ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কাঁদতে কাঁদতে অডিশন থেকে ফিরতেন, কানের দুলেই খুঁজতেন একটু আনন্দ

দ্য পেঙ্গুইনে সোফিয়া ফ্যালকোন চরিত্রে অভিনয় করে বড় সাফল্য পান ক্রিস্টিন মিলিওটি। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিস্টিন মিলিওটি অভিনয়জীবনের শুরুতে বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়েছিলেন। এমনও হয়েছে, অডিশন থেকে ব্যর্থ হয়ে ফেরার পথে গাড়িতে বসেই কেঁদেছেন তিনি। পরে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে একটি দোকান থেকে ছোট একজোড়া কানের দুল কিনেছিলেন। সেই কঠিন সময় পেরিয়েই আজ তিনি এমি অ্যাওয়ার্ডজয়ী অভিনেত্রী। ১৯৮৫ সালের ১৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির চেরি হিলে জন্ম নেওয়া ক্রিস্টিন মিলিওটি আজ ৪১ বছরে পা দিয়েছেন। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন এবং পরে আলোচিত চরিত্রে তাঁর দীর্ঘ পথচলা মূলত ধৈর্য ও প্রত্যাখ্যান জয় করার গল্প।

শৈশব থেকেই সিনেমা ও সংগীতের প্রতি আকর্ষণ ছিল মিলিওটির। অভিনয় শেখার জন্য নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও এক বছর পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক পড়াশোনার চেয়ে মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগই তাঁকে বেশি টানত। অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে একসময় একটি নাটকে কাজ করার সময় একজন এজেন্টের নজরে পড়েন। তাঁর মাধ্যমেই অডিশনের সুযোগ আসে। ২০০৬ সালে দ্য সোপ্রানোস-এ ছোট একটি চরিত্র দিয়ে পেশাদার টেলিভিশন অভিনয়ের শুরু। তবে প্রথম সুযোগ পাওয়ার পরও নিয়মিত কাজ জোটেনি। প্রায় এক বছর কোনো অভিনয়ের কাজ না পেয়ে ছোটখাটো নানা কাজ করতে হয়েছিল তাঁকে।

ক্রিস্টিন মিলিওটির কাছে অভিনয়জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর একটি ছিল অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া। একটি অডিশনে অনেক চেষ্টা করেও কাজটি না পেয়ে বাড়ি ফেরার পুরো পথ কেঁদেছিলেন তিনি। পরে নিজের মন ভালো করতে একটি ছোট কানের দুল কিনেছিলেন। তাঁর কাছে সেটি ছিল নিজের প্রতি ছোট্ট এক ধরনের উপহার। আরেক অডিশনে একজন কাস্টিং ডিরেক্টর তাঁকে অন্য কারও মতো হওয়ার চেষ্টা না করে নিজের মতো অভিনয় করার পরামর্শ দেন। সেই কথাটি পরবর্তী সময়ে তাঁর অডিশনের ধরন বদলে দেয় এবং নিজের স্বতন্ত্রতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে।

মঞ্চ ও অফ-ব্রডওয়ে প্রযোজনায় কাজের পর ২০১১ সালে ওয়ান্স মিউজিক্যাল তাঁর ক্যারিয়ারে বড় সুযোগ এনে দেয়। চরিত্রটির জন্য পিয়ানো বাজাতে হতো, অথচ তখন সংগীতের নোট পড়তেই জানতেন না তিনি। শেষ অডিশনের আগে মাত্র ১০ দিনে পিয়ানো শেখেন এবং প্রতিদিন সাত থেকে ১০ ঘণ্টা অনুশীলন করেন। শেষ পর্যন্ত চরিত্রটি পান। ওয়ান্স-এ অভিনয়ের জন্য টনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়নও আসে তাঁর ঝুলিতে। এরপর ২০১৩ সালে হাউ আই মেট ইউর মাদার সিরিজে ট্রেসি ম্যাককনেল বা মাদার চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। পরে দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট, ফার্গো ও ব্ল্যাক মিররেও অভিনয় করেন।

২০২০ সালের পাম স্প্রিংস সিনেমায় অভিনয়ের পর মিলিওটির ক্যারিয়ার আরও বিস্তৃত হয়। এরপর মেড ফর লাভ ও দ্য রিসোর্টের মতো কাজেও তাঁকে দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বড় বাঁক আসে ২০২৪ সালে দ্য পেঙ্গুইন সিরিজে সোফিয়া ফ্যালকোন চরিত্রের মাধ্যমে। নির্মমতা, যন্ত্রণা ও মানসিক জটিলতায় ভরা এই চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। ২০২৫ সালে এই চরিত্রের জন্য প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডে লিমিটেড বা অ্যান্থলজি সিরিজে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন তিনি। একই চরিত্রের জন্য ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডও পান এবং গোল্ডেন গ্লোবের মনোনয়ন অর্জন করেন।

কুকুর হাঁটানোর কাজ থেকে শুরু করে ব্রডওয়ের মঞ্চ, ছোট টেলিভিশন চরিত্র এবং জনপ্রিয় কমেডি সিরিজ—প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছেন ক্রিস্টিন মিলিওটি। তাঁর কাছে সাফল্যের অর্থ শুধু জনপ্রিয়তা বা অর্থ নয়; নিজের পছন্দমতো কাজ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা এবং ভালো মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একসময় অন্যরা কী চাইছে, তা বুঝে অভিনয় করার চেষ্টা করলেও পরে উপলব্ধি করেন, নিজের স্বতন্ত্রতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই অডিশনে ‘না’ শুনে কাঁদতে কাঁদতে কানের দুল কেনা সেই অভিনেত্রীই আজ অন্যদের জন্য উদাহরণ—নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়াই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাদুর বউ চরিত্রে তুষির রূপান্তর, ‘রইদে’র পেছনের অজানা গল্প

কাঁদতে কাঁদতে অডিশন থেকে ফিরতেন, কানের দুলেই খুঁজতেন একটু আনন্দ

Update Time : ০২:৪০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ক্রিস্টিন মিলিওটি অভিনয়জীবনের শুরুতে বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়েছিলেন। এমনও হয়েছে, অডিশন থেকে ব্যর্থ হয়ে ফেরার পথে গাড়িতে বসেই কেঁদেছেন তিনি। পরে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে একটি দোকান থেকে ছোট একজোড়া কানের দুল কিনেছিলেন। সেই কঠিন সময় পেরিয়েই আজ তিনি এমি অ্যাওয়ার্ডজয়ী অভিনেত্রী। ১৯৮৫ সালের ১৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির চেরি হিলে জন্ম নেওয়া ক্রিস্টিন মিলিওটি আজ ৪১ বছরে পা দিয়েছেন। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন এবং পরে আলোচিত চরিত্রে তাঁর দীর্ঘ পথচলা মূলত ধৈর্য ও প্রত্যাখ্যান জয় করার গল্প।

শৈশব থেকেই সিনেমা ও সংগীতের প্রতি আকর্ষণ ছিল মিলিওটির। অভিনয় শেখার জন্য নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও এক বছর পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক পড়াশোনার চেয়ে মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগই তাঁকে বেশি টানত। অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে একসময় একটি নাটকে কাজ করার সময় একজন এজেন্টের নজরে পড়েন। তাঁর মাধ্যমেই অডিশনের সুযোগ আসে। ২০০৬ সালে দ্য সোপ্রানোস-এ ছোট একটি চরিত্র দিয়ে পেশাদার টেলিভিশন অভিনয়ের শুরু। তবে প্রথম সুযোগ পাওয়ার পরও নিয়মিত কাজ জোটেনি। প্রায় এক বছর কোনো অভিনয়ের কাজ না পেয়ে ছোটখাটো নানা কাজ করতে হয়েছিল তাঁকে।

আরও পড়ুন  তারকা জুটির বিলাসবহুল বিয়ে ঘিরে ক্ষোভ, ইতালির শহরে প্রতিবাদে নামলেন বাসিন্দারা

ক্রিস্টিন মিলিওটির কাছে অভিনয়জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর একটি ছিল অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া। একটি অডিশনে অনেক চেষ্টা করেও কাজটি না পেয়ে বাড়ি ফেরার পুরো পথ কেঁদেছিলেন তিনি। পরে নিজের মন ভালো করতে একটি ছোট কানের দুল কিনেছিলেন। তাঁর কাছে সেটি ছিল নিজের প্রতি ছোট্ট এক ধরনের উপহার। আরেক অডিশনে একজন কাস্টিং ডিরেক্টর তাঁকে অন্য কারও মতো হওয়ার চেষ্টা না করে নিজের মতো অভিনয় করার পরামর্শ দেন। সেই কথাটি পরবর্তী সময়ে তাঁর অডিশনের ধরন বদলে দেয় এবং নিজের স্বতন্ত্রতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে।

মঞ্চ ও অফ-ব্রডওয়ে প্রযোজনায় কাজের পর ২০১১ সালে ওয়ান্স মিউজিক্যাল তাঁর ক্যারিয়ারে বড় সুযোগ এনে দেয়। চরিত্রটির জন্য পিয়ানো বাজাতে হতো, অথচ তখন সংগীতের নোট পড়তেই জানতেন না তিনি। শেষ অডিশনের আগে মাত্র ১০ দিনে পিয়ানো শেখেন এবং প্রতিদিন সাত থেকে ১০ ঘণ্টা অনুশীলন করেন। শেষ পর্যন্ত চরিত্রটি পান। ওয়ান্স-এ অভিনয়ের জন্য টনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়নও আসে তাঁর ঝুলিতে। এরপর ২০১৩ সালে হাউ আই মেট ইউর মাদার সিরিজে ট্রেসি ম্যাককনেল বা মাদার চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। পরে দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট, ফার্গো ও ব্ল্যাক মিররেও অভিনয় করেন।

আরও পড়ুন  এআই ছবি ভিডিও নিয়ে বিস্ফোরক বার্তা কনকচাঁপার

২০২০ সালের পাম স্প্রিংস সিনেমায় অভিনয়ের পর মিলিওটির ক্যারিয়ার আরও বিস্তৃত হয়। এরপর মেড ফর লাভ ও দ্য রিসোর্টের মতো কাজেও তাঁকে দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বড় বাঁক আসে ২০২৪ সালে দ্য পেঙ্গুইন সিরিজে সোফিয়া ফ্যালকোন চরিত্রের মাধ্যমে। নির্মমতা, যন্ত্রণা ও মানসিক জটিলতায় ভরা এই চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। ২০২৫ সালে এই চরিত্রের জন্য প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডে লিমিটেড বা অ্যান্থলজি সিরিজে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন তিনি। একই চরিত্রের জন্য ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডও পান এবং গোল্ডেন গ্লোবের মনোনয়ন অর্জন করেন।

আরও পড়ুন  হজের পর অভিনয়কে বিদায়, হাসান মাসুদের জীবনে নতুন অধ্যায়

কুকুর হাঁটানোর কাজ থেকে শুরু করে ব্রডওয়ের মঞ্চ, ছোট টেলিভিশন চরিত্র এবং জনপ্রিয় কমেডি সিরিজ—প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছেন ক্রিস্টিন মিলিওটি। তাঁর কাছে সাফল্যের অর্থ শুধু জনপ্রিয়তা বা অর্থ নয়; নিজের পছন্দমতো কাজ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা এবং ভালো মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একসময় অন্যরা কী চাইছে, তা বুঝে অভিনয় করার চেষ্টা করলেও পরে উপলব্ধি করেন, নিজের স্বতন্ত্রতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই অডিশনে ‘না’ শুনে কাঁদতে কাঁদতে কানের দুল কেনা সেই অভিনেত্রীই আজ অন্যদের জন্য উদাহরণ—নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়াই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।