পুকুরে ডুবে মৃত্যু হয়েছে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার এক কিশোরীর। ছোট বোনকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে গিয়েছিল ১৬ বছর বয়সী আমেনা আক্তার। বোনকে পানি থেকে তুলতে পারলেও শেষ পর্যন্ত নিজেই পানিতে তলিয়ে যায় সে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার একসত্যাপাড়া এলাকায় হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে আমেনা ও তার ১৪ বছর বয়সী ছোট বোন তানিয়া বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। কিছুক্ষণ পর অসাবধানতাবশত তানিয়া পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে কোনো দেরি না করে ছোট বোনকে উদ্ধারের জন্য পানিতে নামে আমেনা।
আমেনার চেষ্টায় তানিয়াকে পানি থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে এরপরই বিপদে পড়ে যায় আমেনা নিজে। একপর্যায়ে সে পানিতে তলিয়ে যায় এবং আর ওপরে উঠতে পারেনি। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাটি দেখতে পেয়ে দ্রুত পুকুরে নেমে তাকে খুঁজতে শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে খোঁজাখুঁজির পর আমেনাকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো দুই বোন সেদিনও বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে গিয়েছিল।
নিহত আমেনা আক্তার ওই এলাকার মো. খোরশেদ আলম ও নাছিমা বেগমের বড় মেয়ে। স্থানীয়রা জানান, আমেনার বাবা প্রতিবন্ধী। মেয়ের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। আমেনার মা জানান, ছোটবেলা থেকেই দুই বোন ওই পুকুরে গোসল করত। বড় মেয়ে কিছুটা অসুস্থও ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদ খান চৌধুরী জানান, পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু ডায়েরি করা হয়েছে। ছোট বোনকে বাঁচাতে গিয়ে বড় বোনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।



























