ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জরুরি আপডেট: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী অধিবেশনেই? আইনমন্ত্রীর বড় ইঙ্গিত Logo ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ দাবি: বড় অচলাবস্থায় মোদি সরকারের কঠোর অবস্থান Logo উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার: মহানায়ককে ঘিরে বড় ঘোষণা Logo সম্মানজনক কোরিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত সংবর্ধনা: কেবিসিসিআইয়ের নতুন উদ্যোগ Logo ফেসবুক ভেরিফাই: বিনামূল্যে ব্লু ব্যাজ পাওয়ার সহজ উপায় Logo শোভিতার রান্না: মজার পোস্টে চমক দিলেন নাগা চৈতন্য Logo সৌদি পারমাণবিক চুক্তি: ট্রাম্পের বড় সিদ্ধান্ত কেন বদলে গেল? Logo প্রাথমিক শিক্ষক পদোন্নতি, প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় হাজারো শিক্ষক Logo চিনি খাওয়া কমছে: স্বাস্থ্যসচেতনতার বড় পরিবর্তন জানুন Logo বস্ত্র খাতে ৫% প্রণোদনা, ঘুরে দাঁড়াবে কি স্পিনিং মিল?

চিনি খাওয়া কমছে: স্বাস্থ্যসচেতনতার বড় পরিবর্তন জানুন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:০২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৩

বাজারে কমছে চিনির চাহিদা। ছবি: সংগৃহীত

চিনি খাওয়া কমছে। বাংলাদেশের খাদ্যাভ্যাসে নীরবে বড় পরিবর্তন এসেছে। কয়েক বছর আগেও প্রতিদিনের চা, কফি কিংবা মিষ্টি খাবারে চিনি ছিল অপরিহার্য। এখন সেই অভ্যাস বদলাচ্ছে দ্রুত। অনেকে নিজের ইচ্ছায়, আবার অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শে চিনি কমাচ্ছেন। ফলে দেশের চিনির বাজারেও স্পষ্ট প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

শুধু ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানও একই বার্তা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (USDA) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুমের মধ্যে বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে। বিশ্বের বড় ভোক্তা দেশগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় হ্রাস। অথচ একই সময়ে বিশ্বে মোট চিনির ব্যবহার বেড়েছে।

এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ ডায়াবেটিসের বিস্তার। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে এক কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। চিকিৎসকেরা অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়ায় অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে চিনি কমিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সুস্থ জীবনযাপনের প্রবণতাও বেড়েছে।

চিনির উচ্চ দামও ভোগ কমার বড় কারণ। কয়েক বছর আগে যেখানে চিনি তুলনামূলক সস্তা ছিল, এখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম ১০৫ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে। ফলে অনেক পরিবার চিনি ব্যবহার সীমিত করছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এই পরিবর্তন বেশি দেখা যাচ্ছে।

এদিকে বাজারেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে চিনিমুক্ত খাবার বলতে কয়েক ধরনের বিস্কুট বোঝানো হতো। এখন পানীয়, কফি, দুধজাত পণ্য, ডেজার্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যেও চিনিমুক্ত বা কম চিনিযুক্ত বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ভোক্তারাও সহজেই স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিতে পারছেন। একই সঙ্গে সুক্রালোজের মতো বিকল্প মিষ্টিকারকের আমদানিও কয়েক গুণ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসচেতনতা, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষের ধারণা বৃদ্ধি, চিনির মূল্য বৃদ্ধি এবং নতুন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের প্রসার—সব মিলিয়ে দেশের খাদ্যাভ্যাস বদলে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, চিনির বাজার পুরোপুরি সংকুচিত হয়ে যাবে এমনটি এখনই বলা না গেলেও পুরোনো প্রবৃদ্ধির ধারা আর নেই। বরং ভবিষ্যতের বাজার হবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক, যেখানে কম চিনি ও চিনিমুক্ত পণ্যের চাহিদাই বাড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জরুরি আপডেট: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী অধিবেশনেই? আইনমন্ত্রীর বড় ইঙ্গিত

চিনি খাওয়া কমছে: স্বাস্থ্যসচেতনতার বড় পরিবর্তন জানুন

Update Time : ০১:০২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

চিনি খাওয়া কমছে। বাংলাদেশের খাদ্যাভ্যাসে নীরবে বড় পরিবর্তন এসেছে। কয়েক বছর আগেও প্রতিদিনের চা, কফি কিংবা মিষ্টি খাবারে চিনি ছিল অপরিহার্য। এখন সেই অভ্যাস বদলাচ্ছে দ্রুত। অনেকে নিজের ইচ্ছায়, আবার অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শে চিনি কমাচ্ছেন। ফলে দেশের চিনির বাজারেও স্পষ্ট প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

শুধু ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানও একই বার্তা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (USDA) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুমের মধ্যে বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে। বিশ্বের বড় ভোক্তা দেশগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় হ্রাস। অথচ একই সময়ে বিশ্বে মোট চিনির ব্যবহার বেড়েছে।

আরও পড়ুন  ৬ বছরে ৬,৪০৪ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ, ‘রক্তদানে আমরা কেন্দুয়া’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ ডায়াবেটিসের বিস্তার। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে এক কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। চিকিৎসকেরা অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়ায় অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে চিনি কমিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সুস্থ জীবনযাপনের প্রবণতাও বেড়েছে।

চিনির উচ্চ দামও ভোগ কমার বড় কারণ। কয়েক বছর আগে যেখানে চিনি তুলনামূলক সস্তা ছিল, এখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম ১০৫ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে। ফলে অনেক পরিবার চিনি ব্যবহার সীমিত করছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এই পরিবর্তন বেশি দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন  কফি কি কোলেস্টেরল বাড়ায়? সত্যিটা জানুন সহজভাবে

এদিকে বাজারেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে চিনিমুক্ত খাবার বলতে কয়েক ধরনের বিস্কুট বোঝানো হতো। এখন পানীয়, কফি, দুধজাত পণ্য, ডেজার্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যেও চিনিমুক্ত বা কম চিনিযুক্ত বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ভোক্তারাও সহজেই স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিতে পারছেন। একই সঙ্গে সুক্রালোজের মতো বিকল্প মিষ্টিকারকের আমদানিও কয়েক গুণ বেড়েছে।

আরও পড়ুন  বৃষ্টিতে ভিজলে কি সত্যিই ঘামাচি কমে? জানালেন চিকিৎসক

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসচেতনতা, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষের ধারণা বৃদ্ধি, চিনির মূল্য বৃদ্ধি এবং নতুন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের প্রসার—সব মিলিয়ে দেশের খাদ্যাভ্যাস বদলে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, চিনির বাজার পুরোপুরি সংকুচিত হয়ে যাবে এমনটি এখনই বলা না গেলেও পুরোনো প্রবৃদ্ধির ধারা আর নেই। বরং ভবিষ্যতের বাজার হবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক, যেখানে কম চিনি ও চিনিমুক্ত পণ্যের চাহিদাই বাড়বে।