মোংলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে এক নারী বিউটিশিয়ানকে মানসিকভাবে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে রেজা মাসুদ ওরফে মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা রেকর্ডের পর বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মোংলা পৌর শহরের সিঙ্গাপুর মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে রেজা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে বাগেরহাট আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মোংলার এক নারী বিউটিশিয়ানকে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আপত্তিকর পোস্ট ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে মানসিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করারও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই ওই নারীকে নিয়ে একের পর এক পোস্ট ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. আল-আমিন আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি মোংলা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে রেকর্ড করা হয়।
মামলার এজাহারে রেজা মাসুদ ছাড়াও শেখ নাছিরুল হক সোহেল ও জিনিয়া আক্তারকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, শেখ নাছিরুল হক সোহেল ভুক্তভোগী নারীর তালাকপ্রাপ্ত স্বামী এবং জিনিয়া আক্তার একটি বিউটি পার্লারের সাবেক কর্মচারী।
ভুক্তভোগী নারী কাজী কেয়া মোংলা পৌরসভার কবরস্থান রোডে ‘কেয়া ব্রাইডাল লুকস বিউটি পার্লার’ পরিচালনা করেন বলে স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, রেজা মাসুদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া এবং ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, রেজা মাসুদের বিরুদ্ধে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
এদিকে রেজা মাসুদ গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে রেজা মাসুদকে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।




























