ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’ Logo বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি: যুক্তরাষ্ট্রে এখনো দ্বিতীয়, কার অবস্থান কোথায়? Logo প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান শিগগিরই Logo নতুন আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্বে সরকার Logo টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার প্রভাবে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে ১শ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি Logo বুড়িচংয়ে ভাড়াবাসা থেকে চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার,পলাতক স্ত্রী Logo বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম, সতর্ক করলেন অর্থনীতিবিদরা Logo আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম কাটা যায়? কসমের কাফফারা কী? Logo জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা: অর্থমন্ত্রী Logo ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৫০

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, নতুন আক্রান্ত ৯৬৯

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন শিশুর শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর বাকি চারজন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। একই সময়ে নতুন করে ৯৬৯ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৯০ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি শিশুরা হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ ও সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে একজন ঢাকায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। অন্য চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকায়, একজন সিলেটে এবং একজন বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এসব মৃত্যুর কারণ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য আরও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ শিশুর শরীরে।

সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৮০ জনে। এই সংখ্যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, টিকাদানের আওতা আরও বাড়ানো না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৬৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৪ শিশু। সব মিলিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫৮ জনে।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্যেও রোগীর চাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৪৩ শিশু। ফলে প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগী যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশের মধ্যেই জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এটি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের জ্বর বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে।

সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, ওষুধ এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকাদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যাতে সংক্রমণের বিস্তার কমানো সম্ভব হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা এবং আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করলে এই সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, নতুন আক্রান্ত ৯৬৯

Update Time : ০৫:১২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন শিশুর শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর বাকি চারজন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। একই সময়ে নতুন করে ৯৬৯ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৯০ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি শিশুরা হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ ও সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে একজন ঢাকায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। অন্য চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকায়, একজন সিলেটে এবং একজন বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এসব মৃত্যুর কারণ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য আরও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  বিদ্যুতের ঘাটতি নেই: গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য জ্বালানি মন্ত্রীর

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ শিশুর শরীরে।

সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৮০ জনে। এই সংখ্যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, টিকাদানের আওতা আরও বাড়ানো না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৬৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৪ শিশু। সব মিলিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫৮ জনে।

আরও পড়ুন  হামে আক্রান্ত শিশু মৃত্যু: তিন হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচল না ৫ মাস বয়সী তাকরিম

হাসপাতালভিত্তিক তথ্যেও রোগীর চাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৪৩ শিশু। ফলে প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগী যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশের মধ্যেই জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এটি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ঢাবির ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের জ্বর বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে।

সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, ওষুধ এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকাদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যাতে সংক্রমণের বিস্তার কমানো সম্ভব হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা এবং আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করলে এই সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।