ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo খাদ্য অনিয়মে চট্টগ্রামে বড় জরিমানা, ফ্লেভারস-মেরিডিয়ানসহ ৪ প্রতিষ্ঠান Logo বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার Logo বাকলিয়া এক্সেস রোডে অটোরিকশার দাপট, বাড়ছে আতঙ্ক Logo কৃতি শ্যাননের বিজ্ঞাপন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, উঠল যেসব প্রশ্ন Logo অনুরাগ কাশ্যপের ২০ বছরের ছোট প্রেমিকা, ভয় কাটিয়ে সুখের ১১ বছর Logo দীর্ঘ বিরতির পর নতুন চমক নিয়ে ফিরছেন তানিম রহমান অংশু! Logo সাবিলা নূরের স্টাইলিশ হ্যাট লুক, মিষ্টি হাসিতে বাড়ল মুগ্ধতা Logo দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারেই কি মস্তিষ্কে টিউমার হয়? Logo কিয়ারা আদভানির অভিনয় ও গ্ল্যামার, নজর কাড়ছে বারবার

খাদ্য অনিয়মে চট্টগ্রামে বড় জরিমানা, ফ্লেভারস-মেরিডিয়ানসহ ৪ প্রতিষ্ঠান

খাদ্য অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা। | ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পচা-বাসি খাবার, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, পোকামাকড়ের উপস্থিতি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রমে এসব জরিমানা করা হয়। অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট মহলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেয়েছে।

আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা। অভিযানে ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারিতে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে পচা-বাসি মিষ্টির উচ্ছিষ্ট সংরক্ষণ, মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া মিষ্টি, কেক ও বিস্কুট এবং নিম্নমানের ঘি ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পোকাযুক্ত বাদাম ব্যবহারের বিষয়টিও ধরা পড়ে। এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

খাদ্য অনিয়মের তালিকায় এরপর আসে মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে খাদ্য তৈরির জায়গায় তেলাপোকার উপস্থিতি এবং পোকামাকড়যুক্ত ম্যাংগো পাল্প ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া পোড়া তেল ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিপস, নিমকি ও অন্যান্য খাবার তৈরির বিষয়ও পরিদর্শনে উঠে আসে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের উৎসব সুপার শপেও পাওয়া গেছে বেশ কিছু অনিয়ম। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোস, নষ্ট মসলা ও চকোলেট বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ এবং যথাযথ লেবেল ছাড়া বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রাখার বিষয়টি নজরে আসে। এসব কারণে উৎসব সুপার শপকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই কার্যক্রমে রিও ক্যাফে-মাজায়দারের বিরুদ্ধেও পচা-বাসি খাবার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

একসঙ্গে চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে খাবারের ক্ষেত্রে মেয়াদ, সংরক্ষণব্যবস্থা, উৎপাদন পরিবেশ ও উপকরণের মান ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামান্য অবহেলাও ভোক্তার জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু জরিমানার ভয়ে নয়, ভোক্তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম জানিয়েছেন, ভোক্তার নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। খাদ্যের মান ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিযান এবং আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক এই অভিযানে খাদ্য অনিয়মের বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা ভোক্তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

খাদ্য অনিয়মে চট্টগ্রামে বড় জরিমানা, ফ্লেভারস-মেরিডিয়ানসহ ৪ প্রতিষ্ঠান

Update Time : ১২:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

খাদ্য অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পচা-বাসি খাবার, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, পোকামাকড়ের উপস্থিতি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রমে এসব জরিমানা করা হয়। অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট মহলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেয়েছে।

আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা। অভিযানে ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারিতে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে পচা-বাসি মিষ্টির উচ্ছিষ্ট সংরক্ষণ, মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া মিষ্টি, কেক ও বিস্কুট এবং নিম্নমানের ঘি ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পোকাযুক্ত বাদাম ব্যবহারের বিষয়টিও ধরা পড়ে। এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্বীকৃতি দিল জাতিসংঘ

খাদ্য অনিয়মের তালিকায় এরপর আসে মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে খাদ্য তৈরির জায়গায় তেলাপোকার উপস্থিতি এবং পোকামাকড়যুক্ত ম্যাংগো পাল্প ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া পোড়া তেল ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিপস, নিমকি ও অন্যান্য খাবার তৈরির বিষয়ও পরিদর্শনে উঠে আসে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের উৎসব সুপার শপেও পাওয়া গেছে বেশ কিছু অনিয়ম। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোস, নষ্ট মসলা ও চকোলেট বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ এবং যথাযথ লেবেল ছাড়া বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রাখার বিষয়টি নজরে আসে। এসব কারণে উৎসব সুপার শপকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই কার্যক্রমে রিও ক্যাফে-মাজায়দারের বিরুদ্ধেও পচা-বাসি খাবার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

আরও পড়ুন  ওমরাহ ভিসায় নতুন শর্ত: সৌদিতে যেতে মানতে হবে যে নিয়ম

একসঙ্গে চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে খাবারের ক্ষেত্রে মেয়াদ, সংরক্ষণব্যবস্থা, উৎপাদন পরিবেশ ও উপকরণের মান ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামান্য অবহেলাও ভোক্তার জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু জরিমানার ভয়ে নয়, ভোক্তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ব্লু মুন আজ: বিরল আকাশঘটনা দেখার দারুণ সুযোগ

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম জানিয়েছেন, ভোক্তার নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। খাদ্যের মান ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিযান এবং আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক এই অভিযানে খাদ্য অনিয়মের বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা ভোক্তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা।