ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে বিশাল গ্যাস খনি আবিষ্কারের চমক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২০

ইরানের ফার্স প্রদেশে নতুন গ্যাস খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। | ছবি: সংগৃহীত

ইরানে গ্যাস খনি আবিষ্কারের খবর এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে। দক্ষিণাঞ্চলের ফার্স প্রদেশে সন্ধান পাওয়া নতুন এই গ্যাসক্ষেত্রে সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মোট মজুতের মধ্যে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য। ফলে নতুন এই আবিষ্কার ইরানের জ্বালানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদের বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, নতুন গ্যাসক্ষেত্রে আনুমানিক ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে। এর একটি বড় অংশ বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটি বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাস মজুতধারী দেশ হলেও নিষেধাজ্ঞা, বিনিয়োগ সংকট এবং প্রযুক্তিগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নিজেদের সম্পদের পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি।

নতুন আবিষ্কারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ। ইরানের বিখ্যাত সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ ফেইজ থেকে প্রায় ১৫ বছর ধরে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যেতে পারে, নতুন ক্ষেত্রটির উত্তোলনযোগ্য মজুত তার সমপরিমাণ বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী। অর্থাৎ ইরানে গ্যাস খনি আবিষ্কারটি শুধু আরেকটি নতুন ক্ষেত্র পাওয়ার খবর নয়; এটি দেশটির দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বড় সম্ভাবনা তৈরি করছে।

নতুন গ্যাসের আরেকটি সুবিধা রয়েছে এর গুণগত মানে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখানে পাওয়া গ্যাস ‘সুইট গ্যাস’ বা তুলনামূলক কম সালফারযুক্ত। সাধারণত কম সালফারের গ্যাস প্রক্রিয়াজাত ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। ফলে এই গ্যাসকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে তুলনামূলক কম খরচ ও কম জটিলতা হতে পারে বলে আশা করছে তেহরান। জ্বালানি উৎপাদনের খরচ কম রাখতে পারলে ভবিষ্যতে এই আবিষ্কার ইরানের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, নতুন ক্ষেত্রটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস কনডেনসেট থাকার কথাও জানিয়েছেন ইরানের তেলমন্ত্রী। গ্যাস উৎপাদনের সঙ্গে পাওয়া এই তরল হাইড্রোকার্বন আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরানের জন্য বাড়তি বৈদেশিক আয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সম্পদ দ্রুত উন্নয়ন করা গেলে জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হতে পারে।

এই আবিষ্কারের সময়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া শত্রুতার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ে। পরে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংঘাত কিছুটা থামানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিয়ম নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় নতুন আলোচনা আবারও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানে গ্যাস খনি আবিষ্কার দেশটির জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দুই ধরনের গুরুত্ব বহন করতে পারে। বিপুল গ্যাস মজুত থাকলে ইরান নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করতে পারবে। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে বাস্তবে সেই সম্ভাবনা কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে অবকাঠামো, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ওপর।

ইরানের জন্য আরেকটি বড় বিষয় হলো সাউথ পার্সের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা। দেশটির গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই বিশাল ক্ষেত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হলে উৎপাদনের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ তৈরি হয়। এতে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বিকল্প তৈরি হতে পারে।

তবে গ্যাসের মজুত পাওয়া এবং সেটি বাজারে নিয়ে আসা এক বিষয় নয়। নতুন ক্ষেত্রের পূর্ণাঙ্গ জরিপ, অবকাঠামো নির্মাণ, কূপ খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা এবং পরিবহন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সময় ও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। ইরানের ওপর থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এসব কাজকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বিদেশি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা থাকলে বিশাল মজুত থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

তারপরও নতুন আবিষ্কারটি ইরানের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক খবর। বিশেষ করে গ্যাসের সঙ্গে কনডেনসেটের উপস্থিতি এবং তুলনামূলক কম সালফারযুক্ত গ্যাসের কারণে ক্ষেত্রটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদি পরিকল্পিতভাবে উত্তোলন শুরু করা যায়, তাহলে এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানি আয়েও অবদান রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে ইরানে গ্যাস খনি আবিষ্কার মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধান ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা শক্তিশালী করার সুযোগ দিচ্ছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, তেহরান কত দ্রুত এই গ্যাস মজুতকে বাস্তব উৎপাদনে রূপ দিতে পারে। সেই সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করবে নতুন এই আবিষ্কার ইরানের জন্য কতটা বড় অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে বিশাল গ্যাস খনি আবিষ্কারের চমক

Update Time : ০৮:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ইরানে গ্যাস খনি আবিষ্কারের খবর এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে। দক্ষিণাঞ্চলের ফার্স প্রদেশে সন্ধান পাওয়া নতুন এই গ্যাসক্ষেত্রে সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মোট মজুতের মধ্যে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য। ফলে নতুন এই আবিষ্কার ইরানের জ্বালানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদের বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, নতুন গ্যাসক্ষেত্রে আনুমানিক ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে। এর একটি বড় অংশ বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটি বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাস মজুতধারী দেশ হলেও নিষেধাজ্ঞা, বিনিয়োগ সংকট এবং প্রযুক্তিগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নিজেদের সম্পদের পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি।

নতুন আবিষ্কারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ। ইরানের বিখ্যাত সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ ফেইজ থেকে প্রায় ১৫ বছর ধরে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যেতে পারে, নতুন ক্ষেত্রটির উত্তোলনযোগ্য মজুত তার সমপরিমাণ বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী। অর্থাৎ ইরানে গ্যাস খনি আবিষ্কারটি শুধু আরেকটি নতুন ক্ষেত্র পাওয়ার খবর নয়; এটি দেশটির দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বড় সম্ভাবনা তৈরি করছে।

আরও পড়ুন  ডিজেল আমদানি প্রস্তাব স্থগিত: কেন বৈঠকে উঠল না ১৬ লাখ টনের অনুমোদন?

নতুন গ্যাসের আরেকটি সুবিধা রয়েছে এর গুণগত মানে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখানে পাওয়া গ্যাস ‘সুইট গ্যাস’ বা তুলনামূলক কম সালফারযুক্ত। সাধারণত কম সালফারের গ্যাস প্রক্রিয়াজাত ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। ফলে এই গ্যাসকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে তুলনামূলক কম খরচ ও কম জটিলতা হতে পারে বলে আশা করছে তেহরান। জ্বালানি উৎপাদনের খরচ কম রাখতে পারলে ভবিষ্যতে এই আবিষ্কার ইরানের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, নতুন ক্ষেত্রটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস কনডেনসেট থাকার কথাও জানিয়েছেন ইরানের তেলমন্ত্রী। গ্যাস উৎপাদনের সঙ্গে পাওয়া এই তরল হাইড্রোকার্বন আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরানের জন্য বাড়তি বৈদেশিক আয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সম্পদ দ্রুত উন্নয়ন করা গেলে জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হতে পারে।

এই আবিষ্কারের সময়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া শত্রুতার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ে। পরে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংঘাত কিছুটা থামানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিয়ম নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় নতুন আলোচনা আবারও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান-মার্কিন চুক্তি: নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন

এমন পরিস্থিতিতে ইরানে গ্যাস খনি আবিষ্কার দেশটির জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দুই ধরনের গুরুত্ব বহন করতে পারে। বিপুল গ্যাস মজুত থাকলে ইরান নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করতে পারবে। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে বাস্তবে সেই সম্ভাবনা কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে অবকাঠামো, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ওপর।

ইরানের জন্য আরেকটি বড় বিষয় হলো সাউথ পার্সের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা। দেশটির গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই বিশাল ক্ষেত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হলে উৎপাদনের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ তৈরি হয়। এতে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বিকল্প তৈরি হতে পারে।

তবে গ্যাসের মজুত পাওয়া এবং সেটি বাজারে নিয়ে আসা এক বিষয় নয়। নতুন ক্ষেত্রের পূর্ণাঙ্গ জরিপ, অবকাঠামো নির্মাণ, কূপ খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা এবং পরিবহন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সময় ও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। ইরানের ওপর থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এসব কাজকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বিদেশি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা থাকলে বিশাল মজুত থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুন  ইরানের প্রথম রাডার স্যাটেলাইট উদ্বোধন শিগগির, মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন অগ্রগতি

তারপরও নতুন আবিষ্কারটি ইরানের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক খবর। বিশেষ করে গ্যাসের সঙ্গে কনডেনসেটের উপস্থিতি এবং তুলনামূলক কম সালফারযুক্ত গ্যাসের কারণে ক্ষেত্রটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদি পরিকল্পিতভাবে উত্তোলন শুরু করা যায়, তাহলে এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানি আয়েও অবদান রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে ইরানে গ্যাস খনি আবিষ্কার মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধান ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা শক্তিশালী করার সুযোগ দিচ্ছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, তেহরান কত দ্রুত এই গ্যাস মজুতকে বাস্তব উৎপাদনে রূপ দিতে পারে। সেই সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করবে নতুন এই আবিষ্কার ইরানের জন্য কতটা বড় অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে।