ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ঈদুল আজহায় বৃষ্টির শঙ্কা, সারাদেশে আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:১২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • ৫১৪

চিত্রঃ ঈদুল আজহার দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দে মেতে উঠেছে সারাদেশ। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতির মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তর দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদুল আজহায় বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি এবং মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনাও ঘটতে পারে। ফলে ঈদের ছুটিতে বাইরে বের হওয়া মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদী ও জলাশয়ের আশপাশে অবস্থানকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট, কোরবানি এবং পারিবারিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে মানুষের চলাচল বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। ফলে নিচু এলাকা এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ অঞ্চলে সাময়িক পানি জমার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে নগরাঞ্চলে স্বল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিপাত জনভোগান্তির কারণ হতে পারে।

 

তবে বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির মতে, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ফলে দিনের বেলায় গরমের অনুভূতি কিছুটা বাড়লেও রাতের আবহাওয়া তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালের এই সময়ে লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে ঈদের মতো বড় উৎসবের সময় বৃষ্টির পূর্বাভাস মানুষের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যেকোনো ভ্রমণ, কোরবানি বা সামাজিক আয়োজনের আগে সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

 

এদিকে ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও মানুষের ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকদের জন্যও আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে। সব মিলিয়ে ঈদুল আজহায় বৃষ্টির শঙ্কা দেশের উৎসবমুখর পরিবেশে কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করলে আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির মধ্যেও নিরাপদ ও আনন্দময়ভাবে ঈদ উদযাপন করা সম্ভব হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

ঈদুল আজহায় বৃষ্টির শঙ্কা, সারাদেশে আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা

Update Time : ০৫:১২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দে মেতে উঠেছে সারাদেশ। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতির মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তর দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদুল আজহায় বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি এবং মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনাও ঘটতে পারে। ফলে ঈদের ছুটিতে বাইরে বের হওয়া মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদী ও জলাশয়ের আশপাশে অবস্থানকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  তিন বিভাগে টানা ৩ দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

 

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট, কোরবানি এবং পারিবারিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে মানুষের চলাচল বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। ফলে নিচু এলাকা এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ অঞ্চলে সাময়িক পানি জমার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে নগরাঞ্চলে স্বল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিপাত জনভোগান্তির কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন  রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

 

তবে বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির মতে, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ফলে দিনের বেলায় গরমের অনুভূতি কিছুটা বাড়লেও রাতের আবহাওয়া তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালের এই সময়ে লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে ঈদের মতো বড় উৎসবের সময় বৃষ্টির পূর্বাভাস মানুষের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যেকোনো ভ্রমণ, কোরবানি বা সামাজিক আয়োজনের আগে সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  কোথায় বৃষ্টি হবে ও সমুদ্রবন্দরের সতর্ক সংকেত নিয়ে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

 

এদিকে ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও মানুষের ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকদের জন্যও আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে। সব মিলিয়ে ঈদুল আজহায় বৃষ্টির শঙ্কা দেশের উৎসবমুখর পরিবেশে কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করলে আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির মধ্যেও নিরাপদ ও আনন্দময়ভাবে ঈদ উদযাপন করা সম্ভব হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।