ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল সরকার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৮

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। | ছবি: সংগৃহীত

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, ব্যবসার খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে প্রবেশের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দেশে বড় পরিসরে বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর সেই বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ ও কার্যকর করা জরুরি।

বুধবার (১২ আগস্ট) শিল্প মন্ত্রণালয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ব্যবসায়ীদের সমস্যা কমিয়ে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই রয়েছে। তবে ব্যবসা পরিচালনার খরচ ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা কীভাবে কমানো যায়, সেটিই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে শিল্প ও ব্যবসা খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

ব্যবসায়ীদের জন্য বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী ট্রেড লাইসেন্স নিয়েও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রেড লাইসেন্স পেতে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের আর এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ছুটতে হবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করে ট্রেড লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি সময় ও খরচ—দুটিই কমতে পারে।

অর্থনীতি চাঙা করতে রপ্তানি খাতেও বৈচিত্র আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নতুন পণ্য ও নতুন বাজার খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কয়েক মাসের মধ্যেই এর সুফল অর্থনীতিতে দেখা যেতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ নিয়ম, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, দ্রুত সেবা এবং রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি করা গেলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। ফলে সরকারের নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল সরকার

Update Time : ০৭:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, ব্যবসার খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে প্রবেশের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দেশে বড় পরিসরে বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর সেই বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ ও কার্যকর করা জরুরি।

বুধবার (১২ আগস্ট) শিল্প মন্ত্রণালয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ব্যবসায়ীদের সমস্যা কমিয়ে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই রয়েছে। তবে ব্যবসা পরিচালনার খরচ ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা কীভাবে কমানো যায়, সেটিই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে শিল্প ও ব্যবসা খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

ব্যবসায়ীদের জন্য বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী ট্রেড লাইসেন্স নিয়েও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রেড লাইসেন্স পেতে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের আর এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ছুটতে হবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করে ট্রেড লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি সময় ও খরচ—দুটিই কমতে পারে।

আরও পড়ুন  স্বর্ণের দাম কমেছে, আজকের নতুন দর

অর্থনীতি চাঙা করতে রপ্তানি খাতেও বৈচিত্র আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নতুন পণ্য ও নতুন বাজার খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কয়েক মাসের মধ্যেই এর সুফল অর্থনীতিতে দেখা যেতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ নিয়ম, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, দ্রুত সেবা এবং রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি করা গেলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। ফলে সরকারের নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার, নতুন তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের