ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৮ বছর পর ফিরেই বাজিমাত! ব্রাজিলকে টপকে গ্রুপসেরা স্কটল্যান্ড

ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা স্কটল্যান্ড

২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে দুর্দান্ত সূচনা করেছে স্কটল্যান্ড। হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুধু তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি তারা, একই সঙ্গে ব্রাজিল ও মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থানও দখল করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে ফিরে এমন পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত স্কটিশ সমর্থকরা।

রোববার (১৪ জুন) ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জন ম্যাকগিনের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে স্কটল্যান্ড। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে তার নেওয়া শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।

একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করায় বাড়তি সুবিধা পায় স্কটল্যান্ড। তিন পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন গ্রুপ ‘সি’-এর একক শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ব্রাজিল ও মরক্কোর সংগ্রহ এক পয়েন্ট করে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্কটল্যান্ডের জন্য এই জয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলটি ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে জয় পেল। প্রায় ৩৬ বছর ধরে চলা জয়হীনতার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় স্কটল্যান্ডকে। ১৭তম মিনিটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন অধিনায়ক স্কট ম্যাকটমিনে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো শট ক্রসবারের ওপরের অংশ ছুঁয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।

তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্কটিশদের। ২৮তম মিনিটে চে অ্যাডামসের একটি প্রচেষ্টা হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড প্রতিহত করলেও বলটি বিপজ্জনক জায়গায় চলে আসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জন ম্যাকগিন। সুযোগ বুঝে নেওয়া তার শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে প্রবেশ করে।

গোল হজম করার পর হাইতি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। প্রথমার্ধে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে তারা বেশ কয়েকবার স্কটিশ রক্ষণকে চাপে ফেলে। তবে শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি ক্যারিবিয়ান দেশটি।

ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে রুবেন প্রভিডেন্সের দারুণ এক ক্রস থেকে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন উইলসন ইসিডর। কিন্তু সঠিক সময়ে বলের নাগাল না পাওয়ায় সুযোগটি নষ্ট হয়। স্কটল্যান্ডের জন্য সেটি ছিল বড় ধরনের স্বস্তির মুহূর্ত।

এরপর ৮৪তম মিনিটে হাইতির আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়। ফ্রান্টজডি পিয়েরোর হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে গেলে হতাশ হতে হয় হাইতির খেলোয়াড় ও সমর্থকদের। শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে স্কটল্যান্ড।

বিশ্বকাপে এবার মাত্র দ্বিতীয়বার অংশ নিচ্ছে হাইতি। ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেছিল তারা। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেও এখন পর্যন্ত নিজেদের প্রথম পয়েন্টের দেখা পায়নি দেশটি।

এদিকে প্রথম ম্যাচের জয় স্কটল্যান্ডকে দিয়েছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচে ২০ জুন জিলেট স্টেডিয়ামে মরক্কোর মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে স্কটিশরা।

একই দিনে ফিলাডেলফিয়ায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে হাইতি। তাদের প্রতিপক্ষ হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করা ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটি হয়ে উঠতে পারে গ্রুপে টিকে থাকার লড়াইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৮ বছর পর ফিরেই বাজিমাত! ব্রাজিলকে টপকে গ্রুপসেরা স্কটল্যান্ড

Update Time : ০২:৫১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে দুর্দান্ত সূচনা করেছে স্কটল্যান্ড। হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুধু তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি তারা, একই সঙ্গে ব্রাজিল ও মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থানও দখল করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে ফিরে এমন পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত স্কটিশ সমর্থকরা।

রোববার (১৪ জুন) ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জন ম্যাকগিনের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে স্কটল্যান্ড। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে তার নেওয়া শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।

একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করায় বাড়তি সুবিধা পায় স্কটল্যান্ড। তিন পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন গ্রুপ ‘সি’-এর একক শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ব্রাজিল ও মরক্কোর সংগ্রহ এক পয়েন্ট করে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ ম্যাচ: আলোচনায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলো

বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্কটল্যান্ডের জন্য এই জয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলটি ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে জয় পেল। প্রায় ৩৬ বছর ধরে চলা জয়হীনতার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় স্কটল্যান্ডকে। ১৭তম মিনিটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন অধিনায়ক স্কট ম্যাকটমিনে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো শট ক্রসবারের ওপরের অংশ ছুঁয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।

তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্কটিশদের। ২৮তম মিনিটে চে অ্যাডামসের একটি প্রচেষ্টা হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড প্রতিহত করলেও বলটি বিপজ্জনক জায়গায় চলে আসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জন ম্যাকগিন। সুযোগ বুঝে নেওয়া তার শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে প্রবেশ করে।

আরও পড়ুন  জ্যাকবস ঝড়ে বাংলাদেশ হার: সিরিজ জিততে পারল না টাইগাররা

গোল হজম করার পর হাইতি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। প্রথমার্ধে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে তারা বেশ কয়েকবার স্কটিশ রক্ষণকে চাপে ফেলে। তবে শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি ক্যারিবিয়ান দেশটি।

ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে রুবেন প্রভিডেন্সের দারুণ এক ক্রস থেকে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন উইলসন ইসিডর। কিন্তু সঠিক সময়ে বলের নাগাল না পাওয়ায় সুযোগটি নষ্ট হয়। স্কটল্যান্ডের জন্য সেটি ছিল বড় ধরনের স্বস্তির মুহূর্ত।

এরপর ৮৪তম মিনিটে হাইতির আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়। ফ্রান্টজডি পিয়েরোর হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে গেলে হতাশ হতে হয় হাইতির খেলোয়াড় ও সমর্থকদের। শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে স্কটল্যান্ড।

আরও পড়ুন  ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ সময়সূচী: বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী কবে, কখন খেলা?

বিশ্বকাপে এবার মাত্র দ্বিতীয়বার অংশ নিচ্ছে হাইতি। ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেছিল তারা। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেও এখন পর্যন্ত নিজেদের প্রথম পয়েন্টের দেখা পায়নি দেশটি।

এদিকে প্রথম ম্যাচের জয় স্কটল্যান্ডকে দিয়েছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচে ২০ জুন জিলেট স্টেডিয়ামে মরক্কোর মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে স্কটিশরা।

একই দিনে ফিলাডেলফিয়ায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে হাইতি। তাদের প্রতিপক্ষ হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করা ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটি হয়ে উঠতে পারে গ্রুপে টিকে থাকার লড়াইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।