ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হিলসবরো ট্র্যাজেডি: এক ভুল সিদ্ধান্তে ৯৭ সমর্থকের মৃত্যু, যা এখনো কাঁদায় ফুটবল বিশ্ব

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:১১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৫৪

হিলসবরো ট্র্যাজেডিতে নিহত ৯৭ সমর্থকের স্মরণে অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামে লিভারপুল সমর্থকদের আবেগঘন শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি: সংগৃহীত

হিলসবরো ট্র্যাজেডি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা, যা আজও লিভারপুল সমর্থকদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত হয়ে আছে। ১৯৮৯ সালের ১৫ এপ্রিল ইংল্যান্ডের শেফিল্ডের হিলসবরো স্টেডিয়ামে এফএ কাপের সেমিফাইনালে লিভারপুল ও নটিংহাম ফরেস্টের ম্যাচ চলাকালে ভয়াবহ ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ৯৭ জন লিভারপুল সমর্থক প্রাণ হারান। ফুটবল ভালোবাসতে গিয়ে এমন মৃত্যুর ঘটনা বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে জড়িয়ে আছেন লিভারপুল কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ড। তাঁর আত্মজীবনী স্টিভেন জেরার্ড: মাই অটোবায়োগ্রাফি –এ তিনি লিখেছেন, হিলসবরো ট্র্যাজেডিতে তাঁর চাচাত ভাই জন-পল গিলহুলি নিহত হন। মাত্র ১০ বছর বয়সী সেই সমর্থকের মৃত্যু জেরার্ডের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ভাইয়ের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়েই তিনি ফুটবলার হওয়ার পথে এগিয়েছিলেন।

হিলসবরো স্টেডিয়ামে ১৯৮৯ সালের ফুটবল দুর্ঘটনার দৃশ্য
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি | ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার দিন শেফিল্ডের  হিলসবরো স্টেডিয়াম-এ দর্শকের চাপ ছিল ধারণক্ষমতার অনেক বেশি। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ভুল সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হলে বিপুল সংখ্যক সমর্থক একসঙ্গে গ্যালারিতে ঢুকে পড়েন। ফলে সামনে থাকা দর্শকেরা চাপে পড়ে শ্বাস নিতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকেন। অনেকেই নিরাপত্তাবেষ্টনী টপকে মাঠে ঝাঁপ দিয়েছিলেন জীবন বাঁচাতে।

হিলসবরো স্টেডিয়ামে ১৯৮৯ সালের ফুটবল দুর্ঘটনা
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় মর্মান্তিক হিলসবরো ট্র্যাজেডি। ছবি: সংগৃহীত

এই ভয়াবহ হুড়োহুড়িতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অধিকাংশ সমর্থক। প্রথমে নিহতের সংখ্যা ছিল ৯৬, পরে আহতদের একজন মারা যাওয়ায় সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৯৭। আহত হয়েছিলেন আরও শত শত মানুষ। আহতদের অনেককে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি, যা পুরো আয়োজনের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।

দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলা হলেও নিহতদের পরিবার তা মেনে নেয়নি। বছরের পর বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৬ সালে আদালতের রায়ে বলা হয়, হিলসবরো ট্র্যাজেডির জন্য দায়ী ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার গুরুতর ত্রুটি ও পুলিশের ভুল সিদ্ধান্ত। সেই রায় ফুটবল ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিচারিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

হিলসবরো ট্র্যাজেডিতে নিহত ৯৭ সমর্থকের স্মরণে অ্যানফিল্ডে লিভারপুল মেমোরিয়ালের সামনে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সমর্থকেরা।
হিলসবরো ট্র্যাজেডিতে নিহত ৯৭ সমর্থকের স্মরণে অ্যানফিল্ডের লিভারপুল মেমোরিয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সমর্থকেরা। ছবি: সংগৃহীত

প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল এলে লিভারপুল শহর শোকের আবহে ঢেকে যায়। অ্যানফিল্ডের স্মৃতিস্মারকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান হাজার হাজার সমর্থক। ফুটবল বিশ্ব আজও মনে রাখে হিলসবরো ট্র্যাজেডি, কারণ এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি ভুল সিদ্ধান্ত কীভাবে শত মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে তার নির্মম স্মৃতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সকালের নাস্তায় ৭ ভুল! বাড়তে পারে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি

হিলসবরো ট্র্যাজেডি: এক ভুল সিদ্ধান্তে ৯৭ সমর্থকের মৃত্যু, যা এখনো কাঁদায় ফুটবল বিশ্ব

Update Time : ১১:১১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

হিলসবরো ট্র্যাজেডি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা, যা আজও লিভারপুল সমর্থকদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত হয়ে আছে। ১৯৮৯ সালের ১৫ এপ্রিল ইংল্যান্ডের শেফিল্ডের হিলসবরো স্টেডিয়ামে এফএ কাপের সেমিফাইনালে লিভারপুল ও নটিংহাম ফরেস্টের ম্যাচ চলাকালে ভয়াবহ ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ৯৭ জন লিভারপুল সমর্থক প্রাণ হারান। ফুটবল ভালোবাসতে গিয়ে এমন মৃত্যুর ঘটনা বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে জড়িয়ে আছেন লিভারপুল কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ড। তাঁর আত্মজীবনী স্টিভেন জেরার্ড: মাই অটোবায়োগ্রাফি –এ তিনি লিখেছেন, হিলসবরো ট্র্যাজেডিতে তাঁর চাচাত ভাই জন-পল গিলহুলি নিহত হন। মাত্র ১০ বছর বয়সী সেই সমর্থকের মৃত্যু জেরার্ডের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ভাইয়ের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়েই তিনি ফুটবলার হওয়ার পথে এগিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন  মেসিই দলকে শেষ ১৬-তে নিয়ে যাবেন
হিলসবরো স্টেডিয়ামে ১৯৮৯ সালের ফুটবল দুর্ঘটনার দৃশ্য
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি | ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার দিন শেফিল্ডের  হিলসবরো স্টেডিয়াম-এ দর্শকের চাপ ছিল ধারণক্ষমতার অনেক বেশি। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ভুল সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হলে বিপুল সংখ্যক সমর্থক একসঙ্গে গ্যালারিতে ঢুকে পড়েন। ফলে সামনে থাকা দর্শকেরা চাপে পড়ে শ্বাস নিতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকেন। অনেকেই নিরাপত্তাবেষ্টনী টপকে মাঠে ঝাঁপ দিয়েছিলেন জীবন বাঁচাতে।

আরও পড়ুন  ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল: প্রতিশোধ নাকি ইতিহাস?
হিলসবরো স্টেডিয়ামে ১৯৮৯ সালের ফুটবল দুর্ঘটনা
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় মর্মান্তিক হিলসবরো ট্র্যাজেডি। ছবি: সংগৃহীত

এই ভয়াবহ হুড়োহুড়িতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অধিকাংশ সমর্থক। প্রথমে নিহতের সংখ্যা ছিল ৯৬, পরে আহতদের একজন মারা যাওয়ায় সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৯৭। আহত হয়েছিলেন আরও শত শত মানুষ। আহতদের অনেককে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি, যা পুরো আয়োজনের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।

দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলা হলেও নিহতদের পরিবার তা মেনে নেয়নি। বছরের পর বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৬ সালে আদালতের রায়ে বলা হয়, হিলসবরো ট্র্যাজেডির জন্য দায়ী ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার গুরুতর ত্রুটি ও পুলিশের ভুল সিদ্ধান্ত। সেই রায় ফুটবল ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিচারিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন  হ্যারি কেইনের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ, মেসির উদাহরণে দিলেন ইঙ্গিত
হিলসবরো ট্র্যাজেডিতে নিহত ৯৭ সমর্থকের স্মরণে অ্যানফিল্ডে লিভারপুল মেমোরিয়ালের সামনে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সমর্থকেরা।
হিলসবরো ট্র্যাজেডিতে নিহত ৯৭ সমর্থকের স্মরণে অ্যানফিল্ডের লিভারপুল মেমোরিয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সমর্থকেরা। ছবি: সংগৃহীত

প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল এলে লিভারপুল শহর শোকের আবহে ঢেকে যায়। অ্যানফিল্ডের স্মৃতিস্মারকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান হাজার হাজার সমর্থক। ফুটবল বিশ্ব আজও মনে রাখে হিলসবরো ট্র্যাজেডি, কারণ এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি ভুল সিদ্ধান্ত কীভাবে শত মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে তার নির্মম স্মৃতি।