মিশা সওদাগরের বাসায় নব্বই দশকের জনপ্রিয় তিন নায়ককে ঘিরে জমেছে নস্টালজিয়ায় ভরা এক আড্ডা। ওমর সানী, আমিন খান ও অমিত হাসানের সঙ্গে মিশা সওদাগরের এই মিলনমুহূর্তের কথা সামনে আসতেই ঢালিউডে ফিরে এসেছে পুরোনো দিনের স্মৃতি। নব্বই দশকে যাঁদের সিনেমা ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হতো উন্মাদনা, তাঁদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এমন ছবি এখন ভক্তদেরও আবেগী করে তুলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ওমর সানীর একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। বর্তমানে প্রবাসে থাকা অভিনেতা অমিত হাসান দেশে ফেরার পর তাঁকে ঘিরে এই ঘরোয়া আড্ডার আয়োজন হয়। মিশা সওদাগর বন্ধুদের নিজের বাসায় আমন্ত্রণ জানান। সেখানে ওমর সানী ও আমিন খানও যোগ দেন। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে তারকারা ফিরে যান তাঁদের ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের নানা স্মৃতিতে।
নব্বই দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রে ওমর সানী, অমিত হাসান ও আমিন খান ছিলেন দর্শকদের পরিচিত ও জনপ্রিয় নায়ক। তাঁদের সিনেমা ঘিরে প্রেক্ষাগৃহে তৈরি হতো আলাদা উন্মাদনা। সময়ের সঙ্গে পেশাগত ব্যস্ততা, ব্যক্তিগত জীবন এবং প্রবাসে থাকার কারণে নিয়মিত দেখা হওয়ার সুযোগ কমেছে। তবু দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে সেই দূরত্ব প্রভাব ফেলেনি। সুযোগ পেলেই পুরোনো সহকর্মীরা একত্র হন এবং স্মৃতির পাতায় ফিরে যান।
ওমর সানীর পোস্টে এই পুনর্মিলনের নানা মজার বিষয়ও উঠে এসেছে। তিনি জানান, অমিত হাসান বর্তমানে প্রবাসে থাকলেও দেশে ফিরলে বন্ধুরা তাঁকে ঘিরে একসঙ্গে সময় কাটান। অন্যদিকে মিশা সওদাগরের ব্যস্ত জীবন নিয়েও রসিকতা করেছেন ওমর সানী। তাঁর ভাষ্য, মিশার সময়ের বড় একটি অংশ কেটে যায় বিমানে যাতায়াত করতে করতে। তারকাদের এই মজার কথোপকথনই আড্ডাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
পর্দার বাইরে তারকাদের এমন আন্তরিক সম্পর্কই নব্বই দশকের চলচ্চিত্রের আরেকটি সুন্দর দিক তুলে ধরে। সেই সময়ের জনপ্রিয় শিল্পীরা শুধু একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেননি, ব্যক্তিগত জীবনেও গড়ে তুলেছিলেন বন্ধুত্বের শক্ত বন্ধন। সময় বদলেছে, চলচ্চিত্রের পরিবেশও অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু পুরোনো সহকর্মীদের মধ্যে সেই আন্তরিকতা এখনো টিকে আছে—মিশা সওদাগরের বাসার এই আড্ডা যেন তারই একটি উদাহরণ।
সব মিলিয়ে অমিত হাসানের দেশে ফেরা এবং মিশা সওদাগরের আতিথেয়তায় আয়োজিত এই মিলনমেলা ভক্তদের মনে নব্বই দশকের ঢালিউডের স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে। ওমর সানীর পোস্টে প্রকাশ পাওয়া ছবির মুহূর্ত ও বন্ধুত্বের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তৈরি করেছে আগ্রহ। প্রিয় তারকাদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত পুনর্মিলন দর্শকদের কাছে শুধু একটি আড্ডার ছবি নয়, বরং তাঁদের প্রিয় সিনেমার সময়ের সঙ্গে আবেগঘন এক ফিরে দেখা।























