ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৫০

ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৫০

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৫০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোববার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগে। সেখানে নতুন করে ৯৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।

খুলনা বিভাগে একই সময়ে ৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৩ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩১ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগেও ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন, সিলেট বিভাগে ৪ জন এবং রংপুর বিভাগে একজন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ৩২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ নারী

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। সর্বশেষ একজনের মৃত্যুর পর চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব অথবা শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দেরি করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ফুলের টব, এসির ট্রে, অব্যবহৃত টায়ার, ড্রাম, বালতি কিংবা অন্য যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনগণকে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে নিজে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনগুলোকে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্ষাকালে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই ব্যক্তি, পরিবার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৫০

Update Time : ০৫:৫১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৫০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোববার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগে। সেখানে নতুন করে ৯৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।

খুলনা বিভাগে একই সময়ে ৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৩ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন  হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়াল দেশে

ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩১ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগেও ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন, সিলেট বিভাগে ৪ জন এবং রংপুর বিভাগে একজন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ৩২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ নারী

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। সর্বশেষ একজনের মৃত্যুর পর চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন  হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু: সারাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব অথবা শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দেরি করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ফুলের টব, এসির ট্রে, অব্যবহৃত টায়ার, ড্রাম, বালতি কিংবা অন্য যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিনের ছুটি, খোলা থাকবে দুই দিন অফিস

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনগণকে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে নিজে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনগুলোকে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্ষাকালে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই ব্যক্তি, পরিবার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।