ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি: ভোটে জয়, এবার শপথের পালা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:২৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

আগামীকাল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়ে বঙ্গভবনে উঠবেন মির্জা ফখরুল। ছবি: সংগৃহীত

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে গণনায় তিনি ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এলডিপি চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ ভোটের মধ্যে ৩৪৩টি ভোট পড়েছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার পথে এগিয়ে গেলেন বিএনপির এই দীর্ঘদিনের নেতা।

দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পর ভোট দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় সংসদে উপস্থিত দলীয় সদস্যরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনের পর আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনে বড় পরিবর্তন আসছে। শপথ নেওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ। অর্থাৎ দীর্ঘদিন বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে থাকা এই নেতা এবার দলীয় রাজনীতির বাইরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংসদে তার জন্য নির্ধারিত আসন বা গ্যালারিতে বসবেন তিনি।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক যাত্রা অবশ্য দীর্ঘদিনের। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া এই নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করলেও পরে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

বিএনপির নেতৃত্বেও মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ পথচলা রয়েছে। ২০০৯ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালে খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর এক দশকের বেশি সময় ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। জাতীয় সংসদেও একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন এবং সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

এবার সেই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে রাষ্ট্রপতির পদে। ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে এখন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বড় সুযোগ। আগামীকাল শপথের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনের দায়িত্ব নেবেন তিনি। তার এই নতুন যাত্রা বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনি দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারেরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি: ভোটে জয়, এবার শপথের পালা

Update Time : ০৬:২৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে গণনায় তিনি ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এলডিপি চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ ভোটের মধ্যে ৩৪৩টি ভোট পড়েছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার পথে এগিয়ে গেলেন বিএনপির এই দীর্ঘদিনের নেতা।

দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পর ভোট দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় সংসদে উপস্থিত দলীয় সদস্যরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনের পর আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

আরও পড়ুন  ২৮ বিচারককে শোকজ, ব্যাখ্যা দিতে ৭ দিনের নির্দেশ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনে বড় পরিবর্তন আসছে। শপথ নেওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ। অর্থাৎ দীর্ঘদিন বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে থাকা এই নেতা এবার দলীয় রাজনীতির বাইরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংসদে তার জন্য নির্ধারিত আসন বা গ্যালারিতে বসবেন তিনি।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ: ৩৫ বছর পর ভোটের লড়াই

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক যাত্রা অবশ্য দীর্ঘদিনের। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া এই নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করলেও পরে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

বিএনপির নেতৃত্বেও মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ পথচলা রয়েছে। ২০০৯ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালে খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর এক দশকের বেশি সময় ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। জাতীয় সংসদেও একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন এবং সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন  মাইক্রোবাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল বিএনপি নেতার, আহত ২

এবার সেই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে রাষ্ট্রপতির পদে। ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে এখন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বড় সুযোগ। আগামীকাল শপথের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনের দায়িত্ব নেবেন তিনি। তার এই নতুন যাত্রা বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনি দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারেরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাবে।