সুন্দরবনে জাহাজের হামলা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে। দস্যুদের গুলিবর্ষণ ও লুটপাটের শিকার হওয়ার পরও ভারতের উদ্দেশে আবার যাত্রা শুরু করেছে কার্গো জাহাজ এমভি আব্দুল হাকিম-১।
সোমবার (৮ জুন) ভোর ৫টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার আংটিহারা শুল্ক স্টেশন থেকে জাহাজটি ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়। জাহাজটির ইনচার্জ মাস্টার মো. নুর নবী জানান, ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা আর দেরি না করে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে মংলা বন্দর থেকে ভারতগামী পথে রওনা দেয় জাহাজটি। সন্ধ্যার দিকে সুন্দরবনের শিংয়েনালা এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রলারে করে আসা ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দস্যুদল জাহাজে উঠে পড়ে। এরপর তারা নিচতলায় থাকা কর্মীদের জিম্মি করে ফেলে এবং মাস্টার ব্রিজে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।
মাস্টার নুর নবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দ্রুত ব্রিজের সব গেট বন্ধ করে দিলে দস্যুরা ক্ষিপ্ত হয়ে দরজায় একের পর এক গুলি চালায়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে ব্রিজে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে দস্যুরা মাস্টার কেবিনের তালা ভেঙে নগদ ৫৯ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া জাহাজের অন্যান্য কর্মীদের কাছ থেকে সাতটি মোবাইল ফোন এবং প্রায় ৬ হাজার টাকা লুট করা হয়।

হামলার পুরো ঘটনা মাত্র ১৪ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘটে। পরে আশপাশের অন্য জাহাজগুলো কাছে চলে আসতে শুরু করলে দস্যুরা দ্রুত ট্রলারে উঠে সুন্দরবনের ভেতরে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটি আংটিহারা শুল্ক স্টেশনের সামনে নোঙর করা হয়।
পরদিন রোববার শুল্কসংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেদিন আর যাত্রা শুরু করা হয়নি। তবে ভারতীয় পারমিটের মেয়াদ সীমিত হওয়ায় সোমবার ভোরে আবার যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে জাহাজটি কলকাতা বন্দরে পৌঁছাবে।
ঘটনার পর এক কর্মী ভয় পেয়ে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও জানান জাহাজটির মাস্টার। যদিও হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। আংটিহারা নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি জানানো হলেও ভুক্তভোগীরা আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে আগ্রহ দেখাননি।
এদিকে কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দস্যুদের পরিচয় শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো হামলার সঙ্গে জড়িত চক্রকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
নৌ-খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুন্দরবনের নদীপথে এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ-ভারত নৌপথে পণ্য পরিবহন হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।



























