অন্ধ মানুষ আসলে কী দেখেন? এই প্রশ্নটি আমাদের অনেকের মনেই আসে। সাধারণভাবে মনে করা হয়, তারা শুধু অন্ধকার বা কালো রং দেখেন। তবে বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। দেখা আসলে চোখের কাজ নয়, বরং মস্তিষ্কের কাজ।
যাঁরা জন্ম থেকেই অন্ধ, তাঁদের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা কোনো রং বা অন্ধকার কিছুই দেখেন না। কারণ, কোনো রং বোঝার জন্য আগে তা দেখার অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। তাদের কাছে দেখার অনুভূতিটা অনেকটা শূন্যতার মতো।
অন্যদিকে, যারা জীবনের কোনো এক পর্যায়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে। কেউ ঘন অন্ধকার দেখেন, আবার কেউ চোখের সামনে আলোর ঝলকানি বা অদ্ভুত আকৃতি দেখতে পান। এই ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা ‘চার্লস বোনেট সিনড্রোম’ বলে থাকেন।
এটি আসলে কোনো মানসিক সমস্যা নয়। চোখ থেকে সঠিক সংকেত না পেলে মস্তিষ্ক নিজেই কিছু ছবি তৈরি করতে শুরু করে। ফলে বাস্তবে কিছু না থাকলেও চোখের সামনে বিভিন্ন দৃশ্য ভেসে উঠতে পারে।
কিছু মানুষ আংশিকভাবে দেখতে পান। তারা বড় বস্তু বা আলো-অন্ধকারের পার্থক্য বুঝতে পারেন। আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত ঝাপসা কিছু দেখতে পান। এটিকে ‘লাইট পারসেপশন’ বলা হয়, যেখানে আলো টের পাওয়া যায় কিন্তু স্পষ্ট ছবি দেখা যায় না।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দৃষ্টিহীন ব্যক্তিরাও রং সম্পর্কে ধারণা রাখতে পারেন। যদিও তারা চোখে রং দেখেন না, তবুও ভাষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে রঙের মানসিক ধারণা তৈরি হয়।
স্বপ্নের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। যারা আগে দেখতে পেতেন, তারা স্বপ্নে ছবি দেখতে পারেন। কিন্তু জন্মগতভাবে অন্ধ ব্যক্তিদের স্বপ্ন তৈরি হয় শব্দ, স্পর্শ, গন্ধ ও অনুভূতির মাধ্যমে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, অন্ধ মানুষ কী দেখেন এর উত্তর একক নয়। এটি নির্ভর করে তিনি কখন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং তার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল তার ওপর। বিজ্ঞান এই জটিল বিষয়টিকে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করে তুলছে।






























