হিলসবরো ট্র্যাজেডি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা, যা আজও লিভারপুল সমর্থকদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত হয়ে আছে। ১৯৮৯ সালের ১৫ এপ্রিল ইংল্যান্ডের শেফিল্ডের হিলসবরো স্টেডিয়ামে এফএ কাপের সেমিফাইনালে লিভারপুল ও নটিংহাম ফরেস্টের ম্যাচ চলাকালে ভয়াবহ ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ৯৭ জন লিভারপুল সমর্থক প্রাণ হারান। ফুটবল ভালোবাসতে গিয়ে এমন মৃত্যুর ঘটনা বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে জড়িয়ে আছেন লিভারপুল কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ড। তাঁর আত্মজীবনী স্টিভেন জেরার্ড: মাই অটোবায়োগ্রাফি –এ তিনি লিখেছেন, হিলসবরো ট্র্যাজেডিতে তাঁর চাচাত ভাই জন-পল গিলহুলি নিহত হন। মাত্র ১০ বছর বয়সী সেই সমর্থকের মৃত্যু জেরার্ডের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ভাইয়ের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়েই তিনি ফুটবলার হওয়ার পথে এগিয়েছিলেন।

ঘটনার দিন শেফিল্ডের হিলসবরো স্টেডিয়াম-এ দর্শকের চাপ ছিল ধারণক্ষমতার অনেক বেশি। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ভুল সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হলে বিপুল সংখ্যক সমর্থক একসঙ্গে গ্যালারিতে ঢুকে পড়েন। ফলে সামনে থাকা দর্শকেরা চাপে পড়ে শ্বাস নিতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকেন। অনেকেই নিরাপত্তাবেষ্টনী টপকে মাঠে ঝাঁপ দিয়েছিলেন জীবন বাঁচাতে।

এই ভয়াবহ হুড়োহুড়িতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অধিকাংশ সমর্থক। প্রথমে নিহতের সংখ্যা ছিল ৯৬, পরে আহতদের একজন মারা যাওয়ায় সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৯৭। আহত হয়েছিলেন আরও শত শত মানুষ। আহতদের অনেককে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি, যা পুরো আয়োজনের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলা হলেও নিহতদের পরিবার তা মেনে নেয়নি। বছরের পর বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৬ সালে আদালতের রায়ে বলা হয়, হিলসবরো ট্র্যাজেডির জন্য দায়ী ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার গুরুতর ত্রুটি ও পুলিশের ভুল সিদ্ধান্ত। সেই রায় ফুটবল ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিচারিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল এলে লিভারপুল শহর শোকের আবহে ঢেকে যায়। অ্যানফিল্ডের স্মৃতিস্মারকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান হাজার হাজার সমর্থক। ফুটবল বিশ্ব আজও মনে রাখে হিলসবরো ট্র্যাজেডি, কারণ এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি ভুল সিদ্ধান্ত কীভাবে শত মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে তার নির্মম স্মৃতি।






























