বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি আফরান নিশো। ছোটপর্দায় দীর্ঘদিনের সফল ক্যারিয়ারের পর বড়পর্দাতেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। এবার আফরান নিশোর নতুন তিন সিনেমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ-আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট অভিনেতাকে ঘিরে আরও বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় আফরান নিশোর। প্রথম সিনেমাতেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান তিনি। এরপর ধারাবাহিকভাবে ‘দাগি’ ও ‘দম’ সিনেমায় অভিনয় করে বড়পর্দার দর্শকদের কাছে নিজেকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই তিনটি সিনেমার পরিচালক ভিন্ন হলেও প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিল আলফা আই এবং এসভিএফ-আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই নিশোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের ধারণা।সম্প্রতি এসভিএফ-আলফা আই এন্টারটেইনমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল জানিয়েছেন, আফরান নিশোকে নিয়ে নতুন তিনটি সিনেমার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আরও একটি সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়েও আলোচনা চলছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে বড়পর্দায় নিশোর উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোতে আফরান নিশোকে মূলত সংগ্রামী, বঞ্চিত, অবহেলিত কিংবা প্রতারিত মানুষের চরিত্রে দেখা গেছে। তার অভিনয়ের গভীরতা এবং আবেগঘন উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তবে এবার সেই পরিচিত ধারা থেকে বেরিয়ে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে হাজির হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, নতুন সিনেমাগুলোতে নিশোকে আরও শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী এবং নায়কোচিত চরিত্রে দেখা যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের একটি বড় অংশ তাকে বৃহৎ ক্যানভাসের বাণিজ্যিক ও অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। নতুন প্রকল্পগুলো সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও নতুন সিনেমাগুলোর নাম, কাহিনি কিংবা পরিচালকদের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও চলচ্চিত্র অঙ্গনে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নির্মাতা ভিকি জাহেদের বহুল আলোচিত ‘পুলসিরাত’ প্রকল্পকে ঘিরে আলোচনা সবচেয়ে বেশি। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ‘পুলসিরাত’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যেতে পারে আফরান নিশোকে। সেই সঙ্গে তার বিপরীতে অভিনয় করতে পারেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে ভক্তদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য।
এদিকে এসভিএফ-আলফা আইয়ের সঙ্গে দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফী এবং জাহিদ প্রীতমেরও একাধিক নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। নতুন এই সমন্বয় বাংলা চলচ্চিত্রে বড় ধরনের চমক নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত সিনেমা ‘তাণ্ডব’-এর একটি দৃশ্য শেয়ার করেন নির্মাতা রায়হান রাফী। একই সঙ্গে তিনি তার চলচ্চিত্র মহাবিশ্বে আফরান নিশোকে স্বাগত জানান। এরপর থেকেই নতুন জল্পনা-কল্পনার জন্ম হয়েছে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে।
অনেকের ধারণা, ‘তাণ্ডব’ ধারাবাহিকের পরবর্তী কিস্তিতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো চরিত্রে দেখা যেতে পারে নিশোকে। যদিও এ বিষয়ে নির্মাতা কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবুও সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, আফরান নিশো বর্তমানে এমন এক অবস্থানে রয়েছেন যেখানে তাকে ঘিরে বড় বাজেটের ও বৈচিত্র্যময় গল্পের সিনেমা নির্মাণের সুযোগ রয়েছে। তার জনপ্রিয়তা, অভিনয় দক্ষতা এবং দর্শক গ্রহণযোগ্যতা প্রযোজকদের নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে।
বিশেষ করে তরুণ দর্শকদের মধ্যে নিশোর জনপ্রিয়তা তাকে চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত করেছে। ফলে নতুন সিনেমাগুলোর মাধ্যমে তিনি কেবল নিজের ক্যারিয়ারেই নয়, দেশের চলচ্চিত্র শিল্পেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন সিনেমাগুলোর শুটিং এবং মুক্তির সময়সূচি নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মধ্যেই এক বা একাধিক সিনেমার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। একই সঙ্গে শুটিং কার্যক্রমও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে আফরান নিশোর নতুন তিন সিনেমা এখন দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। নতুন গল্প, ভিন্ন চরিত্র এবং বড় পরিসরের নির্মাণে তাকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন কোটি ভক্ত। এখন দেখার বিষয়, আসন্ন প্রকল্পগুলো কতটা নতুনত্ব নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হয় এবং বড়পর্দায় নিশোর যাত্রাকে কতটা সমৃদ্ধ করে।




























