ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি। দুই নেতার আলোচনায় প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারত-রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসতে পারে। বিশেষ নজর থাকবে ভারতের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনায়।
ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন কোনো অগ্রগতি হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ব্রহ্মসের উন্নত সংস্করণ নিয়ে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে ভারতের জন্য রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ এবং সু-৫৭ যুদ্ধবিমান নিয়ে প্রস্তাবের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনাও দুই নেতার আলোচনায় আসতে পারে।
মোদির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। গত সপ্তাহে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের অবসানে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন মোদি।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজক ভারত। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। পুতিন সম্মেলনের পাশাপাশি ব্রিকস বিজনেস ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনেও বক্তব্য দেবেন। সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।
তবে পুতিনের এবারের সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আলাদা পূর্ণাঙ্গ বৈঠকের কোনো সূচি নেই। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফরে আসছেন সি। শনিবার সন্ধ্যায় মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি ঘিরে সামগ্রিক পরিস্থিতিও দুই নেতা পর্যালোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, উচ্চ প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য ও জ্বালানি সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে শুরু হওয়া এই জোটে পরবর্তী সময়ে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হয়েছে। ফলে এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে ব্রিকসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


























