ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি: যুক্তরাষ্ট্রে এখনো দ্বিতীয়, কার অবস্থান কোথায়?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৮

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। যদিও বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৮.১ শতাংশ কমেছে। তবে সামগ্রিক বাজার সংকোচনের তুলনায় এই পতন কিছুটা কম হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি কমার প্রভাব।

ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৩.২৫ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। একই সময়ে ভিয়েতনাম ৬.৩৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করে শীর্ষ অবস্থান আরও শক্ত করেছে এবং তাদের রপ্তানি বেড়েছে ১.৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের শীর্ষ রপ্তানিকারক চীন বড় ধাক্কা খেয়েছে। দেশটির পোশাক রপ্তানি ৪২.৭৫ শতাংশ কমে ২.৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ফলে চীন দ্বিতীয় স্থান হারিয়ে এখন তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্রেতা চীন থেকে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছেন।

চীনের হারানো বাজারের বড় অংশ দখল করছে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ৫.৪৯ শতাংশ এবং দেশটি ১.৯৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। একই সময়ে কম্বোডিয়ার রপ্তানি ১৪.৯ শতাংশ বেড়ে ১.৭৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটিকে ষষ্ঠ অবস্থানে রেখেছে।

ভারতের জন্য সময়টা ততটা ভালো যায়নি। দেশটির পোশাক রপ্তানি ২৬.৩৭ শতাংশ কমে ১.৭৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ফলে ভারত চতুর্থ স্থান থেকে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে। এদিকে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের তুলনায় বেশি ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য নতুন মার্কিন শুল্ক নীতির ঝুঁকি মোকাবিলা করা। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্য সংযোজনের পোশাক উৎপাদন ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি: যুক্তরাষ্ট্রে এখনো দ্বিতীয়, কার অবস্থান কোথায়?

Update Time : ০৬:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। যদিও বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৮.১ শতাংশ কমেছে। তবে সামগ্রিক বাজার সংকোচনের তুলনায় এই পতন কিছুটা কম হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি কমার প্রভাব।

ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৩.২৫ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। একই সময়ে ভিয়েতনাম ৬.৩৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করে শীর্ষ অবস্থান আরও শক্ত করেছে এবং তাদের রপ্তানি বেড়েছে ১.৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন  ডিএসই লেনদেন: চাঙ্গা বাজারে ৪০ মিনিটেই ১৮০ কোটি টাকার চমক

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের শীর্ষ রপ্তানিকারক চীন বড় ধাক্কা খেয়েছে। দেশটির পোশাক রপ্তানি ৪২.৭৫ শতাংশ কমে ২.৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ফলে চীন দ্বিতীয় স্থান হারিয়ে এখন তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্রেতা চীন থেকে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছেন।

চীনের হারানো বাজারের বড় অংশ দখল করছে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ৫.৪৯ শতাংশ এবং দেশটি ১.৯৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। একই সময়ে কম্বোডিয়ার রপ্তানি ১৪.৯ শতাংশ বেড়ে ১.৭৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটিকে ষষ্ঠ অবস্থানে রেখেছে।

আরও পড়ুন  পুঁজিবাজার সংস্কার: বড় উদ্যোগের তথ্য জানালেন অর্থমন্ত্রী

ভারতের জন্য সময়টা ততটা ভালো যায়নি। দেশটির পোশাক রপ্তানি ২৬.৩৭ শতাংশ কমে ১.৭৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ফলে ভারত চতুর্থ স্থান থেকে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে। এদিকে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের তুলনায় বেশি ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য নতুন মার্কিন শুল্ক নীতির ঝুঁকি মোকাবিলা করা। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্য সংযোজনের পোশাক উৎপাদন ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

আরও পড়ুন  জাল নোট আইন ২০২৬, নিজের কাছে রাখলেও হতে পারে ৭ বছরের কারাদণ্ড