ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পল্লী উন্নয়ন বোর্ড নিয়োগ: ৯ম-২০তম গ্রেডে ১৮৫ পদে আবেদন শুরু Logo ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল আসছে, আগেই প্রকাশের ইঙ্গিত পিএসসির Logo পাবনার হোসিয়ারিশিল্প সংকটে, ভারত রপ্তানি বন্ধে বন্ধ হচ্ছে কারখানা Logo জয়া আহসানের নতুন সিনেমা | ভারতীয় সমালোচকদের দুর্দান্ত প্রশংসায় ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ Logo স্বর্ণের দাম বেড়েছে: ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা Logo মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃত্যু: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মা-মেয়েসহ ৩ জন নিহত Logo লামিন ইয়ামালের বিলাসবহুল ঘড়ি সংগ্রহে নজর কাড়ছে যে টাইমপিসগুলো Logo সালমান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কেন শুরু হলো নতুন আলোচনা? Logo আইফোন ১৮ প্রো লঞ্চের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ, সেপ্টেম্বরেই আসছে নতুন আইফোন? Logo ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ: আয়োজক দেশ, সূচি ও নতুন ফরম্যাটে যা জানা গেছে

ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য কামরা বরাদ্দের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ১০:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৫৪৭

ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত কামরা রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য কামরা বরাদ্দ রাখতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত কামরা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য কামরা বরাদ্দ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের এ নির্দেশনার ফলে ঈদযাত্রায় নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দীর্ঘদিন ধরেই নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে আলাদা কামরা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছিলেন যাত্রী অধিকারকর্মীরা। বিশেষ করে ঈদের সময় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নারী যাত্রীদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

জানা গেছে, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ও ১১৯ ধারা বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভীন। পরে ওই বছরের ১০ মার্চ প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেন আদালত।

পাঁচ বছর আগের সেই রিটের ধারাবাহিকতায় এবার ঈদুল আজহা সামনে রেখে সম্পূরক আবেদন করেন রিটকারী। আবেদনে ঈদযাত্রার সময় প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, রেলওয়ে আইনে আগে থেকেই নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা রাখার বিধান রয়েছে। আদালত সেই আইন বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর তথ্যমতে, রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারায় বলা হয়েছে প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কামরা থাকতে হবে। এছাড়া ৫০ মাইলের বেশি দূরত্বে চলাচলকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে সেই কামরার সঙ্গে শৌচাগারের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।আইনের ১১৯ ধারায় আরও উল্লেখ রয়েছে, নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত কামরায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এসব বিধান কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য কামরা বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট
হাইকোর্টের নির্দেশে ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত কামরা

নারী যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের সময় ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নিরাপদে ভ্রমণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক নারী যাত্রীকে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে হয়। আবার অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির ঘটনাও ঘটে। তাই আদালতের এ নির্দেশনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নির্দেশ দিলেই হবে না, বাস্তবে তা কার্যকর করতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত কামরা সঠিকভাবে পরিচালনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, নারী ও শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রেনে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত তদারকি এবং সচেতনতামূলক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে। অনেকেই বলছেন, ঈদযাত্রায় নারী যাত্রীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এতে নারী যাত্রীরা তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানিতে ২০২১ সালের ১০ মার্চ দেওয়া রুলে আদালত জানতে চান, আইনের বিধান অনুযায়ী নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আইন বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।ওই রুলের জবাব দিতে রেলওয়ে সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এ নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেন ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে। একই সঙ্গে গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ ও আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পল্লী উন্নয়ন বোর্ড নিয়োগ: ৯ম-২০তম গ্রেডে ১৮৫ পদে আবেদন শুরু

ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য কামরা বরাদ্দের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

Update Time : ১০:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য কামরা বরাদ্দ রাখতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত কামরা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য কামরা বরাদ্দ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের এ নির্দেশনার ফলে ঈদযাত্রায় নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দীর্ঘদিন ধরেই নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে আলাদা কামরা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছিলেন যাত্রী অধিকারকর্মীরা। বিশেষ করে ঈদের সময় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নারী যাত্রীদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

জানা গেছে, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ও ১১৯ ধারা বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভীন। পরে ওই বছরের ১০ মার্চ প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেন আদালত।

পাঁচ বছর আগের সেই রিটের ধারাবাহিকতায় এবার ঈদুল আজহা সামনে রেখে সম্পূরক আবেদন করেন রিটকারী। আবেদনে ঈদযাত্রার সময় প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, রেলওয়ে আইনে আগে থেকেই নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা রাখার বিধান রয়েছে। আদালত সেই আইন বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর তথ্যমতে, রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারায় বলা হয়েছে প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কামরা থাকতে হবে। এছাড়া ৫০ মাইলের বেশি দূরত্বে চলাচলকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে সেই কামরার সঙ্গে শৌচাগারের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।আইনের ১১৯ ধারায় আরও উল্লেখ রয়েছে, নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত কামরায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এসব বিধান কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য কামরা বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট
হাইকোর্টের নির্দেশে ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত কামরা

নারী যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের সময় ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নিরাপদে ভ্রমণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক নারী যাত্রীকে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে হয়। আবার অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির ঘটনাও ঘটে। তাই আদালতের এ নির্দেশনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নির্দেশ দিলেই হবে না, বাস্তবে তা কার্যকর করতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত কামরা সঠিকভাবে পরিচালনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, নারী ও শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রেনে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত তদারকি এবং সচেতনতামূলক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে। অনেকেই বলছেন, ঈদযাত্রায় নারী যাত্রীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এতে নারী যাত্রীরা তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানিতে ২০২১ সালের ১০ মার্চ দেওয়া রুলে আদালত জানতে চান, আইনের বিধান অনুযায়ী নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আইন বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।ওই রুলের জবাব দিতে রেলওয়ে সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এ নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেন ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে। একই সঙ্গে গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ ও আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।