ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়াল দেশে Logo নাঈম হাসানকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা: তদন্ত দাবিতে এবি পার্টির উদ্বেগ Logo রোনালদোর জবাবেই থামল বিতর্ক, বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসী Logo প্রিমিয়ার লিগে নতুন নিয়ম: চুল টানলেই আর লাল কার্ড নয় Logo সৈয়দ আব্দুল হাদীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা, দেশপ্রেমের আহ্বানে আবেগঘন সন্ধ্যা Logo মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ, নেইমার ছাড়াই চমক Logo বিশ্বকাপে ভিএআরের নতুন ইতিহাস, ‘ভুল পরিচয়’ শনাক্তে নজির Logo ভিনিসিয়ুসের হুঁশিয়ারি: বিশ্বকাপ জিততেই এসেছে ব্রাজিল Logo পার্ট-টাইম চাকরি: পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের ৫ জনপ্রিয় উপায় Logo টাকা সঞ্চয়ের টিপস: পকেট খালি হলেও গড়ুন সঞ্চয়ের অভ্যাস

বন্যপ্রাণী পাচারকারী গ্রেপ্তার: কক্সবাজারে উদ্ধার ক্যাপড ল্যাঙ্গুর ও ১২ কচ্ছপ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:২৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৫১৬

কক্সবাজারে অভিযানে উদ্ধার হওয়া ক্যাপড ল্যাঙ্গুর ও কচ্ছপ। ছবি: সংগৃহীত

বন্যপ্রাণী পাচারকারী গ্রেপ্তার অভিযানে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় একটি ক্যাপড ল্যাঙ্গুর ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় মো. হাদিস রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে একটি বাড়িতে রাখা হয়েছিল।

বন্যপ্রাণী পাচার বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যপ্রাণী শিকার, সংগ্রহ ও অবৈধ বেচাকেনার ঘটনা সামনে আসে। সর্বশেষ এই ঘটনায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ভাঙারমুখ বাজার এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে বন বিভাগের সদস্যরা একটি ক্যাপড ল্যাঙ্গুর এবং ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করেন।

চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে একটি বাড়িতে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী রাখা হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে মো. হাদিস রহমানকে আটক করা হয়।

বন বিভাগের দাবি, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি চকরিয়া এলাকায় এসে বিভিন্ন উৎস থেকে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করছিলেন। এসব প্রাণী পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বা সীমান্তপথে পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া ক্যাপড ল্যাঙ্গুর বাংলাদেশের বিরল ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর মধ্যে অন্যতম। বনাঞ্চল ধ্বংস, অবৈধ শিকার এবং পাচারের কারণে এ প্রজাতির সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। একইভাবে কচ্ছপও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এ ধরনের প্রাণী উদ্ধার এবং পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বন বিভাগের তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্যপ্রাণী পাচারকারী গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে কেউ বন্যপ্রাণী ক্রয় বা বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত না হন।

বন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত বা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তবেই দেশের মূল্যবান বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়াল দেশে

বন্যপ্রাণী পাচারকারী গ্রেপ্তার: কক্সবাজারে উদ্ধার ক্যাপড ল্যাঙ্গুর ও ১২ কচ্ছপ

Update Time : ১২:২৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

বন্যপ্রাণী পাচারকারী গ্রেপ্তার অভিযানে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় একটি ক্যাপড ল্যাঙ্গুর ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় মো. হাদিস রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে একটি বাড়িতে রাখা হয়েছিল।

বন্যপ্রাণী পাচার বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যপ্রাণী শিকার, সংগ্রহ ও অবৈধ বেচাকেনার ঘটনা সামনে আসে। সর্বশেষ এই ঘটনায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ভাঙারমুখ বাজার এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে বন বিভাগের সদস্যরা একটি ক্যাপড ল্যাঙ্গুর এবং ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন  রাজশাহীতে হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ

চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে একটি বাড়িতে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী রাখা হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে মো. হাদিস রহমানকে আটক করা হয়।

বন বিভাগের দাবি, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি চকরিয়া এলাকায় এসে বিভিন্ন উৎস থেকে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করছিলেন। এসব প্রাণী পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বা সীমান্তপথে পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  রাশিয়ার ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তাব দিল রোসাটম, বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনা

উদ্ধার হওয়া ক্যাপড ল্যাঙ্গুর বাংলাদেশের বিরল ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর মধ্যে অন্যতম। বনাঞ্চল ধ্বংস, অবৈধ শিকার এবং পাচারের কারণে এ প্রজাতির সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। একইভাবে কচ্ছপও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এ ধরনের প্রাণী উদ্ধার এবং পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বন বিভাগের তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্যপ্রাণী পাচারকারী গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে কেউ বন্যপ্রাণী ক্রয় বা বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত না হন।

আরও পড়ুন  সুন্দরবনে শিকারি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার বনকর্মীরা

বন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত বা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তবেই দেশের মূল্যবান বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।