সিঙ্গার বাংলাদেশ মুনাফা আবারও বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ছে। বড় অঙ্কের লোকসান কাটিয়ে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) প্রায় ১৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক ইলেকট্রনিকস কোম্পানিটি। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান ছিল প্রায় ৩১ কোটি টাকা।
কোম্পানির সর্বশেষ অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যবসার গতি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে সিঙ্গারের বিক্রি হয়েছে ৮৩৭ কোটি টাকার পণ্য, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ কোটি টাকা বেশি। বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ৪৫ শতাংশেরও বেশি।
সিঙ্গারের ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম কারণ হলো সুদের ব্যয় কমে যাওয়া এবং ব্যাংকে রাখা অর্থ থেকে উল্লেখযোগ্য সুদ আয়। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শুধু এই খাত থেকেই কোম্পানিটি প্রায় ২৪ কোটি টাকা আয় করেছে। ফলে পরিচালন ব্যয়ের চাপ কমে মুনাফায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে বড় লোকসানের কারণে অর্ধবার্ষিক হিসাবে এখনো পুরোপুরি লাভে ফিরতে পারেনি সিঙ্গার বাংলাদেশ। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় লোকসানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মুনাফার ইতিবাচক খবরে শেয়ারবাজারেও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতেই সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ারের দাম ১ টাকার বেশি বেড়ে ৭৮ টাকায় পৌঁছায়। একই সময়ে কোম্পানিটির এক লাখের বেশি শেয়ার লেনদেন হয়, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
১৯৮৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিঙ্গার বাংলাদেশ বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানি। যদিও এখনো বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে ঋণ সুবিধা পান না, তবুও দ্বিতীয় প্রান্তিকের ইতিবাচক ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক পুনরুদ্ধারের নতুন আশা তৈরি করেছে।
























