ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

যুব আন্দোলনে চাপে মোদি সরকার? নতুন প্রশ্ন ভারতের রাজনীতিতে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৩২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫১১

দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–এর ডাকে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ব্যাপক বিক্ষোভ দেশটির রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলন সোমবার নতুন মাত্রা পায়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই আন্দোলন শুধু শিক্ষা নয়, সরকারের প্রতি তরুণদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষেরও প্রতিফলন।

সোমবার সকাল থেকেই মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণী জড়ো হতে শুরু করেন। পুলিশের কড়া নিরাপত্তা, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং রাস্তা অবরোধের পরও তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। তবে আন্দোলনকারীরা দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থী যন্তর মন্তর এলাকায় অবস্থান করেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।

গত প্রায় এক মাস ধরে সিজেপির নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলছে। তাদের প্রধান দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হচ্ছে।

যদিও ককরোচ জনতা পার্টিকে অনেকেই রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করছেন, বাস্তবে এটি একটি নাগরিক সংগঠন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার পর সংগঠনটির বাস্তব শক্তি নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সোমবারের কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম সেই প্রশ্নের নতুন উত্তর দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে থাকা তরুণ। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের পাশাপাশি বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাঁদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।

স্বাধীন সাংবাদিক স্মিতা শর্মা, যিনি শুরু থেকেই আন্দোলনের খবর অনুসরণ করছেন, মনে করেন এই বিক্ষোভ সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তাঁর মতে, তরুণদের ক্ষোভ এখন শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জবাবদিহির মতো বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।

সংসদ ভবন অভিযানের ঘোষণার পর আন্দোলনের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার তাঁদের আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা দাবি করেন, আলোচনার প্রস্তাব এসেছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকেই।

জেপি নাড্ডা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি লিখিত স্মারকলিপিও গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

তবে বৈঠক হলেও আন্দোলনের মূল দাবি এখনো পূরণ হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কিংবা শিক্ষা সংস্কার নিয়ে সরকার কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি। ফলে সিজেপি জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এই আন্দোলনকে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, তরুণরা শুধু নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য নয়, একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতির দাবিতেও আন্দোলন করছে।

স্মিতা শর্মার মতে, এই আন্দোলনের একটি বিশেষ দিক হলো এটি অনেকটাই নেতৃত্বনির্ভর নয়। ইন্টারনেট সীমিত, মেট্রো বন্ধ এবং যোগাযোগে নানা বাধা থাকার পরও হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছেন। এতে বোঝা যায়, ক্ষোভ অনেক গভীরে পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের বিষয়টি শিক্ষা থেকে শুরু হলেও পরে তা মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়েও বিস্তৃত হয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।

সরকার যদি এই বিক্ষোভকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন স্মিতা শর্মা। তাঁর মতে, তরুণরা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে প্রয়োজন হলে তারা সংসদ পর্যন্ত মিছিল করতেও প্রস্তুত ছিল।

প্রবীণ সাংবাদিক হেমন্ত অত্রিও মনে করেন, এই আন্দোলন মোদি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তাঁর ভাষায়, তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখিয়েছে যে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের শক্তি এখনো অটুট রয়েছে এবং জনগণকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

হেমন্ত অত্রি বলেন, যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যুবসমাজই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই সরকারের উচিত এই আন্দোলনকে শুধু আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে তরুণদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপির আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে দিল্লির রাস্তায় তরুণদের এই ব্যাপক উপস্থিতি এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিক্ষোভ স্পষ্ট করেছে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জবাবদিহির মতো ইস্যু এখন ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে। এই বাস্তবতা মোদি সরকারের জন্য ভবিষ্যতে কতটা বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূগর্ভস্থ পানিতে নতুন হুমকি, ম্যাঙ্গানিজে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

যুব আন্দোলনে চাপে মোদি সরকার? নতুন প্রশ্ন ভারতের রাজনীতিতে

Update Time : ১২:৩২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–এর ডাকে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ব্যাপক বিক্ষোভ দেশটির রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলন সোমবার নতুন মাত্রা পায়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই আন্দোলন শুধু শিক্ষা নয়, সরকারের প্রতি তরুণদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষেরও প্রতিফলন।

সোমবার সকাল থেকেই মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণী জড়ো হতে শুরু করেন। পুলিশের কড়া নিরাপত্তা, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং রাস্তা অবরোধের পরও তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। তবে আন্দোলনকারীরা দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থী যন্তর মন্তর এলাকায় অবস্থান করেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।

গত প্রায় এক মাস ধরে সিজেপির নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলছে। তাদের প্রধান দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হচ্ছে।

যদিও ককরোচ জনতা পার্টিকে অনেকেই রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করছেন, বাস্তবে এটি একটি নাগরিক সংগঠন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার পর সংগঠনটির বাস্তব শক্তি নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সোমবারের কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম সেই প্রশ্নের নতুন উত্তর দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে থাকা তরুণ। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের পাশাপাশি বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাঁদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।

স্বাধীন সাংবাদিক স্মিতা শর্মা, যিনি শুরু থেকেই আন্দোলনের খবর অনুসরণ করছেন, মনে করেন এই বিক্ষোভ সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তাঁর মতে, তরুণদের ক্ষোভ এখন শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জবাবদিহির মতো বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।

সংসদ ভবন অভিযানের ঘোষণার পর আন্দোলনের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার তাঁদের আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা দাবি করেন, আলোচনার প্রস্তাব এসেছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকেই।

জেপি নাড্ডা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি লিখিত স্মারকলিপিও গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

তবে বৈঠক হলেও আন্দোলনের মূল দাবি এখনো পূরণ হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কিংবা শিক্ষা সংস্কার নিয়ে সরকার কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি। ফলে সিজেপি জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এই আন্দোলনকে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, তরুণরা শুধু নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য নয়, একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতির দাবিতেও আন্দোলন করছে।

স্মিতা শর্মার মতে, এই আন্দোলনের একটি বিশেষ দিক হলো এটি অনেকটাই নেতৃত্বনির্ভর নয়। ইন্টারনেট সীমিত, মেট্রো বন্ধ এবং যোগাযোগে নানা বাধা থাকার পরও হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছেন। এতে বোঝা যায়, ক্ষোভ অনেক গভীরে পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের বিষয়টি শিক্ষা থেকে শুরু হলেও পরে তা মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়েও বিস্তৃত হয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।

সরকার যদি এই বিক্ষোভকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন স্মিতা শর্মা। তাঁর মতে, তরুণরা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে প্রয়োজন হলে তারা সংসদ পর্যন্ত মিছিল করতেও প্রস্তুত ছিল।

প্রবীণ সাংবাদিক হেমন্ত অত্রিও মনে করেন, এই আন্দোলন মোদি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তাঁর ভাষায়, তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখিয়েছে যে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের শক্তি এখনো অটুট রয়েছে এবং জনগণকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

হেমন্ত অত্রি বলেন, যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যুবসমাজই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই সরকারের উচিত এই আন্দোলনকে শুধু আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে তরুণদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপির আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে দিল্লির রাস্তায় তরুণদের এই ব্যাপক উপস্থিতি এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিক্ষোভ স্পষ্ট করেছে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জবাবদিহির মতো ইস্যু এখন ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে। এই বাস্তবতা মোদি সরকারের জন্য ভবিষ্যতে কতটা বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।