বিমানবন্দর চালু উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে অচল ও অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা আটটি বিমানবন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর। ইতোমধ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনও পেয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর জন্যও দ্রুত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জনচাহিদা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনায় রয়েছে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণ। এই রানওয়েতে আধুনিক যাত্রীবাহী এবং কার্গো বিমান সহজেই অবতরণ করতে পারবে। প্রকল্পের আওতায় চারতলা আধুনিক টার্মিনাল ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স এবং উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বগুড়া বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। কৃষিপণ্য পরিবহন, রপ্তানি কার্যক্রম এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই বিমানবন্দর। একই সঙ্গে পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিমানবন্দর দীর্ঘ সময় ধরে কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। বর্তমানে এর অবকাঠামো অনেকটাই জরাজীর্ণ। তবে আধুনিকায়নের মাধ্যমে এটিকে পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রথম ধাপে রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল নির্মাণ, কন্ট্রোল টাওয়ার স্থাপন এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা হবে। পরবর্তী ধাপে বিমানবন্দরটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও নয়, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, খানজাহান আলী এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দরও পুনরায় চালুর পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতা বিশ্লেষণের পর পর্যায়ক্রমে এসব বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দর চালু উদ্যোগ দেশের যোগাযোগ খাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে সড়ক ও রেল যোগাযোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়, সেখানে বিমান পরিবহন দ্রুত ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়া নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার, পর্যটক আগমন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যা স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না। দীর্ঘমেয়াদে বিমানবন্দরগুলোকে লাভজনক ও কার্যকর রাখতে যাত্রী চাহিদা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং পরিচালনাগত সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সরকারের এই বিমানবন্দর চালু পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল এবং অন্যান্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।






















