ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo যশের ‘টক্সিক’ মুক্তির পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে রুক্মিণী বসন্ত। Logo নেপালের দুর্যোগে আটকা তাসরিফ খান, ২ দিনেও দেশে ফেরা হয়নি Logo মিরসরাইয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরা হলো না দুই বন্ধুর Logo ‘দুধভাত হওয়ার বয়স শেষ’, শৈশব নিয়ে ফারিণের মায়াময় কথা Logo অপু বিশ্বাস: নেপাল থেকে ফিরেই জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা Logo চুনতি অভয়ারণ্য, বন পুনরুদ্ধারে শুরু বিশেষ প্রশিক্ষণ Logo ফেসবুক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর। Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার যানজট, চরম ভোগান্তি Logo ইন্দোনেশিয়ার তারকা আগনেজ মো, এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে Logo মস্তিষ্কে টিউমার শোনার পর যেন থমকে গিয়েছিল বিজি ফিলিপসের জীবন।

ইন্দোনেশিয়ার তারকা আগনেজ মো, এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে

প্রায় ১৫ বছর পর অভিনয়ে ফিরেছেন আগনেজ মো। ছবি: সংগৃহীত।

ইন্দোনেশিয়ার বিনোদনজগতের পরিচিত মুখ আগনেজ মো এবার আন্তর্জাতিক দর্শকের নজর কেড়েছেন ‘রিচার’ সিরিজের চতুর্থ মৌসুমে অভিনয় করে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গান, অভিনয়, নাচ ও টেলিভিশন উপস্থাপনায় নিজের অবস্থান তৈরি করা এই তারকা এবার লিলা হথ চরিত্রে দেখা দিয়েছেন। ১২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন মৌসুমে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় অবশ্য আগনেজ মোকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির বিনোদনজগতে সক্রিয় তিনি।

মাত্র ছয় বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন আগনেজ মো। ১৯৮৬ সালের ১ জুলাই জাকার্তায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর আসল নাম অ্যাগনেস মনিকা মুলজোতো। শিশুশিল্পী হিসেবে গান ও টেলিভিশন উপস্থাপনার পাশাপাশি অভিনয়েও দ্রুত জনপ্রিয়তা পান তিনি। ২০০১ সালে ‘পেরনিকাহান দিনি’ নাটকে অভিনয় তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। এরপর ইন্দোনেশিয়ার একাধিক জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজে কাজ করেন। তাইওয়ানের ‘দ্য হসপিটাল’ এবং ‘রোমান্স ইন দ্য হোয়াইট হাউস’-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রযোজনাতেও তাঁকে দেখা গেছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন আগনেজ। ২০০৩ সালে ‘অ্যান্ড দ্য স্টোরি গোয়েজ’ অ্যালবামের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক পপ তারকা হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করেন। পরে ‘হোয়াড্ডাপ এ…?’ ও ‘সেক্রেডলি অ্যাগনেশিয়াস’-এর মতো অ্যালবাম তাঁকে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ সংগীতশিল্পীদের কাতারে নিয়ে যায়। ‘ইন্দোনেশিয়ান আইডল’ ও ‘দ্য ভয়েস অব ইন্দোনেশিয়া’-এর মতো অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের জায়গা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ইংরেজি ভাষার গান প্রকাশ করেন। টি আই, টিম্বাল্যান্ড, ক্রিস ব্রাউন, ফ্রেঞ্চ মন্টানা ও স্টিভ আওকির মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৯ সালে আইহার্ট রেডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে সোশ্যাল স্টার পুরস্কারও পান।

প্রায় ১৫ বছর পর অভিনয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত আগনেজের জন্য ছিল বিশেষ। ‘রিচার’-এর লিলা হথ চরিত্রের জন্য অডিশন দেওয়ার সময় তিনি চাননি তাঁর সংগীতজগতের পরিচিতি কোনোভাবে কাজে লাগুক। বরং অভিনয়ের যোগ্যতার ভিত্তিতেই চরিত্রটি পেতে চেয়েছিলেন। অডিশনের পর কলব্যাক ও কেমিস্ট্রি টেস্টের ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত লিলা চরিত্রে নির্বাচিত হন। গল্পে লিলা তাঁর মা আমিশা হথকে নিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় আসে। লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত লিলা তার জৈবিক বাবা কংগ্রেসম্যান জন স্যাম্পসনের খোঁজ করছে, কারণ তাঁর কাছ থেকেই অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। পরে ঘটনাটি জ্যাক রিচারের তদন্তের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়। লিলার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি গায়িকা আংগুন।

লিলা চরিত্রটি আগনেজের কাছে আকর্ষণীয় হওয়ার অন্যতম কারণ এর জটিলতা। তাঁর মতে, লিলা বাইরে থেকে দৃঢ় ও বুদ্ধিমান হলেও নিজের ভেতরে অনেক কিছু লুকিয়ে রাখে। পরিস্থিতির চাপে তার আচরণ বদলায় এবং তাকে সহজে ভালো বা খারাপ কোনো একটি পরিচয়ে আটকে রাখা যায় না। গান ও অভিনয়কেও আলাদা করে দেখেন না আগনেজ। তাঁর কাছে দুটিই গল্প বলার মাধ্যম। অভিনয় মানুষের আবেগ ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে সাহায্য করেছে, যা সংগীতশিল্পী হিসেবেও তাঁকে আরও পরিণত করেছে। তাঁর কাছে দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনুভূতির সততা।

‘রিচার’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আগনেজ মো এখন নতুন আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ায় তিনি বহু আগেই প্রতিষ্ঠিত তারকা হলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের দর্শকদের কাছে লিলা হথ চরিত্রটিই তাঁর পরিচয়ের নতুন দরজা খুলতে পারে। সিরিজটির জনপ্রিয়তাও সেই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে। তৃতীয় মৌসুমের প্রথম ১৯ দিনে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৪৬ লাখ দর্শক সিরিজটি দেখেছিলেন। চতুর্থ মৌসুম মুক্তির আগেই পঞ্চম মৌসুমের অনুমোদনও দিয়েছে অ্যামাজন। এরই মধ্যে ‘রিচার’-এ অভিনয়ের পর আইএমডিবিতে আগনেজ মো একসময় ষষ্ঠ সর্বাধিক ট্রেন্ডিং তারকা হয়েছিলেন। ফলে ১৫ বছর পর তাঁর অভিনয়ে ফেরা শুধু প্রত্যাবর্তন নয়, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ের সূচনাও হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশের ‘টক্সিক’ মুক্তির পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে রুক্মিণী বসন্ত।

ইন্দোনেশিয়ার তারকা আগনেজ মো, এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে

Update Time : ১১:২২:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার বিনোদনজগতের পরিচিত মুখ আগনেজ মো এবার আন্তর্জাতিক দর্শকের নজর কেড়েছেন ‘রিচার’ সিরিজের চতুর্থ মৌসুমে অভিনয় করে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গান, অভিনয়, নাচ ও টেলিভিশন উপস্থাপনায় নিজের অবস্থান তৈরি করা এই তারকা এবার লিলা হথ চরিত্রে দেখা দিয়েছেন। ১২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন মৌসুমে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় অবশ্য আগনেজ মোকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির বিনোদনজগতে সক্রিয় তিনি।

মাত্র ছয় বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন আগনেজ মো। ১৯৮৬ সালের ১ জুলাই জাকার্তায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর আসল নাম অ্যাগনেস মনিকা মুলজোতো। শিশুশিল্পী হিসেবে গান ও টেলিভিশন উপস্থাপনার পাশাপাশি অভিনয়েও দ্রুত জনপ্রিয়তা পান তিনি। ২০০১ সালে ‘পেরনিকাহান দিনি’ নাটকে অভিনয় তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। এরপর ইন্দোনেশিয়ার একাধিক জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজে কাজ করেন। তাইওয়ানের ‘দ্য হসপিটাল’ এবং ‘রোমান্স ইন দ্য হোয়াইট হাউস’-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রযোজনাতেও তাঁকে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন  ৪০ পেরিয়ে হলিউডে নতুন নজির জেনিফার গার্নারের

অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন আগনেজ। ২০০৩ সালে ‘অ্যান্ড দ্য স্টোরি গোয়েজ’ অ্যালবামের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক পপ তারকা হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করেন। পরে ‘হোয়াড্ডাপ এ…?’ ও ‘সেক্রেডলি অ্যাগনেশিয়াস’-এর মতো অ্যালবাম তাঁকে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ সংগীতশিল্পীদের কাতারে নিয়ে যায়। ‘ইন্দোনেশিয়ান আইডল’ ও ‘দ্য ভয়েস অব ইন্দোনেশিয়া’-এর মতো অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের জায়গা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ইংরেজি ভাষার গান প্রকাশ করেন। টি আই, টিম্বাল্যান্ড, ক্রিস ব্রাউন, ফ্রেঞ্চ মন্টানা ও স্টিভ আওকির মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৯ সালে আইহার্ট রেডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে সোশ্যাল স্টার পুরস্কারও পান।

প্রায় ১৫ বছর পর অভিনয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত আগনেজের জন্য ছিল বিশেষ। ‘রিচার’-এর লিলা হথ চরিত্রের জন্য অডিশন দেওয়ার সময় তিনি চাননি তাঁর সংগীতজগতের পরিচিতি কোনোভাবে কাজে লাগুক। বরং অভিনয়ের যোগ্যতার ভিত্তিতেই চরিত্রটি পেতে চেয়েছিলেন। অডিশনের পর কলব্যাক ও কেমিস্ট্রি টেস্টের ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত লিলা চরিত্রে নির্বাচিত হন। গল্পে লিলা তাঁর মা আমিশা হথকে নিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় আসে। লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত লিলা তার জৈবিক বাবা কংগ্রেসম্যান জন স্যাম্পসনের খোঁজ করছে, কারণ তাঁর কাছ থেকেই অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। পরে ঘটনাটি জ্যাক রিচারের তদন্তের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়। লিলার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি গায়িকা আংগুন।

আরও পড়ুন  স্ক্রিন টাইম কি সবসময় ক্ষতিকর? মিলল নতুন তথ্য

লিলা চরিত্রটি আগনেজের কাছে আকর্ষণীয় হওয়ার অন্যতম কারণ এর জটিলতা। তাঁর মতে, লিলা বাইরে থেকে দৃঢ় ও বুদ্ধিমান হলেও নিজের ভেতরে অনেক কিছু লুকিয়ে রাখে। পরিস্থিতির চাপে তার আচরণ বদলায় এবং তাকে সহজে ভালো বা খারাপ কোনো একটি পরিচয়ে আটকে রাখা যায় না। গান ও অভিনয়কেও আলাদা করে দেখেন না আগনেজ। তাঁর কাছে দুটিই গল্প বলার মাধ্যম। অভিনয় মানুষের আবেগ ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে সাহায্য করেছে, যা সংগীতশিল্পী হিসেবেও তাঁকে আরও পরিণত করেছে। তাঁর কাছে দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনুভূতির সততা।

আরও পড়ুন  লিওনেল মেসি স্পাইডার-ম্যান প্রচারণায়, পারিশ্রমিক শুনে চোখ কপালে!

‘রিচার’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আগনেজ মো এখন নতুন আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ায় তিনি বহু আগেই প্রতিষ্ঠিত তারকা হলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের দর্শকদের কাছে লিলা হথ চরিত্রটিই তাঁর পরিচয়ের নতুন দরজা খুলতে পারে। সিরিজটির জনপ্রিয়তাও সেই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে। তৃতীয় মৌসুমের প্রথম ১৯ দিনে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৪৬ লাখ দর্শক সিরিজটি দেখেছিলেন। চতুর্থ মৌসুম মুক্তির আগেই পঞ্চম মৌসুমের অনুমোদনও দিয়েছে অ্যামাজন। এরই মধ্যে ‘রিচার’-এ অভিনয়ের পর আইএমডিবিতে আগনেজ মো একসময় ষষ্ঠ সর্বাধিক ট্রেন্ডিং তারকা হয়েছিলেন। ফলে ১৫ বছর পর তাঁর অভিনয়ে ফেরা শুধু প্রত্যাবর্তন নয়, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ের সূচনাও হতে পারে।