আর্জেন্টিনা ফুটবলার নিষিদ্ধ ইস্যু ঘিরে বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার মাঠে একটি রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করেন। এরপরই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
ব্রিটেনের লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি এই ঘটনাকে ফিফার নিয়মের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন। তিনি ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে আগামী ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান। তার মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
সেমিফাইনাল শেষে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ লেখা একটি ব্যানার হাতে উদযাপন করেন। ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে এই ব্যানারটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণেই বিষয়টি দ্রুত আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে আসে।
এড ডেভি তার চিঠিতে ফিফার প্রতিযোগিতা বিধির ৩৪.৩ ধারা উল্লেখ করেছেন, যেখানে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে স্পেনের রদ্রি ও আলভারো মোরাতার ঘটনাও তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং এটিকে অনুপযুক্ত আচরণ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
তবে এখন পর্যন্ত ফিফা এ বিষয়ে কোনো তদন্ত বা শাস্তির ঘোষণা দেয়নি। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। বরং প্রয়োজন হলে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।
সবকিছু মিলিয়ে ফাইনালের আগে বড় কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনাটি যে বিশ্বকাপের মাঠের বাইরে নতুন এক কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখন সবার নজর ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।


























