ঢাকা ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে নতুন সংকট, পদত্যাগ করতে পারেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৩৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৫০৯

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং । ছবি: সংগৃহীত

কিয়ার স্টারমার সংকট আরও গভীর আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে যখন লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে, তখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, স্ট্রিটিং খুব শিগগিরই মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামতে পারেন।স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর থেকেই কিয়ার স্টারমার সংকট নিয়ে আলোচনা তীব্র হতে শুরু করে। দলটির একাধিক নেতা ও সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর মধ্যেই ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও বড় করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই স্ট্রিটিং পদত্যাগ করতে পারেন। যদিও তাঁর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, স্ট্রিটিং যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে সেটি কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হবে।

সম্প্রতি স্ট্রিটিং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হতে পারে।বর্তমানে লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এমপি যদি নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তুলতে চান, তাহলে তাঁকে কমপক্ষে ৮১ জন এমপির সমর্থন পেতে হবে। ওয়েস স্ট্রিটিং যদি সেই সমর্থন জোগাড় করতে পারেন, তাহলে তিনি সরাসরি কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন।

এদিকে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রতিযোগীদের তালিকায় উঠে এসেছে। দলীয় ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা যত বাড়ছে, ততই কিয়ার স্টারমার সংকট গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।আজ পার্লামেন্টে রাজা তৃতীয় চার্লস সরকারের নতুন পরিকল্পনা ও আইনপ্রণয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে নিজের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন স্টারমার। তবে লেবার পার্টির ভেতরের অনেক সংসদ সদস্য মনে করছেন, এই পরিকল্পনায় নতুনত্ব খুব কম রয়েছে।

দলের ৯০ জনের বেশি সংসদ সদস্য ইতিমধ্যে স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের দাবি, বর্তমান নেতৃত্বে থাকলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের ঝুঁকি আরও বাড়বে।বিশ্লেষকদের মতে, কিয়ার স্টারমার সংকট এখন শুধু ব্যক্তিগত নেতৃত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পুরো লেবার পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে দলটির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

ওয়েস স্ট্রিটিংকে লেবার পার্টির তরুণ ও প্রভাবশালী নেতাদের একজন হিসেবে দেখা হয়। স্বাস্থ্যখাতে তাঁর বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং মিডিয়ায় সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিচিত মুখ। ফলে তিনি যদি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামেন, তাহলে তা স্টারমারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে। স্ট্রিটিংয়ের সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তিনি পদত্যাগ করলে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে।

এদিকে বিরোধী দলগুলোও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। কনজারভেটিভ পার্টি ইতিমধ্যে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, লেবার পার্টির বর্তমান নেতৃত্ব দেশের জন্য স্থিতিশীল বিকল্প দিতে ব্যর্থ হয়েছে।সব মিলিয়ে কিয়ার স্টারমার সংকট এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই এখন সবার নজরে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে নতুন সংকট, পদত্যাগ করতে পারেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Update Time : ১২:৩৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

কিয়ার স্টারমার সংকট আরও গভীর আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে যখন লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে, তখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, স্ট্রিটিং খুব শিগগিরই মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামতে পারেন।স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর থেকেই কিয়ার স্টারমার সংকট নিয়ে আলোচনা তীব্র হতে শুরু করে। দলটির একাধিক নেতা ও সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর মধ্যেই ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও বড় করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই স্ট্রিটিং পদত্যাগ করতে পারেন। যদিও তাঁর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, স্ট্রিটিং যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে সেটি কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হবে।

সম্প্রতি স্ট্রিটিং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হতে পারে।বর্তমানে লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এমপি যদি নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তুলতে চান, তাহলে তাঁকে কমপক্ষে ৮১ জন এমপির সমর্থন পেতে হবে। ওয়েস স্ট্রিটিং যদি সেই সমর্থন জোগাড় করতে পারেন, তাহলে তিনি সরাসরি কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন।

এদিকে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রতিযোগীদের তালিকায় উঠে এসেছে। দলীয় ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা যত বাড়ছে, ততই কিয়ার স্টারমার সংকট গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।আজ পার্লামেন্টে রাজা তৃতীয় চার্লস সরকারের নতুন পরিকল্পনা ও আইনপ্রণয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে নিজের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন স্টারমার। তবে লেবার পার্টির ভেতরের অনেক সংসদ সদস্য মনে করছেন, এই পরিকল্পনায় নতুনত্ব খুব কম রয়েছে।

দলের ৯০ জনের বেশি সংসদ সদস্য ইতিমধ্যে স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের দাবি, বর্তমান নেতৃত্বে থাকলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের ঝুঁকি আরও বাড়বে।বিশ্লেষকদের মতে, কিয়ার স্টারমার সংকট এখন শুধু ব্যক্তিগত নেতৃত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পুরো লেবার পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে দলটির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

ওয়েস স্ট্রিটিংকে লেবার পার্টির তরুণ ও প্রভাবশালী নেতাদের একজন হিসেবে দেখা হয়। স্বাস্থ্যখাতে তাঁর বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং মিডিয়ায় সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিচিত মুখ। ফলে তিনি যদি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামেন, তাহলে তা স্টারমারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে। স্ট্রিটিংয়ের সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তিনি পদত্যাগ করলে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে।

এদিকে বিরোধী দলগুলোও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। কনজারভেটিভ পার্টি ইতিমধ্যে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, লেবার পার্টির বর্তমান নেতৃত্ব দেশের জন্য স্থিতিশীল বিকল্প দিতে ব্যর্থ হয়েছে।সব মিলিয়ে কিয়ার স্টারমার সংকট এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই এখন সবার নজরে।