ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন Logo তিন মাসেও বোর্ড নেই, কমছে আমানত, ইসলামী ব্যাংকের সামনে বড় সংকট Logo জবিতে সংঘর্ষ ও রিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ ছাত্র ফ্রন্টের Logo ট্রাম্প-শির বৈঠকে বাণিজ্য, এআই ও বিরল খনিজ নিয়ে আলোচনা Logo ঢাবিতে অপ্রতিম-আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল Logo চন্দনাইশে বসতভিটার বিরোধ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ Logo চন্দনাইশে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদকসেবী গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড Logo ওয়ান হেলথ: পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য সমন্বয়ে মন্ত্রীর বার্তা Logo ট্রাম্পের হামলা বাতিলের পরই গুরুত্বপূর্ণ কাহবুব অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে তীব্র অভিযান হুতিদের Logo ভালভের্দের চোটে রিয়ালের বড় ধাক্কা

ওয়ান হেলথ: পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য সমন্বয়ে মন্ত্রীর বার্তা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৪১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৬

রোমে ওয়ান হেলথ বিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। | ছবি: সংগৃহীত

ওয়ান হেলথ ধারণাকে সামনে রেখে পরিবেশ, প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর মতে, মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও বাস্তুতন্ত্রের সুস্থতা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই কৃষি, খাদ্য, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের নীতিতে সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি। ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) আয়োজিত বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর রোমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ বিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে কৃষিখাদ্য ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই করার পাশাপাশি পরিবেশ, প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যের মধ্যে সমন্বয় তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ওয়ান হেলথ বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন পরিবেশমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নভূমির গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। দেশের একই ভূদৃশ্যে মানুষ, কৃষি, প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র পাশাপাশি অবস্থান করায় একটি খাতে সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব অন্য খাতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে পরিবেশ কিংবা জনস্বাস্থ্যকে আলাদা কোনো বিষয় হিসেবে বিবেচনা না করে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ প্রায় দুই দশক ধরে ওয়ান হেলথ ধারণাকে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে বলে জানান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা। একই সঙ্গে জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে আরও কেন্দ্রীয়ভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই ওয়ান হেলথ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, যৌথ পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত সম্পদ। মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় তৈরি হলে পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা যেমন অন্য দেশগুলোর জন্য কাজে লাগতে পারে, তেমনি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকেও বাংলাদেশ নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। বিস্তারিত ওয়ান হেলথ তথ্যের জন্য FAO-এর One Health তথ্যভান্ডার দেখা যেতে পারে।

রোমের সম্মেলনে আলোচনার অভিজ্ঞতা আগামী কপ৩১-এর আলোচনায় কাজে লাগানোর কথাও জানিয়েছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে বাংলাদেশ কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে বাস্তব কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে এফএওর মহাপরিচালক কু ডংইউসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। ফলে ওয়ান হেলথ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

ওয়ান হেলথ: পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য সমন্বয়ে মন্ত্রীর বার্তা

Update Time : ০৯:৪১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওয়ান হেলথ ধারণাকে সামনে রেখে পরিবেশ, প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর মতে, মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও বাস্তুতন্ত্রের সুস্থতা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই কৃষি, খাদ্য, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের নীতিতে সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি। ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) আয়োজিত বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর রোমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ বিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে কৃষিখাদ্য ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই করার পাশাপাশি পরিবেশ, প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যের মধ্যে সমন্বয় তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ওয়ান হেলথ বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন পরিবেশমন্ত্রী।

আরও পড়ুন  আজ বিশ্ব বন্ধু দিবস

মন্ত্রী বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নভূমির গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। দেশের একই ভূদৃশ্যে মানুষ, কৃষি, প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র পাশাপাশি অবস্থান করায় একটি খাতে সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব অন্য খাতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে পরিবেশ কিংবা জনস্বাস্থ্যকে আলাদা কোনো বিষয় হিসেবে বিবেচনা না করে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ প্রায় দুই দশক ধরে ওয়ান হেলথ ধারণাকে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে বলে জানান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা। একই সঙ্গে জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে আরও কেন্দ্রীয়ভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

আরও পড়ুন  সুপার এল নিনো সতর্কতা: ভয়াবহ খরা ও তাপদাহের নতুন আশঙ্কা

পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই ওয়ান হেলথ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, যৌথ পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত সম্পদ। মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় তৈরি হলে পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা যেমন অন্য দেশগুলোর জন্য কাজে লাগতে পারে, তেমনি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকেও বাংলাদেশ নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। বিস্তারিত ওয়ান হেলথ তথ্যের জন্য FAO-এর One Health তথ্যভান্ডার দেখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন  জাপানে তীব্র গরমে সিংহের মৃত্যু, চিড়িয়াখানায় বাড়ছে উদ্বেগ

রোমের সম্মেলনে আলোচনার অভিজ্ঞতা আগামী কপ৩১-এর আলোচনায় কাজে লাগানোর কথাও জানিয়েছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে বাংলাদেশ কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে বাস্তব কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে এফএওর মহাপরিচালক কু ডংইউসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। ফলে ওয়ান হেলথ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।