ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অ্যাডাম স্যান্ডলারের সাফল্যের গল্প, শুরুটা ছিল অন্যরকম

কমেডি দিয়ে শুরু করে হলিউডে দীর্ঘ সফল ক্যারিয়ার গড়েছেন অ্যাডাম স্যান্ডলার। ছবি: সংগৃহীত

মানুষকে হাসাতে হাসাতেই হলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন অ্যাডাম স্যান্ডলার। কমেডিয়ান হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলেও তাঁর ক্যারিয়ার কখনো শুধু হাসির চরিত্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্য লেখা, সিনেমা প্রযোজনা, স্ট্যান্ডআপ কমেডি ও সংগীতেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৬০ বছরে পা দিয়েছেন এই মার্কিন তারকা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাফল্য, সমালোচনা ও নানা পরিবর্তনের মধ্যেও নিজের আলাদা অভিনয়ধারা ধরে রেখেছেন স্যান্ডলার।

১৯৬৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম অ্যাডাম স্যান্ডলারের। পরে তাঁর পরিবার নিউ হ্যাম্পশায়ারের ম্যানচেস্টারে চলে যায়। চার ভাইবোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা স্যান্ডলার ছোটবেলা থেকেই রসবোধের জন্য পরিচিত ছিলেন। তবে তখন অভিনয় কিংবা কমেডিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। ১৭ বছর বয়সে বড় ভাইয়ের উৎসাহে বোস্টনের একটি কমেডি ক্লাবে প্রথমবার মঞ্চে ওঠেন। সেই অভিজ্ঞতাই বদলে দেয় তাঁর জীবনের গতিপথ। এরপর নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত স্ট্যান্ডআপ কমেডি করতে শুরু করেন তিনি।

মঞ্চে স্ট্যান্ডআপ কমেডি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই টেলিভিশন ও সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরি করেন স্যান্ডলার। জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’-এ লেখক ও অভিনয়শিল্পী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। সেখান থেকেই তাঁর পরিচিতি আরও বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘হ্যাপি ম্যাডিসন প্রোডাকশনস’ গড়ে তোলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা ও প্রযোজনার কাজেও যুক্ত হন। তাঁর অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং বক্স অফিসেও সফল হয়।

স্যান্ডলারের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর। ২০১৪ সালে প্রচলিত হলিউডের পাশাপাশি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য সিনেমা তৈরিতে মনোযোগ দেন তিনি। ২০১৫ সালে মুক্তি পায় ‘দ্য রিডিকুলাস সিক্স’, যা নেটফ্লিক্সের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পথচলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শুরু। এরপর ‘দ্য ডু-ওভার’, ‘স্যান্ডি ওয়েক্সলার’, ‘দ্য উইক অব’ ও ‘মার্ডার মিস্ট্রি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করেন। একের পর এক কাজের মাধ্যমে স্ট্রিমিং দর্শকদের কাছেও নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখেন স্যান্ডলার। নেটফ্লিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে তাদের দর্শকেরা স্যান্ডলারের সিনেমা দুই বিলিয়নের বেশি ঘণ্টা দেখেছেন।

আয়ের দিক থেকেও স্যান্ডলারের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ফোর্বসের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে তাঁকে ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের তালিকার শীর্ষস্থানীয়দের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এজেন্ট ও ম্যানেজারের ফি বাদ দেওয়ার পর ২০২৫ সালে তাঁর আয় ছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অন্যদিকে তাঁর মোট আয় ছিল প্রায় ৬ কোটি ডলার। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্যান্ডলারের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৪ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত সম্পদের এ ধরনের হিসাব সাধারণত বিভিন্ন উৎসের অনুমানের ওপর নির্ভর করে।

স্যান্ডলারের দীর্ঘ সফলতার পেছনে শুধু জনপ্রিয়তা কিংবা অর্থ নয়, কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রত্যাখ্যান, সমালোচনা এবং ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’ থেকে বিদায়ের মতো কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কোনো বাধাই তাঁকে দীর্ঘদিন থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং কমেডিকে নিজের শক্তিতে পরিণত করে সময়ের সঙ্গে সিনেমা, প্রযোজনা ও স্ট্রিমিংয়ের নতুন সুযোগ গ্রহণ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবার ও কাছের মানুষদের গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাই অ্যাডাম স্যান্ডলারের ৬০ বছরের পথচলা শুধু একজন কমেডিয়ান থেকে সফল হলিউড তারকা হয়ে ওঠার গল্প নয়; এটি পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন সাফল্য ধরে রাখারও এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।+

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাডাম স্যান্ডলারের সাফল্যের গল্প, শুরুটা ছিল অন্যরকম

Update Time : ০১:২৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষকে হাসাতে হাসাতেই হলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন অ্যাডাম স্যান্ডলার। কমেডিয়ান হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলেও তাঁর ক্যারিয়ার কখনো শুধু হাসির চরিত্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্য লেখা, সিনেমা প্রযোজনা, স্ট্যান্ডআপ কমেডি ও সংগীতেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৬০ বছরে পা দিয়েছেন এই মার্কিন তারকা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাফল্য, সমালোচনা ও নানা পরিবর্তনের মধ্যেও নিজের আলাদা অভিনয়ধারা ধরে রেখেছেন স্যান্ডলার।

১৯৬৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম অ্যাডাম স্যান্ডলারের। পরে তাঁর পরিবার নিউ হ্যাম্পশায়ারের ম্যানচেস্টারে চলে যায়। চার ভাইবোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা স্যান্ডলার ছোটবেলা থেকেই রসবোধের জন্য পরিচিত ছিলেন। তবে তখন অভিনয় কিংবা কমেডিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। ১৭ বছর বয়সে বড় ভাইয়ের উৎসাহে বোস্টনের একটি কমেডি ক্লাবে প্রথমবার মঞ্চে ওঠেন। সেই অভিজ্ঞতাই বদলে দেয় তাঁর জীবনের গতিপথ। এরপর নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত স্ট্যান্ডআপ কমেডি করতে শুরু করেন তিনি।

আরও পড়ুন  লন্ডনে রহস্যময় তরুণীর সঙ্গে আরিয়ান, শুরু প্রেমের গুঞ্জন

মঞ্চে স্ট্যান্ডআপ কমেডি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই টেলিভিশন ও সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরি করেন স্যান্ডলার। জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’-এ লেখক ও অভিনয়শিল্পী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। সেখান থেকেই তাঁর পরিচিতি আরও বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘হ্যাপি ম্যাডিসন প্রোডাকশনস’ গড়ে তোলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা ও প্রযোজনার কাজেও যুক্ত হন। তাঁর অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং বক্স অফিসেও সফল হয়।

স্যান্ডলারের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর। ২০১৪ সালে প্রচলিত হলিউডের পাশাপাশি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য সিনেমা তৈরিতে মনোযোগ দেন তিনি। ২০১৫ সালে মুক্তি পায় ‘দ্য রিডিকুলাস সিক্স’, যা নেটফ্লিক্সের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পথচলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শুরু। এরপর ‘দ্য ডু-ওভার’, ‘স্যান্ডি ওয়েক্সলার’, ‘দ্য উইক অব’ ও ‘মার্ডার মিস্ট্রি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করেন। একের পর এক কাজের মাধ্যমে স্ট্রিমিং দর্শকদের কাছেও নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখেন স্যান্ডলার। নেটফ্লিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে তাদের দর্শকেরা স্যান্ডলারের সিনেমা দুই বিলিয়নের বেশি ঘণ্টা দেখেছেন।

আরও পড়ুন  ৪০ পেরিয়ে হলিউডে নতুন নজির জেনিফার গার্নারের

আয়ের দিক থেকেও স্যান্ডলারের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ফোর্বসের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে তাঁকে ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের তালিকার শীর্ষস্থানীয়দের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এজেন্ট ও ম্যানেজারের ফি বাদ দেওয়ার পর ২০২৫ সালে তাঁর আয় ছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অন্যদিকে তাঁর মোট আয় ছিল প্রায় ৬ কোটি ডলার। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্যান্ডলারের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৪ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত সম্পদের এ ধরনের হিসাব সাধারণত বিভিন্ন উৎসের অনুমানের ওপর নির্ভর করে।

আরও পড়ুন  প্রেমিকের অন্য সম্পর্কে আপত্তি নেই! মন্তব্যে বিতর্কে নিকি গ্লেজার

স্যান্ডলারের দীর্ঘ সফলতার পেছনে শুধু জনপ্রিয়তা কিংবা অর্থ নয়, কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রত্যাখ্যান, সমালোচনা এবং ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’ থেকে বিদায়ের মতো কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কোনো বাধাই তাঁকে দীর্ঘদিন থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং কমেডিকে নিজের শক্তিতে পরিণত করে সময়ের সঙ্গে সিনেমা, প্রযোজনা ও স্ট্রিমিংয়ের নতুন সুযোগ গ্রহণ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবার ও কাছের মানুষদের গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাই অ্যাডাম স্যান্ডলারের ৬০ বছরের পথচলা শুধু একজন কমেডিয়ান থেকে সফল হলিউড তারকা হয়ে ওঠার গল্প নয়; এটি পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন সাফল্য ধরে রাখারও এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।+