ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চান্দিপুরা ভাইরাসে শিশুর মৃত্যু, গুজরাটে শনাক্ত ১২ রোগী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

চান্দিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজস্থানের দুই বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

ভারতের গুজরাটে চান্দিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজস্থানের দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুজরাটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে গুজরাটে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং আটজন রোগী মারা গেছেন বলে জানিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ।

বানাস মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ড. সুনীল জোশী জানান, রাজস্থানের সিরোহি জেলার শিশুটিকে গত ১৩ জুলাই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন পরীক্ষায় তার শরীরে চান্দিপুরা ভাইরাস শনাক্ত হয়। পরে তাকে পেডিয়াট্রিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হলেও ছয় দিন চিকিৎসার পর ১৯ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানসেরিয়া জানিয়েছেন, চলতি বছর রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৬৩টি সন্দেহভাজন চান্দিপুরা ভাইরাসের কেস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৯ জন গুজরাটের এবং ৩ জন রাজস্থানের বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ৬৩টি নমুনার মধ্যে ৫৫টির পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে। বাকি আটটি নমুনার ফলাফল এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার, সংক্রমণের কারণ এবং প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে গুজরাটে একটি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাসের উৎস খুঁজে বের করতে রোগীদের ভ্রমণ ইতিহাস ও সংক্রমণের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

চান্দিপুরা ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে বালুমাছি ও কিছু কীটপতঙ্গকে অন্যতম বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে আক্রান্ত এলাকায় কাঁচা বাড়ি, গবাদিপশুর ঘর ও আশপাশের এলাকায় কীটনাশক ছিটানোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চান্দিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে। এর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, খিঁচুনি, বমি, ডায়রিয়া, অচেতন হয়ে যাওয়া এবং গুরুতর অবস্থায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার মতো সমস্যা।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্ষাকালে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ভাইরাসের সক্রিয়তা বেশি দেখা যায়। শিশুদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গুজরাট সরকার অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। শিশুদের হঠাৎ জ্বর, খিঁচুনি, বমি, ডায়রিয়া বা অচেতন হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূগর্ভস্থ পানিতে নতুন হুমকি, ম্যাঙ্গানিজে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

চান্দিপুরা ভাইরাসে শিশুর মৃত্যু, গুজরাটে শনাক্ত ১২ রোগী

Update Time : ১১:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ভারতের গুজরাটে চান্দিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজস্থানের দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুজরাটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে গুজরাটে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং আটজন রোগী মারা গেছেন বলে জানিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ।

বানাস মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ড. সুনীল জোশী জানান, রাজস্থানের সিরোহি জেলার শিশুটিকে গত ১৩ জুলাই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন পরীক্ষায় তার শরীরে চান্দিপুরা ভাইরাস শনাক্ত হয়। পরে তাকে পেডিয়াট্রিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হলেও ছয় দিন চিকিৎসার পর ১৯ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব

গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানসেরিয়া জানিয়েছেন, চলতি বছর রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৬৩টি সন্দেহভাজন চান্দিপুরা ভাইরাসের কেস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৯ জন গুজরাটের এবং ৩ জন রাজস্থানের বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ৬৩টি নমুনার মধ্যে ৫৫টির পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে। বাকি আটটি নমুনার ফলাফল এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার, সংক্রমণের কারণ এবং প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে গুজরাটে একটি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান চুক্তি ঘিরে ট্রাম্পকে কড়া সমালোচনা, ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্নে উত্তপ্ত ওয়াশিংটন

বৈঠকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাসের উৎস খুঁজে বের করতে রোগীদের ভ্রমণ ইতিহাস ও সংক্রমণের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

চান্দিপুরা ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে বালুমাছি ও কিছু কীটপতঙ্গকে অন্যতম বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে আক্রান্ত এলাকায় কাঁচা বাড়ি, গবাদিপশুর ঘর ও আশপাশের এলাকায় কীটনাশক ছিটানোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চান্দিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে। এর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, খিঁচুনি, বমি, ডায়রিয়া, অচেতন হয়ে যাওয়া এবং গুরুতর অবস্থায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার মতো সমস্যা।

আরও পড়ুন  খামেনির শেষবিদায় ঘিরে তেহরান মেট্রোতে রেকর্ড যাত্রীর যাতায়াত

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্ষাকালে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ভাইরাসের সক্রিয়তা বেশি দেখা যায়। শিশুদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গুজরাট সরকার অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। শিশুদের হঠাৎ জ্বর, খিঁচুনি, বমি, ডায়রিয়া বা অচেতন হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।