নতুন একটি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর পর গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শনিবার দুপুর থেকে মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আবার পাইপলাইনে গ্যাস দেওয়া শুরু করেছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসের সংকট এখনই পুরোপুরি কাটছে না।
পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) দুই শীর্ষ কর্মকর্তা রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে টার্মিনাল থেকে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। রাতের দিকে এই পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশে প্রতিদিন গ্যাসের প্রয়োজন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু সর্বোচ্চ প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে গ্যাস পাওয়ার কথা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। বাকি অংশ আসে দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে।
গত কয়েক সপ্তাহে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ছিল। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এলএনজি সরবরাহ ছিল প্রায় ৫৮ কোটি ঘনফুট। বিকেলে তা বেড়ে ৬৮ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। রাতে ৭৫ কোটি ঘনফুট হলে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৩৭ কোটি ঘনফুটে দাঁড়াতে পারে।
এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে মূল সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে নতুন কার্গো না আসা। কম দামে এলএনজি সংগ্রহের লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কয়েকটি কার্গোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আগস্টে চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেগুলোর কোনোটিই সময়মতো আসেনি।
এর ফলে মহেশখালীর টার্মিনালগুলো প্রস্তুত থাকলেও পর্যাপ্ত এলএনজি পাওয়া যায়নি। টার্মিনাল থেকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় দেশের বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়ে। শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার পর ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করছে। বর্তমানে মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ আগস্ট এটি আবার সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না থাকায় আগের মজুত থেকেই সীমিত পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বুধবার বিকেল থেকে সেই সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়।
এক্সিলারেটের ঘাটতি সামাল দিতে তখন সামিটের টার্মিনাল থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গ্যাস নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় একপর্যায়ে সামিট থেকেও সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আরও চাপের মধ্যে পড়ে।
এদিকে চলতি মাসের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে আরও দুটি এলএনজি কার্গো পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি শনিবার দেশে পৌঁছেছে। আরেকটি কার্গো আগামী ২৬ অথবা ২৭ আগস্ট আসার কথা রয়েছে। কার্গো দুটি সময়মতো এলে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে নতুন কার্গো এলেও গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বড় থাকছে। তাই আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দ্রুতই পুরো সংকট দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে নিয়মিত এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।




























