ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশু চিকিৎসককে চেম্বারে মারধরের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১

চিকিৎসকের ওপর হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার। (ছবি: সংগৃহীত)

ময়মনসিংহে এক পশু চিকিৎসকের চেম্বারে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের জিলা স্কুলের পাশের ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী চিকিৎসক আশিকুর রহমান শনিবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিবকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আশিকুরের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছিল এবং টাকা না দেওয়ায় তাকে ও পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো হয়।

চিকিৎসকের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় কয়েকজন চেম্বারে এসে অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে লোহার রড দিয়েও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

আশিকুর আরও জানান, তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা কর্মী ঈশান আহমেদও হামলার শিকার হন। তাঁর স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও জোর করে চেম্বার থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর চেম্বার থেকে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

চিকিৎসকের দাবি, ক্যাশবাক্সে থাকা ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার একটি ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে কয়েকজনকে চেম্বারে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরে এক নারী চিকিৎসককে জুতা দিয়ে আঘাত করেন। ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায় তালহাজুর রহমানকেও; একপর্যায়ে তিনিও চিকিৎসককে মারধর করেন।

তবে হামলার কারণ নিয়ে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে চাঁদার দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার পুলিশ চিকিৎসকের চেম্বারে যায় এবং পরে আশিকুর রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেন।

ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার:

এ ঘটনার পাশাপাশি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের আরেক নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের রহমানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায় জানান, আওয়ামী লীগের একটি মিছিলের সময় আবু তাহেরের উপস্থিতির কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অন্যদিকে চিকিৎসকের চেম্বারে হামলার ভিডিওকে গুরুত্ব দিয়ে তালহাজুর রহমানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

জনপ্রিয় সংবাদ

পশু চিকিৎসককে চেম্বারে মারধরের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

Update Time : ১১:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহে এক পশু চিকিৎসকের চেম্বারে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের জিলা স্কুলের পাশের ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী চিকিৎসক আশিকুর রহমান শনিবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিবকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আশিকুরের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছিল এবং টাকা না দেওয়ায় তাকে ও পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো হয়।

চিকিৎসকের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় কয়েকজন চেম্বারে এসে অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে লোহার রড দিয়েও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন  নতুন নৌপ্রধানকে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী

আশিকুর আরও জানান, তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা কর্মী ঈশান আহমেদও হামলার শিকার হন। তাঁর স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও জোর করে চেম্বার থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর চেম্বার থেকে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

চিকিৎসকের দাবি, ক্যাশবাক্সে থাকা ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার একটি ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে কয়েকজনকে চেম্বারে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরে এক নারী চিকিৎসককে জুতা দিয়ে আঘাত করেন। ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায় তালহাজুর রহমানকেও; একপর্যায়ে তিনিও চিকিৎসককে মারধর করেন।

আরও পড়ুন  আদালত ও অফিসের নতুন সময়সূচি ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের

তবে হামলার কারণ নিয়ে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে চাঁদার দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার পুলিশ চিকিৎসকের চেম্বারে যায় এবং পরে আশিকুর রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেন।

আরও পড়ুন  গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকার সহযোগী হতে চায়: স্বপন

ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার:

এ ঘটনার পাশাপাশি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের আরেক নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের রহমানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায় জানান, আওয়ামী লীগের একটি মিছিলের সময় আবু তাহেরের উপস্থিতির কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অন্যদিকে চিকিৎসকের চেম্বারে হামলার ভিডিওকে গুরুত্ব দিয়ে তালহাজুর রহমানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।