিল, তবুও রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সব ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ট্রেন চলাচল শুরুর আগে নগরের ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন। এ সময় তাঁর সঙ্গে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকৌশল বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা রেললাইন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন  তাপপ্রবাহ পূর্বাভাস: জুনজুড়ে গরম ও কম বৃষ্টির বিশেষ চিত্র

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মো. সুবক্তগীন বলেন, চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রেললাইনে পানি উঠে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তদারকি করা হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তিনি জানান, গত বুধবার রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে রেলপথের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশে অতিরিক্ত পাথর ফেলে প্রায় এক ফুট উঁচু করা হয়। শনিবার দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে পুরো রেলপথ ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল জোনের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফারহান মাহমুদ জানান, ট্রেন চলাচল শুরুর আগে জানালিহাট স্টেশনে আটকে থাকা প্রবাল এক্সপ্রেসকে নিরাপদে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে নিয়ে আসা হয়। এরপর রেললাইন পুনরায় পরীক্ষা করে ট্রেন চলাচলের জন্য নিরাপদ ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন  এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ নির্দেশনা, অভিভাবকদের জন্য বোর্ডের নতুন জরুরি নির্দেশনা

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ৪ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ শুরু হয়। ৮ জুলাই নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসের পাড়া পর্যন্ত রেললাইন দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দিন দুপুর থেকেই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সেদিন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় আটকে পড়ে। পরে ট্রেনটি ফিরিয়ে এনে ষোলশহর স্টেশনে রাখা হয় এবং পরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে নেওয়া হয়। একই রাতে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়। এতে শত শত যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

আরও পড়ুন  জরুরি নির্দেশনা: বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৫ নির্দেশনা

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুট দেশের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন রেলপথ। প্রতিদিন এই রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে, যার মধ্যে দুটি ঢাকা থেকে এবং দুটি চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত হয়। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করেন।

পাঁচ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ যাত্রীদের বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যায় এবং অনেক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনাও বাতিল করতে হয়। ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।