ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দুর্দান্ত কামব্যাকে নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিল জাপান Logo হীরক জয়ন্তীর আনন্দ দ্বিগুণ করার সুযোগ ইংল্যান্ডের সামনে Logo সকালের মধ্যে ৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা Logo থানায় প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মাদক ব্যবসা করি Logo শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, সই শুক্রবার Logo স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষ নয়: জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য Logo ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় যা থাকতে পারে Logo ঘুমানো কিংবা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাই চাকরি! পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত ৫টি পেশা, বেতন শুনলে চোখ কপালে উঠবে Logo চন্দনাইশে আগুনে পুড়ল ৬ বসতঘর Logo শাহবাগ অভিযান: প্রতিমন্ত্রীর রাতের ঝটিকা অভিযান, ১০ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন অধ্যায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৪৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৫২

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু। ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর এই পদক্ষেপ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম-২৩৫। এই জ্বালানি ছোট ছোট পেলেট আকারে তৈরি করা হয় এবং জিরকোনিয়াম অ্যালয় টিউবের ভেতরে স্থাপন করে তৈরি করা হয় ফুয়েল রড। এসব ফুয়েল রড একত্রিত হয়ে গঠন করে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি, যা রিঅ্যাক্টরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় উদাহরণ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় দক্ষতার সমন্বয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পায়ন ও আধুনিকায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

রূপপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রকল্পটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, বরং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি করবে। অনেকেই মনে করছেন, এটি দেশের উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্দান্ত কামব্যাকে নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিল জাপান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন অধ্যায়

Update Time : ০৯:৪৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর এই পদক্ষেপ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন  মে দিবস ২০২৬: শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্য মজুরির আহ্বান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম-২৩৫। এই জ্বালানি ছোট ছোট পেলেট আকারে তৈরি করা হয় এবং জিরকোনিয়াম অ্যালয় টিউবের ভেতরে স্থাপন করে তৈরি করা হয় ফুয়েল রড। এসব ফুয়েল রড একত্রিত হয়ে গঠন করে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি, যা রিঅ্যাক্টরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় উদাহরণ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় দক্ষতার সমন্বয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

আরও পড়ুন  হামের টিকা: মা হতে ইচ্ছুক নারীদেরও টিকা নেওয়ার পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পায়ন ও আধুনিকায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

আরও পড়ুন  পুলিশের পোশাক পরিবর্তন স্থগিতের দাবি,সংশ্লিষ্টদের কাছে আইনি নোটিশ

পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

রূপপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রকল্পটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, বরং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি করবে। অনেকেই মনে করছেন, এটি দেশের উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।