ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা পরিদর্শন: নগর তদারকির ৭ গুরুত্বপূর্ণ দিক Logo গরম পানি কি সর্দি-কাশি সারায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা Logo শিক্ষিকার নামের বানান ভুল করায় শিক্ষার্থীকে ৩০০ বার লেখার শাস্তি Logo জুলাই শহীদ রিতার কবর জিয়ারত করলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী Logo নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী Logo আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে দলে ভেড়াতে চাচ্ছে ম্যানসিটি Logo ভিন্নমতকে যখন হুমকি মনে করা হয় : পাকিস্তানের ইতিহাস দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শিক্ষণীয় Logo নরসিংদীতে লটকনের বাম্পার ফলন, ১৪৬ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা Logo বগালেকে ২ পর্যটকের মৃত্যু, গাইডের নিষেধ অমান্য করে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা Logo নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ শতাধিক পরিবারের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার খবর বানোয়াট: প্রতিমন্ত্রীর দাবি

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার খবরকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও তা “ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও কাল্পনিক”—এমনটাই দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানিয়েছেন, পুরোনো ছবি ব্যবহার করে একটি অপপ্রচার চালানো হয়েছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল নেই।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, অথচ বাস্তবে সেখানে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা হয়নি।

তিনি জানান, বিষয়টি যাচাই করতে তিনি নিজেই সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। এমনকি তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামতও শোনেন। স্থানীয়দের মতে, সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তেমন ছিল না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি খবরে প্রধানমন্ত্রী নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও সেটি ছিল ওই প্রচারিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া প্রতিক্রিয়া। এ বিষয়ে নগরবাসীর প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক ছিল বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, “মানুষ এটিকে প্রধানমন্ত্রীর বড় মনের পরিচয় হিসেবে দেখেছে।”

তিনি দাবি করেন, গত এক-দুই বছরের তুলনায় চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পূর্বে যেখানে ভারী বৃষ্টিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকত, বর্তমানে তা অনেকটাই কমে এসেছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, নগরীর ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল পুনঃখনন ও উন্নয়নের কাজ চলছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড। ইতোমধ্যে ৩০টি খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৬টির কাজ চলমান রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় পানি জমার ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তার মতে, ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে প্রবর্তনা মোড়সহ কয়েকটি এলাকায় সাময়িক জলজট তৈরি হয়েছিল। তবে এটি স্থায়ী জলাবদ্ধতা ছিল না। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যেই পানি অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের কাজ চলাকালে কিছু স্থানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছিল, যা সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চলমান ৬টি খালের কাজ আপাতত স্থগিত রেখে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে।

ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার জন্য মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সবশেষে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে বড় ধরনের জলাবদ্ধতার আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো শেষ হলে নগরবাসী আরও স্বস্তি পাবে এবং জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা পরিদর্শন: নগর তদারকির ৭ গুরুত্বপূর্ণ দিক

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার খবর বানোয়াট: প্রতিমন্ত্রীর দাবি

Update Time : ০৮:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও তা “ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও কাল্পনিক”—এমনটাই দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানিয়েছেন, পুরোনো ছবি ব্যবহার করে একটি অপপ্রচার চালানো হয়েছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল নেই।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, অথচ বাস্তবে সেখানে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা হয়নি।

তিনি জানান, বিষয়টি যাচাই করতে তিনি নিজেই সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। এমনকি তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামতও শোনেন। স্থানীয়দের মতে, সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তেমন ছিল না।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বন্ধ করল—জানুন বিস্তারিত।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি খবরে প্রধানমন্ত্রী নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও সেটি ছিল ওই প্রচারিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া প্রতিক্রিয়া। এ বিষয়ে নগরবাসীর প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক ছিল বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, “মানুষ এটিকে প্রধানমন্ত্রীর বড় মনের পরিচয় হিসেবে দেখেছে।”

তিনি দাবি করেন, গত এক-দুই বছরের তুলনায় চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পূর্বে যেখানে ভারী বৃষ্টিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকত, বর্তমানে তা অনেকটাই কমে এসেছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, নগরীর ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল পুনঃখনন ও উন্নয়নের কাজ চলছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড। ইতোমধ্যে ৩০টি খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৬টির কাজ চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন  হামে মৃত্যু আটশ, আক্রান্ত ১২ হাজারের বেশি

তবে সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় পানি জমার ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তার মতে, ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে প্রবর্তনা মোড়সহ কয়েকটি এলাকায় সাময়িক জলজট তৈরি হয়েছিল। তবে এটি স্থায়ী জলাবদ্ধতা ছিল না। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যেই পানি অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের কাজ চলাকালে কিছু স্থানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছিল, যা সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চলমান ৬টি খালের কাজ আপাতত স্থগিত রেখে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে।

আরও পড়ুন  ঢাকার আবহাওয়া আজ যেমন থাকবে

ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার জন্য মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সবশেষে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে বড় ধরনের জলাবদ্ধতার আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো শেষ হলে নগরবাসী আরও স্বস্তি পাবে এবং জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।