ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার প্রভাবে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে ১শ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজারের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার পর্যটন শিল্প টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চলমান পরিস্থিতিতে পর্যটন খাতে ইতোমধ্যে ১শ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণ সময়ের তুলনায় হোটেল ও রিসোর্টে বুকিং ব্যাপকভাবে কমেছে। অনেক পর্যটক আগাম বুকিং বাতিল করেছেন, আবার অনেকে আবহাওয়ার কারণে ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। ফলে সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসা, পর্যটকবাহী যানবাহন, সি-বিচের দোকান, খাবারের হোটেল এবং বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার পর্যটন শিল্প শুধু হোটেল ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে হাজারো মানুষের জীবিকা। ট্যুর গাইড, পর্যটকবাহী যানবাহনের চালক, ফটোগ্রাফার, হকার, সামুদ্রিক মাছের রেস্তোরাঁ এবং হস্তশিল্প বিক্রেতারাও আয় হারিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে এমনিতেই পর্যটক তুলনামূলক কম থাকে। তার ওপর টানা বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি পর্যটন খাতকে আরও সংকটে ফেলেছে।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজার দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রতি বছর লাখো পর্যটকের আগমনে স্থানীয় অর্থনীতি সচল থাকে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হলে পর্যটকদের আগমন কমে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায়ও পর্যটন খাতের ক্ষতি বেড়েছে। যদিও বর্তমানে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়েছে, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে হোটেল মালিক সমিতি ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ প্রচারণা, ছাড়মূল্যের প্যাকেজ এবং নিরাপদ ভ্রমণের নিশ্চয়তা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যটন অবকাঠামো আরও দুর্যোগসহনীয় করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

কক্সবাজার পর্যটন শিল্প ঘিরে আশাবাদও রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বন্যার পানি নেমে গেলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে ফিরলে পর্যটকদের আগমন আবার বাড়বে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটি ও উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটনের গতি ফিরে আসতে পারে। তবে বর্তমান ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার প্রভাবে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে ১শ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি

Update Time : ০৬:২৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজার পর্যটন শিল্প টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চলমান পরিস্থিতিতে পর্যটন খাতে ইতোমধ্যে ১শ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণ সময়ের তুলনায় হোটেল ও রিসোর্টে বুকিং ব্যাপকভাবে কমেছে। অনেক পর্যটক আগাম বুকিং বাতিল করেছেন, আবার অনেকে আবহাওয়ার কারণে ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। ফলে সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসা, পর্যটকবাহী যানবাহন, সি-বিচের দোকান, খাবারের হোটেল এবং বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন  বড় সংকটে প্লাস্টিক খাত, বিক্রি কমে বাড়ছে উৎপাদন খরচ

কক্সবাজার পর্যটন শিল্প শুধু হোটেল ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে হাজারো মানুষের জীবিকা। ট্যুর গাইড, পর্যটকবাহী যানবাহনের চালক, ফটোগ্রাফার, হকার, সামুদ্রিক মাছের রেস্তোরাঁ এবং হস্তশিল্প বিক্রেতারাও আয় হারিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে এমনিতেই পর্যটক তুলনামূলক কম থাকে। তার ওপর টানা বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি পর্যটন খাতকে আরও সংকটে ফেলেছে।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজার দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রতি বছর লাখো পর্যটকের আগমনে স্থানীয় অর্থনীতি সচল থাকে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হলে পর্যটকদের আগমন কমে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায়ও পর্যটন খাতের ক্ষতি বেড়েছে। যদিও বর্তমানে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়েছে, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন  আজ থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর:বাংলাদেশ ব্যাংক

এদিকে হোটেল মালিক সমিতি ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ প্রচারণা, ছাড়মূল্যের প্যাকেজ এবং নিরাপদ ভ্রমণের নিশ্চয়তা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যটন অবকাঠামো আরও দুর্যোগসহনীয় করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

কক্সবাজার পর্যটন শিল্প ঘিরে আশাবাদও রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বন্যার পানি নেমে গেলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে ফিরলে পর্যটকদের আগমন আবার বাড়বে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটি ও উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটনের গতি ফিরে আসতে পারে। তবে বর্তমান ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন  দেশের ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক