ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল সিয়াম, মাস্ক পরে মোটরসাইকেলে এসে ছুরিকাঘাত

পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে আহত শিক্ষার্থীর ঘটনার প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক স্কুলশিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রোববার সকালে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হলে পথেই হামলার শিকার হন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন। এ ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

আহত সিয়াম হোসেন কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুস সবুরের ছেলে এবং স্থানীয় মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওইদিন তার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ছিল। তবে হামলার কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে বিদ্যালয়ের পথে হাঁটছিল সিয়াম। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা চার ব্যক্তি এসে তার পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

হামলায় সিয়ামের দুই হাতে আঘাত লাগে। ঘটনাটি দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করেন এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ চলছে।

মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, সেদিন সিয়ামের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। কিন্তু হামলার কারণে সে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুস সবুর জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে অজ্ঞাতনামা চারজনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেকসনা খাতুন বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিক্ষার্থীর ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ছুরিকাঘাতের এই ঘটনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দিকেই সবার নজর।

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল সিয়াম, মাস্ক পরে মোটরসাইকেলে এসে ছুরিকাঘাত

Update Time : ০৮:২৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক স্কুলশিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রোববার সকালে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হলে পথেই হামলার শিকার হন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন। এ ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

আহত সিয়াম হোসেন কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুস সবুরের ছেলে এবং স্থানীয় মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওইদিন তার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ছিল। তবে হামলার কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে বিদ্যালয়ের পথে হাঁটছিল সিয়াম। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা চার ব্যক্তি এসে তার পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

হামলায় সিয়ামের দুই হাতে আঘাত লাগে। ঘটনাটি দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করেন এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ চলছে।

মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, সেদিন সিয়ামের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। কিন্তু হামলার কারণে সে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুস সবুর জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে অজ্ঞাতনামা চারজনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেকসনা খাতুন বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিক্ষার্থীর ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ছুরিকাঘাতের এই ঘটনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দিকেই সবার নজর।