বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। রবিবার (১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান তিনি।
ইসহাক দার তার বার্তায় বলেন, চলমান দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি পাকিস্তানের জনগণের সহমর্মিতা রয়েছে। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক এবং ত্রাণকর্মীদের সাহসিকতা ও নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় যেসব ব্যক্তি দিনরাত কাজ করছেন, তাদের প্রচেষ্টা মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সফল হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত সবাই নিরাপদ থাকুক—এমন প্রার্থনাও করেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশে ভারী বর্ষণ, উজানের ঢল ও ভূমিধসের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, সিলেটসহ কয়েকটি অঞ্চলে বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসনকে অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এক দেশের প্রতি অন্য দেশের সমবেদনা ও সংহতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক করে তোলে। দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং মানবিক সহায়তার গুরুত্বও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো এই সমবেদনা বার্তা মানবিক সহমর্মিতার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সংহতিরও একটি প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



























