ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোবটের চমক, ভাঙল বোল্টের ১০০ মিটারের রেকর্ড

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:১৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫

১০০ মিটার দৌড়ে গতি দেখাচ্ছে লাইটনিং রোবট। ছবি: সংগৃহীত

বোল্টের রেকর্ড কি তাহলে ভেঙেই গেল? উত্তরটা ‘হ্যাঁ’, আবার পুরোপুরি ‘হ্যাঁ’ও নয়। মানুষ হিসেবে উসাইন বোল্টের ১০০ মিটারের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড এখনো অক্ষত। তবে সেই সময়কে ছাড়িয়ে গেছে চীনের তৈরি এক হিউম্যানয়েড রোবট। ‘লাইটনিং’ নামের রোবটটি ১০০ মিটার শেষ করেছে মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে। বেইজিংয়ে ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস শুরুর আগে একটি প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায় এই সময় করেছে এটি।

বোল্টের রেকর্ডের সঙ্গে রোবটের এই দৌড়ের তুলনা স্বাভাবিকভাবেই চমকে দেওয়ার মতো। ২০০৯ সালে বার্লিন বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ৯.৫৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়ে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন জামাইকান কিংবদন্তি। ১৭ বছর ধরে সেই রেকর্ডের ধারেকাছেও যেতে পারেননি কোনো মানুষ। এবার সেই সময়ের চেয়ে ০.২৬ সেকেন্ড কম সময়ে দৌড় শেষ করেছে লাইটনিং। পরীক্ষার সময় রোবটটির সর্বোচ্চ গতি উঠেছিল ১৪.৫ মিটার/সেকেন্ড।

এই রোবটটি তৈরি করেছে চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Honor। নাম ‘লাইটনিং’ রাখার মধ্যেও যেন বোল্টের সঙ্গে এক অদ্ভুত মিল আছে। অবিশ্বাস্য গতির কারণে বোল্টের ডাকনাম ‘লাইটনিং বোল্ট’। আর এবার একই নামের এক যন্ত্রই দৌড়ের ট্র্যাকে এমন সময় তুলে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার—রোবটের ৯.৩২ সেকেন্ড সময়কে মানুষের অ্যাথলেটিকসের অফিসিয়াল বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। এটি প্রযুক্তিগত পরীক্ষার ফল।

লাইটনিংয়ের দৌড়ের গল্প অবশ্য ১০০ মিটারেই শেষ নয়। এর আগে এপ্রিল মাসে বেইজিংয়ের ২১ কিলোমিটার হিউম্যানয়েড রোবট হাফ ম্যারাথনে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছিল রোবটটি। তখন ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে জয় পেয়েছিল লাইটনিং। সেই পারফরম্যান্সও ছিল মানুষের জন্য অবিশ্বাস্য দ্রুততার। এবার স্বল্প দূরত্বের দৌড়ে গতি বাড়াতে গবেষকেরা রোবটটির কাঠামোতেও পরিবর্তন এনেছেন।

হাফ ম্যারাথনের সময় লাইটনিংয়ের উচ্চতা ছিল ১৬৯ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য ৯৫ সেন্টিমিটার। পরে ১০০ মিটারের মতো দ্রুতগতির দৌড়ের জন্য এর পায়ের দৈর্ঘ্য আরও ১০ সেন্টিমিটার বাড়ানো হয়েছে। এখন পায়ের দৈর্ঘ্য ১.০৫ মিটার। এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল এক ধাপে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা এবং দৌড়ের গতি বাড়ানো। একই সঙ্গে রোবটের জয়েন্ট বা সংযোগস্থলের মডিউলেও উন্নয়ন আনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বোল্টের রেকর্ড ছোঁয়ার এই ঘটনা তাই শুধু একটি দৌড়ের গল্প নয়; এটি রোবটিকস প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত। চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিউম্যানয়েড রোবটকে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে এগিয়ে নিচ্ছে। খেলাধুলার মাঠে রোবটের গতি, ভারসাম্য ও স্বয়ংক্রিয়তা পরীক্ষা করা হচ্ছে; একই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কারখানা, লজিস্টিকস ও নানা বাস্তব কাজেও ব্যবহার করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে ৯.৩২ সেকেন্ডের এই দৌড় হয়তো বোল্টের মানব রেকর্ড কেড়ে নেয়নি, কিন্তু প্রযুক্তির দৌড়ে যে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হাজির হয়েছে, সেটি বেশ জোরেই জানিয়ে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রোবটের চমক, ভাঙল বোল্টের ১০০ মিটারের রেকর্ড

Update Time : ১১:১৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

বোল্টের রেকর্ড কি তাহলে ভেঙেই গেল? উত্তরটা ‘হ্যাঁ’, আবার পুরোপুরি ‘হ্যাঁ’ও নয়। মানুষ হিসেবে উসাইন বোল্টের ১০০ মিটারের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড এখনো অক্ষত। তবে সেই সময়কে ছাড়িয়ে গেছে চীনের তৈরি এক হিউম্যানয়েড রোবট। ‘লাইটনিং’ নামের রোবটটি ১০০ মিটার শেষ করেছে মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে। বেইজিংয়ে ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস শুরুর আগে একটি প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায় এই সময় করেছে এটি।

বোল্টের রেকর্ডের সঙ্গে রোবটের এই দৌড়ের তুলনা স্বাভাবিকভাবেই চমকে দেওয়ার মতো। ২০০৯ সালে বার্লিন বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ৯.৫৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়ে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন জামাইকান কিংবদন্তি। ১৭ বছর ধরে সেই রেকর্ডের ধারেকাছেও যেতে পারেননি কোনো মানুষ। এবার সেই সময়ের চেয়ে ০.২৬ সেকেন্ড কম সময়ে দৌড় শেষ করেছে লাইটনিং। পরীক্ষার সময় রোবটটির সর্বোচ্চ গতি উঠেছিল ১৪.৫ মিটার/সেকেন্ড।

আরও পড়ুন  মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের ক্ষোভ, ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা

এই রোবটটি তৈরি করেছে চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Honor। নাম ‘লাইটনিং’ রাখার মধ্যেও যেন বোল্টের সঙ্গে এক অদ্ভুত মিল আছে। অবিশ্বাস্য গতির কারণে বোল্টের ডাকনাম ‘লাইটনিং বোল্ট’। আর এবার একই নামের এক যন্ত্রই দৌড়ের ট্র্যাকে এমন সময় তুলে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার—রোবটের ৯.৩২ সেকেন্ড সময়কে মানুষের অ্যাথলেটিকসের অফিসিয়াল বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। এটি প্রযুক্তিগত পরীক্ষার ফল।

লাইটনিংয়ের দৌড়ের গল্প অবশ্য ১০০ মিটারেই শেষ নয়। এর আগে এপ্রিল মাসে বেইজিংয়ের ২১ কিলোমিটার হিউম্যানয়েড রোবট হাফ ম্যারাথনে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছিল রোবটটি। তখন ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে জয় পেয়েছিল লাইটনিং। সেই পারফরম্যান্সও ছিল মানুষের জন্য অবিশ্বাস্য দ্রুততার। এবার স্বল্প দূরত্বের দৌড়ে গতি বাড়াতে গবেষকেরা রোবটটির কাঠামোতেও পরিবর্তন এনেছেন।

আরও পড়ুন  রোনালদোর গোপন বিয়ে? ভাইরাল নিমন্ত্রণপত্রে তোলপাড়

হাফ ম্যারাথনের সময় লাইটনিংয়ের উচ্চতা ছিল ১৬৯ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য ৯৫ সেন্টিমিটার। পরে ১০০ মিটারের মতো দ্রুতগতির দৌড়ের জন্য এর পায়ের দৈর্ঘ্য আরও ১০ সেন্টিমিটার বাড়ানো হয়েছে। এখন পায়ের দৈর্ঘ্য ১.০৫ মিটার। এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল এক ধাপে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা এবং দৌড়ের গতি বাড়ানো। একই সঙ্গে রোবটের জয়েন্ট বা সংযোগস্থলের মডিউলেও উন্নয়ন আনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ সিরিজের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার

বোল্টের রেকর্ড ছোঁয়ার এই ঘটনা তাই শুধু একটি দৌড়ের গল্প নয়; এটি রোবটিকস প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত। চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিউম্যানয়েড রোবটকে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে এগিয়ে নিচ্ছে। খেলাধুলার মাঠে রোবটের গতি, ভারসাম্য ও স্বয়ংক্রিয়তা পরীক্ষা করা হচ্ছে; একই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কারখানা, লজিস্টিকস ও নানা বাস্তব কাজেও ব্যবহার করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে ৯.৩২ সেকেন্ডের এই দৌড় হয়তো বোল্টের মানব রেকর্ড কেড়ে নেয়নি, কিন্তু প্রযুক্তির দৌড়ে যে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হাজির হয়েছে, সেটি বেশ জোরেই জানিয়ে দিয়েছে।