ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরান হামলা স্থগিত: ইন্টারসেপ্টর সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সিদ্ধান্ত Logo সূর্যগ্রহণ দেখতে দুই বছর আগেই হোটেল বুকিং! কেন এত আগ্রহ? Logo এসইএল: আবাসন খাতে আস্থা ও মানের দীর্ঘ যাত্রা Logo বিএটিবিসির সিগারেট বিক্রি বেড়েছে, তিন মাসে ১৪,৫৬৩ কোটি টাকা Logo আজকের বিনিময় হার: বেড়েছে ডলারের দাম, কমেছে ইউরো ও পাউন্ড Logo সিঙ্গার বাংলাদেশে দারুণ প্রত্যাবর্তন, লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরল Logo ১৯ বছরেই বাবা হচ্ছেন এনদ্রিক, ছেলের নাম নিয়ে চমক Logo রঙের বাজারে দারুণ উত্থান: ৬৫০০ কোটি টাকার শিল্পে নতুন সম্ভাবনা Logo ইত্যাদি লক্ষ্মীপুর: দারুণ আয়োজনে ফিরছে হানিফ সংকেতের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান Logo মেসির পারিবারিক ইতিহাসে বড় চমক, পূর্বপুরুষদের খোঁজ মিলল ব্রাজিলে

রঙের বাজারে দারুণ উত্থান: ৬৫০০ কোটি টাকার শিল্পে নতুন সম্ভাবনা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৪

দেশের রঙের বাজারে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব রঙের ব্যবহার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

দেশের রঙের বাজার এখন শুধু দেয়াল রাঙানোর ব্যবসা নয়, বরং দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিণত হয়েছে। একসময় ঘর রঙ করার কাজ সীমাবদ্ধ ছিল উৎসব কিংবা নতুন বাড়ি তৈরির মধ্যে। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন ঘরের সৌন্দর্য, আধুনিক জীবনযাপন এবং নান্দনিকতার অংশ হিসেবে মানসম্মত রঙ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে। এই পরিবর্তনের প্রভাবেই দেশের রঙের বাজারের আকার ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে, যা কয়েক বছর আগেও ছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা।

আবাসন খাতের সম্প্রসারণ এই শিল্পের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। নতুন ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো ভবনের সংস্কারেও রঙের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও বাজারে চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী বছরগুলোতেও এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক বদলে গেছে। শুধু রঙের টিন কিনে দেয়াল রাঙানো নয়, এখন তারা দীর্ঘস্থায়ী, সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং ফাঙ্গাস প্রতিরোধী আধুনিক রঙকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারণে বাজারে এসেছে কম্পিউটারাইজড কালার টিন্টিং, হাজারো শেড নির্বাচন, টেক্সচার ফিনিশ, মেটালিক ফিনিশ এবং বিশেষ কালার কনসালটেশন সেবার মতো নতুন সুবিধা।

পরিবেশ সচেতনতাও এই শিল্পে বড় পরিবর্তন এনেছে। দেশের বড় শহরগুলোতে এখন ওয়াটার-বেজড, সিসামুক্ত এবং লো-ভিওসি রঙের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এসব রঙ শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমায়। ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নতুন প্রযুক্তির পণ্য বাজারে আনছে।

তবে শিল্পটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রঙ তৈরির প্রয়োজনীয় অধিকাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ডলারের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট, শিপিং ব্যয় এবং উচ্চ শুল্ক উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে প্রস্তুতকারকদের মুনাফা কমে গেলেও বাজার স্থিতিশীল রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেরাই বাড়তি চাপ বহন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নীতিসহায়তা, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা এবং স্থানীয় উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হলে দেশের রঙের বাজার আগামী কয়েক বছরে আরও বড় শিল্পে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। মাথাপিছু রঙ ব্যবহারের হার এখনও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কম হওয়ায় এই খাতে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও অনেক বেশি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান হামলা স্থগিত: ইন্টারসেপ্টর সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সিদ্ধান্ত

রঙের বাজারে দারুণ উত্থান: ৬৫০০ কোটি টাকার শিল্পে নতুন সম্ভাবনা

Update Time : ১২:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

দেশের রঙের বাজার এখন শুধু দেয়াল রাঙানোর ব্যবসা নয়, বরং দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিণত হয়েছে। একসময় ঘর রঙ করার কাজ সীমাবদ্ধ ছিল উৎসব কিংবা নতুন বাড়ি তৈরির মধ্যে। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন ঘরের সৌন্দর্য, আধুনিক জীবনযাপন এবং নান্দনিকতার অংশ হিসেবে মানসম্মত রঙ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে। এই পরিবর্তনের প্রভাবেই দেশের রঙের বাজারের আকার ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে, যা কয়েক বছর আগেও ছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা।

আবাসন খাতের সম্প্রসারণ এই শিল্পের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। নতুন ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো ভবনের সংস্কারেও রঙের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও বাজারে চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী বছরগুলোতেও এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক বদলে গেছে। শুধু রঙের টিন কিনে দেয়াল রাঙানো নয়, এখন তারা দীর্ঘস্থায়ী, সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং ফাঙ্গাস প্রতিরোধী আধুনিক রঙকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারণে বাজারে এসেছে কম্পিউটারাইজড কালার টিন্টিং, হাজারো শেড নির্বাচন, টেক্সচার ফিনিশ, মেটালিক ফিনিশ এবং বিশেষ কালার কনসালটেশন সেবার মতো নতুন সুবিধা।

পরিবেশ সচেতনতাও এই শিল্পে বড় পরিবর্তন এনেছে। দেশের বড় শহরগুলোতে এখন ওয়াটার-বেজড, সিসামুক্ত এবং লো-ভিওসি রঙের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এসব রঙ শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমায়। ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নতুন প্রযুক্তির পণ্য বাজারে আনছে।

তবে শিল্পটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রঙ তৈরির প্রয়োজনীয় অধিকাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ডলারের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট, শিপিং ব্যয় এবং উচ্চ শুল্ক উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে প্রস্তুতকারকদের মুনাফা কমে গেলেও বাজার স্থিতিশীল রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেরাই বাড়তি চাপ বহন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নীতিসহায়তা, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা এবং স্থানীয় উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হলে দেশের রঙের বাজার আগামী কয়েক বছরে আরও বড় শিল্পে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। মাথাপিছু রঙ ব্যবহারের হার এখনও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কম হওয়ায় এই খাতে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও অনেক বেশি।