প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের যোগদান নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে যোগদানের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের জন্য এ ঘোষণা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, বিদ্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের আগে নতুন শিক্ষকদের দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
রবিবার (১৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নতুন শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং শিশু মনোবিজ্ঞান বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তাদের দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে। সরকার চায় নতুন শিক্ষকরা প্রস্তুতি নিয়েই শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করুন।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন লাখো চাকরিপ্রত্যাশী। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন, যারা পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। তবে সুপারিশ প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় যোগদান না হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ শেষে শূন্যপদ থাকা বিদ্যালয়গুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়ন করা হবে। বিশেষ করে শিক্ষক সংকটে থাকা গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শিক্ষকরা যোগ দিলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কমবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত যোগদানের দাবিতে বিভিন্ন মাধ্যমে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার আহ্বান জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রশিক্ষণের সময়সূচি, যোগদানের তারিখ এবং পদায়নের নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। নতুন সহকারী শিক্ষকরা দায়িত্ব গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান, মানসম্মত শিক্ষা এবং শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষক সহায়তা পাবেন। সরকারও আশা করছে, দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





























