চায়ে চিনি খাওয়া ভালো নয়-এ কথা জানার পর অনেকেই বিকল্প হিসেবে গুড় বা মধু বেছে নিচ্ছেন।তাদের ধারণা, চিনি পরিশোধিত হলেও গুড় ও মধু প্রাকৃতিক হওয়ায় এগুলো তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিনির বদলে গুড় বা মধু ব্যবহার করলেই চা স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না।
কারণ তিনটিতেই থাকা মিষ্টিজাতীয় শর্করা শরীরে গিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।
চিনি, গুড় ও মধু-তিন ধরনের মিষ্টি উপাদানের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও মূল বিষয় হলো পরিমাণ।চিনিতে মূলত সুক্রোজ থাকে, আর গুড় ও মধুতেও বিভিন্ন ধরনের শর্করা ও ক্যালোরি রয়েছে।তাই চায়ের সঙ্গে যেকোনো একটি মিষ্টি উপাদান নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।বিশেষ করে যারা প্রতিদিন একাধিক কাপ মিষ্টি চা পান করেন, তাদের মোট চিনি গ্রহণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
অনেকের ধারণা, গুড় প্রাকৃতিক হওয়ায় এটি সাদা চিনির তুলনায় অনেক বেশি উপকারী।সাদা চিনির তুলনায় গুড়ে সামান্য পরিমাণে আয়রন ও কিছু খনিজ উপাদান থাকতে পারে।তবে গুড়ে থাকা আয়রনের পরিমাণ এত বেশি নয় যে, এটি নিয়মিত আয়রনের চাহিদা পূরণের প্রধান উৎস হতে পারে।তাই আয়রনের ঘাটতি পূরণের জন্য বেশি করে গুড় খাওয়ার কারণে অতিরিক্ত শর্করা ও ক্যালোরি গ্রহণের কারণ হতে পারে।
একইভাবে মধুকেও অনেকেই চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করেন।মধুতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকলেও এটি মূলত মিষ্টি এবং এতে যথেষ্ট পরিমাণে শর্করা ও ক্যালোরি থাকে।চায়ে মধু যোগ করার ফলে চায়ের স্বাদ বদলালেও এর মিষ্টিজাতীয় ক্যালোরি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।ফলে মধুকে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা বা চিনির সম্পূর্ণ নিরাপদ বিকল্প মনে করা ঠিক নয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, মোট দৈনিক ক্যালোরির ১০ শতাংশের কম যেন বাড়তি চিনি থেকে আসে।আরও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের জন্য এই পরিমাণ ৫ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।তাই চা, কফি, মিষ্টি, কোমল পানীয়সহ সব উৎস মিলিয়ে বাড়তি চিনি গ্রহণের হিসাব রাখা প্রয়োজন।চায়ে চিনি, গুড় বা মধু-যেটিই ব্যবহার করা হোক না কেন, পরিমাণ কম রাখাই ভালো।
শুধু উপাদান পরিবর্তন না করে ধীরে ধীরে চায়ে মিষ্টির পরিমাণ কমিয়ে আনার অভ্যাস করা যেতে পারে।আয়রনের ঘাটতি থাকলে গুড়ের ওপর নির্ভর না করে মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।অর্থাৎ চিনি বাদ দিয়ে গুড় বা মধু খাওয়াই সমাধান নয় মিষ্টি কম খাওয়ার অভ্যাসই হতে পারে বেশি কার্যকর।বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন কতটা বাড়তি মিষ্টি খাওয়া হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

























