ঢাকা ০৪:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ঈদুল আজহা ২০২৬ কবে? ২৭ নাকি ২৮ মে, যা জানা গেল

ঈদুল আজহা ২০২৬ কবে?

পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ কবে অনুষ্ঠিত হবে—২৭ মে নাকি ২৮ মে—এ নিয়ে ইতোমধ্যে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য ঈদের তারিখ সামনে আসার পর বাংলাদেশেও ঈদের সম্ভাব্য দিন নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব এবং আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর সেই হিসাবে বাংলাদেশে ঈদ পালিত হতে পারে ২৮ মে।

ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুসারে, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়। তবে এই তারিখ নির্ভর করে চাঁদ দেখার ওপর। প্রতি বছরই চাঁদ দেখার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদের তারিখে একদিনের পার্থক্য দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

সৌদি আরবের সরকারি ক্যালেন্ডার ‘উম্মুল কুরা’ অনুযায়ী, আগামী ১৬ মে হবে আরবি জিলকদ মাসের ২৯তম দিন এবং ১৭ মে হবে ৩০তম দিন। অর্থাৎ, দেশটিতে জিলকদ মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে ১৮ মে থেকে জিলহজ মাস শুরু হতে পারে। আর সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৭ মে সৌদি আরবে ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। দেশটির জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৬ মে অনুষ্ঠিত হতে পারে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন আরাফাতের দিন। এর পরদিন অর্থাৎ ২৭ মে দেশটিতে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।

এদিকে পাকিস্তানও জানিয়েছে, দেশটিতে আগামী ২৭ মে ঈদুল আজহা পালনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ধর্মীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, চাঁদ দেখার সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী এবার জিলহজ মাস আগেভাগেই শুরু হতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন জানিয়েছে, নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে সেখানে ২৭ মে বুধবার অথবা ২৮ মে বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা উদযাপন হতে পারে। ইউরোপভিত্তিক ইসলামিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘হাইফেন অনলাইন’ জানিয়েছে, চাঁদের অবস্থান ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির কারণে দেশভেদে ঈদের তারিখে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর ঈদ উদযাপিত হয়। ফলে সৌদিতে যদি ২৭ মে ঈদ পালিত হয়, তাহলে বাংলাদেশে ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপনের সম্ভাবনাই বেশি। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ দেশে ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ ঘোষণা করবে। সাধারণত আরবি মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতি বছর ঈদুল আজহা মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়। এই ঈদকে কোরবানির ঈদও বলা হয়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে মুসলমানরা ঈদের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন। একই সঙ্গে এই উৎসব পারিবারিক মিলনমেলা, আত্মত্যাগ ও মানবতার শিক্ষা বহন করে।

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। হজযাত্রা, কোরবানির পশুর বাজার, পরিবহন ব্যবস্থা এবং ছুটির পরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও সম্ভাব্য ঈদের তারিখ সামনে রেখে অনেকেই আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে ধারণা দিলেও ইসলামিক শরিয়াহ অনুযায়ী চাঁদ দেখাই মূল ভিত্তি। তাই চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত ঈদের দিন চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত বলা যাবে না।

সব মিলিয়ে বর্তমান হিসাব অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে ২৭ মে এবং বাংলাদেশে ২৮ মে ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

ঈদুল আজহা ২০২৬ কবে? ২৭ নাকি ২৮ মে, যা জানা গেল

Update Time : ০২:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ কবে অনুষ্ঠিত হবে—২৭ মে নাকি ২৮ মে—এ নিয়ে ইতোমধ্যে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য ঈদের তারিখ সামনে আসার পর বাংলাদেশেও ঈদের সম্ভাব্য দিন নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব এবং আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর সেই হিসাবে বাংলাদেশে ঈদ পালিত হতে পারে ২৮ মে।

ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুসারে, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়। তবে এই তারিখ নির্ভর করে চাঁদ দেখার ওপর। প্রতি বছরই চাঁদ দেখার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদের তারিখে একদিনের পার্থক্য দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

সৌদি আরবের সরকারি ক্যালেন্ডার ‘উম্মুল কুরা’ অনুযায়ী, আগামী ১৬ মে হবে আরবি জিলকদ মাসের ২৯তম দিন এবং ১৭ মে হবে ৩০তম দিন। অর্থাৎ, দেশটিতে জিলকদ মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে ১৮ মে থেকে জিলহজ মাস শুরু হতে পারে। আর সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৭ মে সৌদি আরবে ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করল ইসি, আটকে আছেন মনিরাও!

মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। দেশটির জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৬ মে অনুষ্ঠিত হতে পারে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন আরাফাতের দিন। এর পরদিন অর্থাৎ ২৭ মে দেশটিতে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।

এদিকে পাকিস্তানও জানিয়েছে, দেশটিতে আগামী ২৭ মে ঈদুল আজহা পালনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ধর্মীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, চাঁদ দেখার সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী এবার জিলহজ মাস আগেভাগেই শুরু হতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন জানিয়েছে, নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে সেখানে ২৭ মে বুধবার অথবা ২৮ মে বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা উদযাপন হতে পারে। ইউরোপভিত্তিক ইসলামিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘হাইফেন অনলাইন’ জানিয়েছে, চাঁদের অবস্থান ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির কারণে দেশভেদে ঈদের তারিখে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন  মায়ের দুধের বিকল্প নেই : শিশুর বিকাশে গুরুত্ব জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর ঈদ উদযাপিত হয়। ফলে সৌদিতে যদি ২৭ মে ঈদ পালিত হয়, তাহলে বাংলাদেশে ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপনের সম্ভাবনাই বেশি। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ দেশে ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ ঘোষণা করবে। সাধারণত আরবি মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতি বছর ঈদুল আজহা মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়। এই ঈদকে কোরবানির ঈদও বলা হয়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে মুসলমানরা ঈদের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন। একই সঙ্গে এই উৎসব পারিবারিক মিলনমেলা, আত্মত্যাগ ও মানবতার শিক্ষা বহন করে।

আরও পড়ুন  ভাইরাল তাপবার্তাটি ভুয়া : ফায়ার সার্ভিসের সতর্ক বার্তা

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। হজযাত্রা, কোরবানির পশুর বাজার, পরিবহন ব্যবস্থা এবং ছুটির পরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও সম্ভাব্য ঈদের তারিখ সামনে রেখে অনেকেই আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে ধারণা দিলেও ইসলামিক শরিয়াহ অনুযায়ী চাঁদ দেখাই মূল ভিত্তি। তাই চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত ঈদের দিন চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত বলা যাবে না।

সব মিলিয়ে বর্তমান হিসাব অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে ২৭ মে এবং বাংলাদেশে ২৮ মে ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।