ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সোনার খনি আবিষ্কারে কেনিয়ায় চমক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৮

কেনিয়ার চেপোরোর গ্রামে সোনার সন্ধানে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ। | ছবি: সংগৃহীত

কেনিয়ায় সোনার খনি—একটি হারানো ছাগল খুঁজতে গিয়ে শুরু হয়েছিল যে গল্প, তা এখন রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামের এক ছাগলপালক নদীর তীরে সোনা অনুসন্ধানরত কয়েকজন নারীর সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেই ৩৩ বছর বয়সি মানাসে লোমাচারের ভাগ্য খুলে যায়। তিনি সোনার সন্ধান পান এবং মাত্র ৩ গ্রাম সোনা বিক্রি করে প্রায় ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিং আয় করেন, যা প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলারের সমান। তার এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বদলে যায় পুরো এলাকার চিত্র।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চেপোরোরে শুরু হয়ে যায় এক ধরনের ‘গোল্ড রাশ’। সোনার সন্ধানে সেখানে ভিড় করতে থাকেন হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, একসময় এই প্রত্যন্ত এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। অথচ এর কিছুদিন আগেও জায়গাটি ছিল মূলত ঝোপঝাড় ও পশুচারণের এলাকা। এখন সেখানে চোখে পড়ছে অসংখ্য গর্ত, মাটির স্তূপ এবং অস্থায়ী খনিশিবির। মানুষের সংখ্যা বর্তমানে কমে প্রায় আড়াই হাজারে নেমে এলেও সোনা অনুসন্ধানের কাজ থামেনি।

তবে শুধু লোমাচারের পাওয়া সোনার কারণেই যে এত মানুষের ভিড় হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, একই সময়ে ওই এলাকায় আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সোনার সন্ধান পাওয়া যায়। আগস্টের শুরুতে একদল তরুণ তুলনামূলক বড় পরিমাণের সোনা খুঁজে পান। পরদিন একই এলাকায় কয়েকজন নারীও সোনা পাওয়ার খবর দেন। এরপর স্থানীয়দের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে নানা গল্প। সেই গল্পের সঙ্গে অতিরঞ্জন যোগ হওয়ায় চেপোরোরকে অনেকের কাছে রাতারাতি ভাগ্য বদলের জায়গা বলে মনে হতে থাকে।

কেনিয়ায় সোনার খনি ঘিরে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা দেশের সীমান্ত পেরিয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। পাশের দেশ উগান্ডা থেকেও অনেকে সেখানে ছুটে এসেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক যোগাযোগ থাকায় চেপোরোরের সোনার খবর দ্রুত উগান্ডার বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যায়। উগান্ডার বুসিয়া থেকে মুগিশা গডফ্রে নামের এক খনিশ্রমিকও বন্ধুর কাছ থেকে খবর পেয়ে সেখানে যান। সেখানে পৌঁছাতে তার প্রায় ২৭ ডলার খরচ হলেও এখনো এক টুকরো সোনার দেখা পাননি। তারপরও তিনি খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় নারীদের জন্য অবশ্য সোনা অনুসন্ধান একেবারে নতুন কোনো কাজ নয়। তারা বহু বছর ধরে ওই অঞ্চলের নদীর তীরে ছোট পরিসরে সোনা খুঁজে আসছেন। সাধারণত এ কাজ থেকে সপ্তাহে প্রায় ৮ থেকে ২৩ ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। কিন্তু নতুন করে বড় পরিমাণ সোনা পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় এবার তাদের পাশাপাশি অভিজ্ঞতাহীন বহু মানুষও খননকাজে নেমেছেন। কেউ হাতে সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে মাটি খুঁড়ছেন, আবার কেউ আরও গভীরে গিয়ে মূল্যবান ধাতুর সন্ধান করছেন।

সোনার সন্ধানে মানুষের ঢল নামার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে স্থানীয় অর্থনীতিও। খনিস্থলের আশপাশে ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। পানি, খাবার, রুটি, দুধ, কোমল পানীয়সহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা সেখানে বসছেন। প্রতিবেশী বারিঙ্গো কাউন্টি থেকে আসা আইরিন আমেজাও এমন একটি ব্যবসা শুরু করেছেন। পানি ও খাবার বিক্রি করে আয় বাড়িয়ে নিজের ব্যবসা আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। অর্থাৎ সোনা এখন শুধু খনিশ্রমিকদের নয়, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

তবে এই আকস্মিক জনসমাগমের সঙ্গে বেড়েছে নানা ঝুঁকিও। প্রত্যন্ত এলাকায় এত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন এবং থাকার ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাত কাটানোর নিরাপদ জায়গার অভাব এবং বিপুলসংখ্যক পুরুষের উপস্থিতির কারণে যৌন সহিংসতাসহ বিভিন্ন অপরাধের আশঙ্কা করছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা টহল বাড়ানো হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। শিশু-কিশোররা যেন সোনা খোঁজার কাজে জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।

খনিশ্রমিকদের আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো গভীর গর্ত তৈরি করা। সোনা পাওয়ার আশায় তারা ক্রমেই মাটির আরও নিচে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে কয়েক ট্রাক মাটি ও পাথর কাছের ওর্তুম শহরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। সেখান থেকে পাওয়া ফলাফল বিশ্লেষণ করা গেলে চেপোরোরের মাটির নিচে আসলে কতটা সোনা রয়েছে, সে সম্পর্কে তুলনামূলক পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত পাওয়া সোনার মূল্য কয়েকশ কেনিয়ান শিলিং থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ হাজার শিলিং বা ৬০০ ডলার পর্যন্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই এলাকায় সত্যিই কি বড় ধরনের বাণিজ্যিক স্বর্ণখনি রয়েছে? এখনো তার নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি। অল্প পরিমাণে সোনা পাওয়া মানেই বড় মজুত থাকার নিশ্চয়তা নয়। ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষা, মাটির নমুনা বিশ্লেষণ এবং পেশাদার অনুসন্ধান ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে সোনা উত্তোলনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করা কঠিন। তারপরও স্থানীয়দের আশা, আরও অনুসন্ধান চালালে সোনার পাশাপাশি অন্য মূল্যবান খনিজেরও সন্ধান মিলতে পারে।

মানাসে লোমাচার অবশ্য এই খনন বন্ধের পক্ষে নন। বরং তিনি সরকারের কাছে স্থানীয় মানুষকে নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে সোনা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্রসহ আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, প্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালাতে পারলে শুধু ব্যক্তিগত আয় নয়, পুরো এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।

দারিদ্র্যপীড়িত চেপোরোর গ্রামের মানুষের জন্য তাই এই সোনার গল্প শুধু আকস্মিক সৌভাগ্যের গল্প নয়। এটি তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কাজে লাগবে, তা নির্ভর করবে সরকারি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ খননব্যবস্থা এবং মাটির নিচে প্রকৃত সোনার মজুতের ওপর। হারানো ছাগল খুঁজতে গিয়ে যে মানুষটি কয়েক গ্রাম সোনা পেয়েছিলেন, তার সেই ছোট আবিষ্কার এখন পুরো একটি গ্রামকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধে বড় উদ্যোগ

সোনার খনি আবিষ্কারে কেনিয়ায় চমক

Update Time : ০৮:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

কেনিয়ায় সোনার খনি—একটি হারানো ছাগল খুঁজতে গিয়ে শুরু হয়েছিল যে গল্প, তা এখন রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামের এক ছাগলপালক নদীর তীরে সোনা অনুসন্ধানরত কয়েকজন নারীর সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেই ৩৩ বছর বয়সি মানাসে লোমাচারের ভাগ্য খুলে যায়। তিনি সোনার সন্ধান পান এবং মাত্র ৩ গ্রাম সোনা বিক্রি করে প্রায় ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিং আয় করেন, যা প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলারের সমান। তার এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বদলে যায় পুরো এলাকার চিত্র।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চেপোরোরে শুরু হয়ে যায় এক ধরনের ‘গোল্ড রাশ’। সোনার সন্ধানে সেখানে ভিড় করতে থাকেন হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, একসময় এই প্রত্যন্ত এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। অথচ এর কিছুদিন আগেও জায়গাটি ছিল মূলত ঝোপঝাড় ও পশুচারণের এলাকা। এখন সেখানে চোখে পড়ছে অসংখ্য গর্ত, মাটির স্তূপ এবং অস্থায়ী খনিশিবির। মানুষের সংখ্যা বর্তমানে কমে প্রায় আড়াই হাজারে নেমে এলেও সোনা অনুসন্ধানের কাজ থামেনি।

তবে শুধু লোমাচারের পাওয়া সোনার কারণেই যে এত মানুষের ভিড় হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, একই সময়ে ওই এলাকায় আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সোনার সন্ধান পাওয়া যায়। আগস্টের শুরুতে একদল তরুণ তুলনামূলক বড় পরিমাণের সোনা খুঁজে পান। পরদিন একই এলাকায় কয়েকজন নারীও সোনা পাওয়ার খবর দেন। এরপর স্থানীয়দের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে নানা গল্প। সেই গল্পের সঙ্গে অতিরঞ্জন যোগ হওয়ায় চেপোরোরকে অনেকের কাছে রাতারাতি ভাগ্য বদলের জায়গা বলে মনে হতে থাকে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্প-সৌদি যুবরাজ দ্বন্দ্বে নতুন মোড়, ইরান যুদ্ধের নেপথ্য কাহিনি

কেনিয়ায় সোনার খনি ঘিরে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা দেশের সীমান্ত পেরিয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। পাশের দেশ উগান্ডা থেকেও অনেকে সেখানে ছুটে এসেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক যোগাযোগ থাকায় চেপোরোরের সোনার খবর দ্রুত উগান্ডার বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যায়। উগান্ডার বুসিয়া থেকে মুগিশা গডফ্রে নামের এক খনিশ্রমিকও বন্ধুর কাছ থেকে খবর পেয়ে সেখানে যান। সেখানে পৌঁছাতে তার প্রায় ২৭ ডলার খরচ হলেও এখনো এক টুকরো সোনার দেখা পাননি। তারপরও তিনি খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় নারীদের জন্য অবশ্য সোনা অনুসন্ধান একেবারে নতুন কোনো কাজ নয়। তারা বহু বছর ধরে ওই অঞ্চলের নদীর তীরে ছোট পরিসরে সোনা খুঁজে আসছেন। সাধারণত এ কাজ থেকে সপ্তাহে প্রায় ৮ থেকে ২৩ ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। কিন্তু নতুন করে বড় পরিমাণ সোনা পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় এবার তাদের পাশাপাশি অভিজ্ঞতাহীন বহু মানুষও খননকাজে নেমেছেন। কেউ হাতে সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে মাটি খুঁড়ছেন, আবার কেউ আরও গভীরে গিয়ে মূল্যবান ধাতুর সন্ধান করছেন।

সোনার সন্ধানে মানুষের ঢল নামার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে স্থানীয় অর্থনীতিও। খনিস্থলের আশপাশে ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। পানি, খাবার, রুটি, দুধ, কোমল পানীয়সহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা সেখানে বসছেন। প্রতিবেশী বারিঙ্গো কাউন্টি থেকে আসা আইরিন আমেজাও এমন একটি ব্যবসা শুরু করেছেন। পানি ও খাবার বিক্রি করে আয় বাড়িয়ে নিজের ব্যবসা আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। অর্থাৎ সোনা এখন শুধু খনিশ্রমিকদের নয়, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন  মিসৌরি বিমান দুর্ঘটনা: ১১ স্কাইডাইভারসহ পাইলট নিহত

তবে এই আকস্মিক জনসমাগমের সঙ্গে বেড়েছে নানা ঝুঁকিও। প্রত্যন্ত এলাকায় এত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন এবং থাকার ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাত কাটানোর নিরাপদ জায়গার অভাব এবং বিপুলসংখ্যক পুরুষের উপস্থিতির কারণে যৌন সহিংসতাসহ বিভিন্ন অপরাধের আশঙ্কা করছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা টহল বাড়ানো হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। শিশু-কিশোররা যেন সোনা খোঁজার কাজে জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।

খনিশ্রমিকদের আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো গভীর গর্ত তৈরি করা। সোনা পাওয়ার আশায় তারা ক্রমেই মাটির আরও নিচে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে কয়েক ট্রাক মাটি ও পাথর কাছের ওর্তুম শহরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। সেখান থেকে পাওয়া ফলাফল বিশ্লেষণ করা গেলে চেপোরোরের মাটির নিচে আসলে কতটা সোনা রয়েছে, সে সম্পর্কে তুলনামূলক পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত পাওয়া সোনার মূল্য কয়েকশ কেনিয়ান শিলিং থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ হাজার শিলিং বা ৬০০ ডলার পর্যন্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  ১০০ বছরেও থামেননি! নাতির সঙ্গে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির

তবে এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই এলাকায় সত্যিই কি বড় ধরনের বাণিজ্যিক স্বর্ণখনি রয়েছে? এখনো তার নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি। অল্প পরিমাণে সোনা পাওয়া মানেই বড় মজুত থাকার নিশ্চয়তা নয়। ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষা, মাটির নমুনা বিশ্লেষণ এবং পেশাদার অনুসন্ধান ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে সোনা উত্তোলনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করা কঠিন। তারপরও স্থানীয়দের আশা, আরও অনুসন্ধান চালালে সোনার পাশাপাশি অন্য মূল্যবান খনিজেরও সন্ধান মিলতে পারে।

মানাসে লোমাচার অবশ্য এই খনন বন্ধের পক্ষে নন। বরং তিনি সরকারের কাছে স্থানীয় মানুষকে নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে সোনা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্রসহ আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, প্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালাতে পারলে শুধু ব্যক্তিগত আয় নয়, পুরো এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।

দারিদ্র্যপীড়িত চেপোরোর গ্রামের মানুষের জন্য তাই এই সোনার গল্প শুধু আকস্মিক সৌভাগ্যের গল্প নয়। এটি তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কাজে লাগবে, তা নির্ভর করবে সরকারি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ খননব্যবস্থা এবং মাটির নিচে প্রকৃত সোনার মজুতের ওপর। হারানো ছাগল খুঁজতে গিয়ে যে মানুষটি কয়েক গ্রাম সোনা পেয়েছিলেন, তার সেই ছোট আবিষ্কার এখন পুরো একটি গ্রামকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।