ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পল্লী উন্নয়ন বোর্ড নিয়োগ: ৯ম-২০তম গ্রেডে ১৮৫ পদে আবেদন শুরু Logo ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল আসছে, আগেই প্রকাশের ইঙ্গিত পিএসসির Logo পাবনার হোসিয়ারিশিল্প সংকটে, ভারত রপ্তানি বন্ধে বন্ধ হচ্ছে কারখানা Logo জয়া আহসানের নতুন সিনেমা | ভারতীয় সমালোচকদের দুর্দান্ত প্রশংসায় ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ Logo স্বর্ণের দাম বেড়েছে: ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা Logo মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃত্যু: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মা-মেয়েসহ ৩ জন নিহত Logo লামিন ইয়ামালের বিলাসবহুল ঘড়ি সংগ্রহে নজর কাড়ছে যে টাইমপিসগুলো Logo সালমান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কেন শুরু হলো নতুন আলোচনা? Logo আইফোন ১৮ প্রো লঞ্চের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ, সেপ্টেম্বরেই আসছে নতুন আইফোন? Logo ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ: আয়োজক দেশ, সূচি ও নতুন ফরম্যাটে যা জানা গেছে

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি পাবে বিএসএফ: শুভেন্দুর বড় ঘোষণা

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ০৩:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৫২১

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা।সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার হাওড়ায় অনুষ্ঠিত নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এ কাজে মুখ্যসচিব ও ভূমি ও রাজস্ব সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে অরক্ষিত অংশগুলোতে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় এখনো বেশ কিছু এলাকা রয়েছে যেখানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিজেপি নির্বাচনী প্রচারণাতেও বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছিল।

নতুন সরকারের প্রথম বৈঠকেই এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। কারণ, এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর নিয়ে নানা প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলেছিল। বিজেপি সেই অবস্থানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে আসছিল।এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের জন্য জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। আদালত নয়টি জেলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিল।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে শুভেন্দুর ঘোষণা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্ত বিজেপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে নজরদারি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে পড়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তাজনিত নানা ইস্যু প্রায়ই আলোচনায় আসে। তাই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে ভারত সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কঠোর হতে পারে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ মনে করেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ স্থানীয় মানুষের চলাচল ও জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব গ্রামের মানুষ সীমান্তের কাছাকাছি বসবাস করেন, তাঁদের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের এ সিদ্ধান্ত এখন ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিজেপি সমর্থকেরা এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে দ্রুত জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার একটি অংশ।আগামী কয়েক সপ্তাহে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পল্লী উন্নয়ন বোর্ড নিয়োগ: ৯ম-২০তম গ্রেডে ১৮৫ পদে আবেদন শুরু

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি পাবে বিএসএফ: শুভেন্দুর বড় ঘোষণা

Update Time : ০৩:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা।সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার হাওড়ায় অনুষ্ঠিত নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এ কাজে মুখ্যসচিব ও ভূমি ও রাজস্ব সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে অরক্ষিত অংশগুলোতে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় এখনো বেশ কিছু এলাকা রয়েছে যেখানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিজেপি নির্বাচনী প্রচারণাতেও বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছিল।

আরও পড়ুন  রানওয়ে বাড়াতে সরছে ১৩৬ বছরের ঐতিহাসিক মসজিদ

নতুন সরকারের প্রথম বৈঠকেই এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। কারণ, এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর নিয়ে নানা প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলেছিল। বিজেপি সেই অবস্থানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে আসছিল।এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের জন্য জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। আদালত নয়টি জেলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিল।

আরও পড়ুন  ভারতে ট্রেনে ভয়াবহ আগুন,প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপ দিলেন যাত্রীরা
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে শুভেন্দুর ঘোষণা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্ত বিজেপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে নজরদারি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে পড়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তাজনিত নানা ইস্যু প্রায়ই আলোচনায় আসে। তাই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে ভারত সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কঠোর হতে পারে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ মনে করেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ স্থানীয় মানুষের চলাচল ও জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব গ্রামের মানুষ সীমান্তের কাছাকাছি বসবাস করেন, তাঁদের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের এ সিদ্ধান্ত এখন ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিজেপি সমর্থকেরা এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  কুষ্টিয়া সীমান্তে ১২ জন আটকে, শূন্যরেখায় তিন দিন ধরে মানবেতর জীবন

শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে দ্রুত জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার একটি অংশ।আগামী কয়েক সপ্তাহে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।