ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কাপাসিয়ায় এক পরিবারের ৫ জনকে হত্যা

কাপাসিয়ায় এক পরিবারের ৫ জনকে হত্যা। ছবি: সংগৃহীত।

কাপাসিয়ায় এক পরিবারের ৫ জনকে হত্যা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গাজীপুরে। স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর ফোরকান মিয়ার ফোনকল ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।কাপাসিয়ায় এক পরিবারের ৫ জনকে হত্যা ঘটনায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, তাঁর তিন সন্তান ও তাঁর ভাই। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পলাতক হয়েছেন গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া।

শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে বহুতল একটি বাড়ির নিচতলা থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।

কাপাসিয়ায় এক পরিবারের
কাপাসিয়ায় এক পরিবারের ৫ জনকে হত্যা ঘটনায় মানুষের ভিড় । ছবি: সংগৃহীত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর ফোরকান মিয়া নিজ গ্রামের এক স্বজনকে ফোন করে বলেন, “সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না।” এই ফোনকলের পরই বিষয়টি স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তার জন্য সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে। বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ ও বিছানায় মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

স্বজনদের অভিযোগ, ফোরকান মিয়া দ্বিতীয় বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। কয়েক মাস আগে শারমিনকে মারধরের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও কলহ থামেনি।নিহত শারমিন আক্তারের ফুফু জেসমিন আক্তার জানান, শুক্রবার রাতে ফোরকান মিয়া নতুন চাকরির কথা বলে শ্যালক রসুল মিয়াকে বাসায় ডাকেন। এরপর রাতের কোনো একসময় স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করা হয় বলে তাঁদের ধারণা।

ঘটনাস্থল থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগপত্রের কপিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে ফোরকান তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছিলেন। তবে নিহত শারমিনের পরিবারের দাবি, ফোরকান নিজেকে আড়াল করতেই এমন অভিযোগ লিখেছিলেন।এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পরিবারটিকে বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল।

কাপাসিয়ায় এক পরিবারের
কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাড়ির সামনে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়। ছবি: সংগৃহীত।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক অস্থিরতা অনেক সময় ভয়াবহ অপরাধে রূপ নেয়। তাই পরিবারে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বকে অবহেলা না করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে শিশুদের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।বর্তমানে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

কাপাসিয়ায় এক পরিবারের ৫ জনকে হত্যা

Update Time : ১১:৪৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

কাপাসিয়ায় এক পরিবারের ৫ জনকে হত্যা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গাজীপুরে। স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর ফোরকান মিয়ার ফোনকল ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।কাপাসিয়ায় এক পরিবারের ৫ জনকে হত্যা ঘটনায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, তাঁর তিন সন্তান ও তাঁর ভাই। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পলাতক হয়েছেন গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া।

শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে বহুতল একটি বাড়ির নিচতলা থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।

কাপাসিয়ায় এক পরিবারের
কাপাসিয়ায় এক পরিবারের ৫ জনকে হত্যা ঘটনায় মানুষের ভিড় । ছবি: সংগৃহীত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর ফোরকান মিয়া নিজ গ্রামের এক স্বজনকে ফোন করে বলেন, “সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না।” এই ফোনকলের পরই বিষয়টি স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।

আরও পড়ুন  ধুনটে অচেতন করে অটোরিকশা লুট, উদ্ধার চালক হাসপাতালে

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তার জন্য সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে। বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ ও বিছানায় মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

স্বজনদের অভিযোগ, ফোরকান মিয়া দ্বিতীয় বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। কয়েক মাস আগে শারমিনকে মারধরের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও কলহ থামেনি।নিহত শারমিন আক্তারের ফুফু জেসমিন আক্তার জানান, শুক্রবার রাতে ফোরকান মিয়া নতুন চাকরির কথা বলে শ্যালক রসুল মিয়াকে বাসায় ডাকেন। এরপর রাতের কোনো একসময় স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করা হয় বলে তাঁদের ধারণা।

আরও পড়ুন  জাহাঙ্গীরনগরে ধর্ষণচেষ্টা: বিচার দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

ঘটনাস্থল থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগপত্রের কপিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে ফোরকান তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছিলেন। তবে নিহত শারমিনের পরিবারের দাবি, ফোরকান নিজেকে আড়াল করতেই এমন অভিযোগ লিখেছিলেন।এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পরিবারটিকে বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল।

কাপাসিয়ায় এক পরিবারের
কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাড়ির সামনে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়। ছবি: সংগৃহীত।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

আরও পড়ুন  টিটন হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজধানীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক অস্থিরতা অনেক সময় ভয়াবহ অপরাধে রূপ নেয়। তাই পরিবারে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বকে অবহেলা না করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে শিশুদের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।বর্তমানে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।