ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু Logo রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি Logo ঢাকা আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার, গুরুত্ব পাবে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষা Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৮ নিহত, দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত Logo কক্সবাজারে বৃষ্টির ধাক্কা, কম দামে বিপাকে ৪২ হাজার লবণচাষি Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo শিশুর শরীরে কালো দাগ কেন হয়? অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানুন Logo আয়োকিগাহারা ফরেস্ট: জাপানের রহস্যময় ‘সুইসাইড ফরেস্ট’ এর অজানা সত্য Logo মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি Logo ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ইঙ্গিত

চুক্তিতে না এলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগনের সতর্কবার্তা

  • Mahbuba Ahmad
  • Update Time : ০৮:২৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১১

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথফাইল।ছবি: রয়টার্স

ইরান কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না যুক্তরাষ্ট্র। তার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

হেগসেথ জানান, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নজরদারি জোরদার করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনীর কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ইরান যদি আলোচনায় অগ্রগতি না দেখায়, তবে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় কূটনৈতিক সমাধান, তবে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, চীন যুদ্ধবিরতির সময় ইরানে অস্ত্র সরবরাহ না করার আশ্বাস দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে হেগসেথ বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পথ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানাবে ওয়াশিংটন। তিনি অন্যান্য দেশকে এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ইরানকে সহায়তাকারী জাহাজের ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানি তেল বহনকারী জাহাজসহ সন্দেহভাজন সব জাহাজ মার্কিন বাহিনীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

জেনারেল কেইন জানান, অবরোধ কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ, বিমান ও মেরিন বাহিনীর হাজারো সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজকে নির্ধারিত এলাকা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অবরোধ অমান্য করা হলে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা বাড়ছে। তবে আন্তর্জাতিক মহল এখনো কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

চুক্তিতে না এলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগনের সতর্কবার্তা

Update Time : ০৮:২৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরান কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না যুক্তরাষ্ট্র। তার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

হেগসেথ জানান, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নজরদারি জোরদার করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনীর কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ইরান যদি আলোচনায় অগ্রগতি না দেখায়, তবে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় কূটনৈতিক সমাধান, তবে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, চীন যুদ্ধবিরতির সময় ইরানে অস্ত্র সরবরাহ না করার আশ্বাস দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে হেগসেথ বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পথ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানাবে ওয়াশিংটন। তিনি অন্যান্য দেশকে এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ইরানকে সহায়তাকারী জাহাজের ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানি তেল বহনকারী জাহাজসহ সন্দেহভাজন সব জাহাজ মার্কিন বাহিনীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

জেনারেল কেইন জানান, অবরোধ কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ, বিমান ও মেরিন বাহিনীর হাজারো সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজকে নির্ধারিত এলাকা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অবরোধ অমান্য করা হলে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা বাড়ছে। তবে আন্তর্জাতিক মহল এখনো কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা যায়।