ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

গ্রামোফোনের দুর্লভ সংগ্রহ, এক ঘরে ২২টি কলের গান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:১৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১০

: এক ঘরে সাজানো রয়েছে আমজাদ হোসেনের ২২টি গ্রামোফোন। ছবি: সংগৃহীত

২২টি গ্রামোফোন নিয়ে ব্যতিক্রমী এক সংগ্রহ গড়ে তুলেছেন কুড়িগ্রামের উলিপুরের আমজাদ হোসেন। তাঁর বাড়ির একটি ঘরে ঢুকলেই চোখে পড়ে পুরোনো দিনের গ্রামোফোন, কাঠের তাকজুড়ে সাজানো অসংখ্য গানের রেকর্ড এবং ক্যাসেট। কয়েক দশকের চেষ্টায় গড়ে ওঠা এই সংগ্রহ যেন ফিরিয়ে নিয়ে যায় হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের সংগীতজগতে।

আমজাদ হোসেনের সংগ্রহে রয়েছে ৮টি হাতে ঘোরানো দুষ্প্রাপ্য গ্রামোফোন এবং ১৪টি ইলেকট্রিক রেকর্ড প্লেয়ার। শুধু যন্ত্রই নয়, তাঁর কাছে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার গানের রেকর্ড। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ইপি ও ২ হাজার এলপি রেকর্ড রয়েছে। পাশাপাশি সংগ্রহে আছে প্রায় এক হাজার অডিও ক্যাসেট। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁর সংগ্রহের সব গ্রামোফোন এখনো সচল।

এই পুরোনো যন্ত্রের প্রতি আমজাদের আগ্রহের শুরু বাবার মাইকের ব্যবসা থেকে। ১৯৭১ সালে তাঁর বাবা দেলওয়ার হোসেন ‘জনতা মাইক সার্ভিস’ নামে ব্যবসা শুরু করেন। কিশোর বয়সে সেখানে কাজ করতে গিয়ে গ্রামোফোনের সঙ্গে পরিচয় হয় আমজাদের। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয়ই পরিণত হয় গভীর ভালোবাসায়। পুরোনো রেকর্ডের সন্ধান পেলেই ছুটে যেতেন তিনি।

১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেসামরিক বিভাগে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সংগ্রহের নেশা ছাড়েননি আমজাদ। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পুরোনো গ্রামোফোন, রেকর্ড ও ক্যাসেট সংগ্রহ করতেন। চাকরির আয়ের একটি বড় অংশও ব্যয় করেছেন এই শখের পেছনে। এমনকি একটি আব্বাসউদ্দীন আহমদের গানের রেকর্ড সংগ্রহ করতে তিনি পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেছিলেন।

২০১৭ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর গ্রামে ফিরে বাড়ির একটি টিনের ঘরে নিজের সংগ্রহশালা তৈরি করেন আমজাদ। জায়গার সংকট থাকলেও যতটা সম্ভব তাক বানিয়ে গ্রামোফোন ও রেকর্ড সাজিয়ে রেখেছেন। কোনো যন্ত্র নষ্ট হলে নিজেই মেরামতের চেষ্টা করেন। তবে পর্যাপ্ত জায়গা ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় মূল্যবান সংগ্রহের কিছু অংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমজাদের সংগ্রহে উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া গানের পাশাপাশি আব্বাসউদ্দীন, আব্দুল আলীম, কিশোর কুমার, আশা ভোসলে, পঙ্কজ উদাস, মোহাম্মদ রফি ও রুনা লায়লার মতো শিল্পীদের গান রয়েছে। ইতিহাসের নানা স্মৃতিও জায়গা করে নিয়েছে তাঁর সংগ্রহে। পুরোনো এই গান ও যন্ত্রগুলো তাঁর কাছে শুধু শখের বিষয় নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া সময় ও সংগীতের ইতিহাস ধরে রাখার এক অনন্য প্রচেষ্টা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিহত জাহেদ পিচ্চি জাহেদ নয়, তবে পুলিশের নথিতে রয়েছে তার নামেও একাধিক মামলা

গ্রামোফোনের দুর্লভ সংগ্রহ, এক ঘরে ২২টি কলের গান

Update Time : ১০:১৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২২টি গ্রামোফোন নিয়ে ব্যতিক্রমী এক সংগ্রহ গড়ে তুলেছেন কুড়িগ্রামের উলিপুরের আমজাদ হোসেন। তাঁর বাড়ির একটি ঘরে ঢুকলেই চোখে পড়ে পুরোনো দিনের গ্রামোফোন, কাঠের তাকজুড়ে সাজানো অসংখ্য গানের রেকর্ড এবং ক্যাসেট। কয়েক দশকের চেষ্টায় গড়ে ওঠা এই সংগ্রহ যেন ফিরিয়ে নিয়ে যায় হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের সংগীতজগতে।

আমজাদ হোসেনের সংগ্রহে রয়েছে ৮টি হাতে ঘোরানো দুষ্প্রাপ্য গ্রামোফোন এবং ১৪টি ইলেকট্রিক রেকর্ড প্লেয়ার। শুধু যন্ত্রই নয়, তাঁর কাছে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার গানের রেকর্ড। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ইপি ও ২ হাজার এলপি রেকর্ড রয়েছে। পাশাপাশি সংগ্রহে আছে প্রায় এক হাজার অডিও ক্যাসেট। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁর সংগ্রহের সব গ্রামোফোন এখনো সচল।

আরও পড়ুন  ইলিয়াস কাঞ্চন দেশে ফিরলেন: চিকিৎসা শেষে সুখবর, জানালেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

এই পুরোনো যন্ত্রের প্রতি আমজাদের আগ্রহের শুরু বাবার মাইকের ব্যবসা থেকে। ১৯৭১ সালে তাঁর বাবা দেলওয়ার হোসেন ‘জনতা মাইক সার্ভিস’ নামে ব্যবসা শুরু করেন। কিশোর বয়সে সেখানে কাজ করতে গিয়ে গ্রামোফোনের সঙ্গে পরিচয় হয় আমজাদের। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয়ই পরিণত হয় গভীর ভালোবাসায়। পুরোনো রেকর্ডের সন্ধান পেলেই ছুটে যেতেন তিনি।

১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেসামরিক বিভাগে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সংগ্রহের নেশা ছাড়েননি আমজাদ। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পুরোনো গ্রামোফোন, রেকর্ড ও ক্যাসেট সংগ্রহ করতেন। চাকরির আয়ের একটি বড় অংশও ব্যয় করেছেন এই শখের পেছনে। এমনকি একটি আব্বাসউদ্দীন আহমদের গানের রেকর্ড সংগ্রহ করতে তিনি পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেছিলেন।

আরও পড়ুন  বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, উদ্বেগ প্রকাশ জামায়াত আমিরের

২০১৭ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর গ্রামে ফিরে বাড়ির একটি টিনের ঘরে নিজের সংগ্রহশালা তৈরি করেন আমজাদ। জায়গার সংকট থাকলেও যতটা সম্ভব তাক বানিয়ে গ্রামোফোন ও রেকর্ড সাজিয়ে রেখেছেন। কোনো যন্ত্র নষ্ট হলে নিজেই মেরামতের চেষ্টা করেন। তবে পর্যাপ্ত জায়গা ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় মূল্যবান সংগ্রহের কিছু অংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন  মানবতার পাশে দাঁড়ানোর নাম—জাকির হোসেন

আমজাদের সংগ্রহে উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া গানের পাশাপাশি আব্বাসউদ্দীন, আব্দুল আলীম, কিশোর কুমার, আশা ভোসলে, পঙ্কজ উদাস, মোহাম্মদ রফি ও রুনা লায়লার মতো শিল্পীদের গান রয়েছে। ইতিহাসের নানা স্মৃতিও জায়গা করে নিয়েছে তাঁর সংগ্রহে। পুরোনো এই গান ও যন্ত্রগুলো তাঁর কাছে শুধু শখের বিষয় নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া সময় ও সংগীতের ইতিহাস ধরে রাখার এক অনন্য প্রচেষ্টা।