দেশের ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজি শায়রুল হাসান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদার দায়িত্ব পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলে এই নিয়োগকে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাদের যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত আবেদুর রহমান সিকদার বর্তমানে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার কারণে তাকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।অন্যদিকে কাজি শায়রুল হাসানকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের নীতিনির্ধারণ, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং পরিচালনা কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তার নেতৃত্বে ব্যাংকের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন চেয়ারম্যান ও এমডির নিয়োগ কার্যকর হবে তাদের দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে। উভয় কর্মকর্তাকে তিন বছরের জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, যা ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রজ্ঞাপনের পাশাপাশি একটি পৃথক চিঠিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী আবেদুর রহমান সিকদারের নিয়োগসংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেন, অন্যদিকে চেয়ারম্যান নীতিগত ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। ফলে এই দুই পদে নতুন নিয়োগ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, গ্রাহকসেবা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন নেতৃত্বের ওপরও বিভিন্ন মহলের প্রত্যাশা রয়েছে। ব্যাংকের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্ব ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের দায়িত্ব প্রদান ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হলো। আগামী তিন বছরে চেয়ারম্যান কাজি শায়রুল হাসান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের নেতৃত্বে ব্যাংকটি নতুন লক্ষ্য অর্জনে কতটা সফল হয়, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।





























